ইজিবাইকে দিনরাত কাটানো – ইজিবাইকে বাবার সঙ্গে ‘দিনরাত কাটানো’ জান্নাতুল মাওয়াকে (৬) কাছে ডেকে স্নেহের পরশ দিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল। আদর করে শুনলেন তার কথা। কথা বললেন মাওয়ার বাবা ইজিবাইকচালক মুরাদুর রহমান মুন্নার সঙ্গে। মাওয়ার শৈশব ফিরিয়ে দেয়ার ভাবনার কথাও জানালেন যশোরের জেলা প্রশাসক।

যশোর শহরের নাজির শংকরপুর চাতাল মোড় এলাকার একটি ইজিবাইক চার্জের গোডাউনে থাকেন ইজিবাইকচালক মুন্না। সারাদিন তিনি ইজিবাইক চালান, আর রাতে ওই গোডাউনে থাকেন। মুন্নার একমাত্র সন্তান জান্নাতুল মাওয়া। মাওয়ার মা স্বামী-সন্তান ছেড়ে চলে গেছে। তাই তাকে পাশে বসিয়ে সারাদিন ইজিবাইক চালান মুন্না। কারণ মেয়েটিকে রেখে যাওয়ার কোনো স্থান তার নেই। ফুটফুটে মায়াবী শিশুটি তাই সারাদিন বাবার পাশেই থাকে।

‘ইজিবাইকে ঘুরে হোটেলে খাওয়া-দাওয়া, আর রাতে গোডাউনে ঘুম’ এই চক্রে বাধা পড়ে গেছে মাওয়ার জীবন। এ-সংক্রান্ত ছবি ও রিপোর্ট ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় মঙ্গলবার তাদের ডেকে নেন যশোরের জেলা প্রশাসক। সর্দি-জ্বর হওয়ায় মাওয়াকে হাসপাতালে পাঠিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধও কিনে দেন তিনি। পরে তাকে আদর করে উপহার দেন। এ সময় তিনি মুন্নার সঙ্গেও কথা বলেন।

মুন্না জেলা প্রশাসককে জানান, স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছে। মেয়েটি বড় হচ্ছে, তাকে স্কুলে ভর্তি করাতে হবে। এ জন্য তার একটি মাথাগোঁজার ঠাঁই দরকার। জেলা প্রশাসক তাকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন। মেয়েটি যাতে তার স্বাভাবিক শৈশব জীবন ফিরে পায় সেটি নিশ্চিত করার ব্যাপারেও আশ্বস্ত করেন।

মুন্না বলেন, ‘ডিসি স্যার ডেকে নিয়ে আমার ও মাওয়ার কষ্টের কথা শুনেছেন। তিনি অনেক স্নেহ-ভালোবাসা দেখিয়েছেন। সহযোগিতা পেলে মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করতে চাই।’

বাংলাদেশে এসে আবর্জনা দেখে পরিষ্কারে নামলেন দুই পর্যটক: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার হামহাম জলপ্রপাতে বেড়াতে এসে দুই বিদেশি পর্যটক পরিষ্কার করলেন বাংলাদেশি পর্যটকদের ফেলে যাওয়া আবর্জনা। মঙ্গলবার দুপরে জলপ্রপাতে বেড়াতে এসে এসব আবর্জনা দেখে পরিষ্কার অভিযানে নামেন নেদারল্যান্ড থেকে ঘুরতে আসা দুই বিদেশি পর্যটক লুই ও ডিডারিক। তাদের সঙ্গে থাকা ট্যুর গাইডের সূত্রে জানা যায়, বেড়াতে এসে হামহাম এলাকায় ফেলে রাখা বিভিন্ন পলিথিন, চিপসের প্যাকেট ও প্লাস্টিকের বোতল দেখে হতাশা ব্যক্ত করেন এই দুই বিদেশি পর্যটক।

পরবর্তীতে নিজেদের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেন তারা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সময় ধরে হামহামের পরিচ্ছনতার পাশাপাশি প্লাস্টিকের বিভিন্ন বর্জ্য আগুন দিয়ে পুড়িয়ে নষ্ট করেন ভিনদেশি দুই পর্যটক। তাদের সঙ্গে থাকা ইকো ট্যুর গাইড ও ভ্রমণবিষয়ক লেখক শ্যামল দেববর্মা বলেন, আমরা সর্বত্র কোনো না কোনোভাবে পরিবেশ দূষণ করছি। অথচ আমাদের একটু সচেতনতায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হতে পারে, এটি আমরা মানছি না। এখানে যারা বেড়াতে আসেন তারা বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা ফেলে যান। পরিবেশের কথা মাথায় রেখে ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেললে এমন হতো না। অথচ আজ দুই ভিনদেশি পর্যটক এসব আবর্জনা দেখে নিজেরাই পরিষ্কার করেন। এটি আমাদের জন্য অনুকরণীয়।

মৌলভীবাজার জেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নূরুল মোহাইমিন মিল্টন জাগো নিউজকে বলেন, আমরা যে কত অসচেতন এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন এই ঘটনায় আবারও তা প্রমাণিত হলো। বিদেশিরা আমাদের সৃষ্ট আবর্জনা পরিষ্কার করছেন বিষয়টি আমাদের জন্য লজ্জাজনক। আমাদের উচিত পরিবেশকে গুরুত্ব দেয়া এবং পরিবেশের যত্ন নেয়া। তিনি আরও বলেন, শুধু আবর্জনার ক্ষেত্রে নয়, অন্য সবকিছুতেই আমাদের কমনসেন্সের অভাব। বিদেশিরা আমাদের সংরক্ষিত বনে এসে নীরবে উপভোগ করেন, আর আমরা লাউড স্পিকার নিয়ে মাইক বাজিয়ে বনের ভেতর ঘুরি। বন্যপ্রাণী দেখলে ঢিল ছুড়ি। এসব বিষয়ে আমাদের সচেতন হওয়া দরকার।

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •