সালটা ১৯৯১। মাত্র ৮ বছর ৭ মাস বয়সে মাধ্যমিকে বসে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল পুরুলিয়ার আদ্রার বাসিন্দা মৌসুমি চক্রবর্তী। ২৮ বছর হল সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি। নিয়মিত স্কুলে গিয়ে ক্লাস করা তো দূরের কথা, কোনও দিনও স্কুলের মুখও দেখেনি আমতার খোসালপুরের কাষ্ঠসাঙ্গরার বাসিন্দা সইফা খাতুন। আর সেই মেয়ে এবার বসেছে মাধ্যমিকে। আর তাও মাত্র ১২ বছর বয়সে।

সইফার যখন ৬ বছর বয়স তখন প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করতে স্থানীয় স্কুলে নিয়ে গিয়েছিলেন বাবা শেখ মহম্মদ আইনুল। তখনই সে জানায়, উঁচু ক্লাসের অনেক বই তার মুখস্থ, তাই সে নীচু ক্লাসে ভর্তি হতে নারাজ। কিন্তু তখন তার বয়স কম থাকায়, কোনও স্কুলই তাকে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি নেয়নি। এরপর থেকেই সে বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা শুরু করে। সেইসঙ্গে কয়েক বছরের মধ্যেই মাধ্যমিক স্তরের অঙ্ক, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, বিজ্ঞানের মতো সমস্ত বিষয়ই রপ্ত করে ফেলে।

কিন্তু এই বয়সে, তথাকথিতভাবে স্কুলে না পড়ে বহিরাগত পরীক্ষার্থী হিসেবেও মাধ্যমিকে বসাটা বাধা হয়ে দাঁড়ায় তার কাছে। পর্ষদের নিয়ম অনুযায়ী ২০০৪ সালের ১০ অক্টোবরের আগে যাদের জন্ম, তারাই ২০১৯–এর মাধ্যমিকে বহিরাগত হিসেবে পরীক্ষায় বসতে পারবে। কিন্তু সইফার জন্ম ২০০৬–এর ২৫ সেপ্টেম্বর। তবে শেষ পর্যন্ত বাবা আইনুলের আবেদনের ভিত্তিতে সইফাকে মাধ্যমিকে বসার জন্য পর্ষদ থেকে বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়। সালকিয়া অ্যাংলো সংস্কৃত স্কুল থেকে বহিরাগত পরীক্ষার্থী হিসেবে মাধ্যমিকে বসেছে ওই ‘বিস্ময় বালিকা’। সেখানে টেস্ট পরীক্ষাতেও সে ভালই ফল করে। হাওড়া শহরের পদ্মপুকুর রামকৃষ্ণ বিদ্যামন্দির স্কুলে সিট পড়েছে তার।

কোনও দিন স্কুলের মুখ না–দেখা সইফা কী করে মাধ্যমিক পরীক্ষার চাপ সামলাবে তা নিয়ে কৌতূহল ছিল অনেকেরই। মঙ্গলবার পরীক্ষা শেষে তার বাবা বলেন, ‘‌‌এদিন পরীক্ষা চলাকালীন আমার মেয়ে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তা সত্ত্বেও সে ভালই পরীক্ষা দিয়েছে। সম্প্রতি সে ১৫ দিন জ্বরে ভুগেছে। তার মধ্যে আমতার কাষ্ঠসঙ্গরা থেকে দু’‌বার বাস পাল্টে প্রায় ৪ ঘণ্টা যাতায়াত করে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসতে হচ্ছে তাকে। সকাল ৭টায় বাড়ি থেকে বের হতে হচ্ছে। অদম্য মনের জোরকে কাজে লাগিয়েই আমার মেয়ে মাধ্যমিকে ভাল ফল করবে বলে আশা করছি।’
সুত্রঃ নিউজ পদ্মা

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •