এই পৃথিবীতে ঐ সকল মানুষই সুভাগ্যবান যাদের জন্য আসমানে দোয়া করা হয়। অর্থাৎ ফেরেশতারা দোয়া করেন। আর ফেরেশতারা হচ্ছে নিষ্পাপ, যারা সব সময় আল্লাহর ইবাদাতে মশগুল থাকে। আল্লাহ তাদেরকে বিশেষ ভাবে তৈরি করেছেন এবং বিশেষ কিছু ক্ষমতার অধিকারী করেও তাঁদেরকে বানিয়েছেন। তাঁরা হলেন-
ওযূ অবস্থায় ঘুমানো ব্যক্তিঃ রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় (ওজূ অবস্থায়) ঘুমায় তার সাথে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকেন। অতঃপর সে ব্যক্তি ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সাথেই আল্লাহ তাআলার সমীপে ওই ফেরেশতা প্রার্থনায় বলে থাকেন, হে আল্লাহ! তোমার অমুক বান্দাকে ক্ষমা করে দাও, কেননা সে পবিত্রাবস্থায় ঘুমিয়েছিল।’ (সহীহ ইবনে হিব্বান)

নামাজের জন্য মসজিদে অপেক্ষারত ব্যক্তিঃ আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মাঝে কোনো ব্যক্তি যখন ওযূ অবস্থায় সালাতের অপেক্ষায় বসে থাকে সে যেন সালাতেই রত। তার জন্য ফেরেশতারা দোয়া করতে থাকে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা করো, হে আল্লাহ! তুমি তার প্রতি দয়া করো।’ (সহীহ মুসলিম ৬১৯)
প্রথম কাতারে সালাত আদায়কারীঃ হযরত বারা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল (সা.) বলতেন, ‘প্রথম কাতারের নামাযীদেরকে নিশ্চয়ই আল্লাহতালা ক্ষমা করেন ও ফেরেশতারা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।’ (সহীহ ইবনে হিব্বান)

রাসূল (সা.) এর প্রতি দুরূদ পাঠকারীঃ ‘যে ব্যক্তি রাসূল (সা.)এর উপর দুরূদ পাঠ করবে আল্লাহতালা তার ওপর সত্তর বার দয়া করেন ও তার ফেরেশতারা তার জন্য সত্তরবার ক্ষমা প্রার্থনা করবে। অতএব বান্দারা অল্প দুরূদ পাঠ করুক বা অধিক দুরূদ পাঠ করুক (এটা তার ব্যাপার)।’ (সহীহ ইবনে হিব্বান)
যে ব্যক্তি রোগী দেখতে যায়ঃ রাসূল (সা.) বলেছেন, যে কোনো মুসলিম তার অপর (অসুস্থ) মুসলিম ভাইকে দেখতে যায়, আল্লাহতালা তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রেরণ করেন, তারা দিনের যে সময় সে দেখতে যায় সে সময় থেকে দিনের শেষ পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে এবং সে রাতের যে সময় দেখতে যায় সে সময় থেকে রাতের শেষ পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে।’ (সহীহ ইবনে হিব্বান, ২৯৫৮)

মুসলিম ভাইয়ের জন্য দোয়াকারীঃ রাসূল (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম তার অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দোয়া করলে তা কবুল করা হয় এবং তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকে। যখনই সে ব্যক্তি তার ভাইয়ের জন্য কল্যাণের দোয়া করে তখন সে নিযুক্ত ফেরেশতা বলে, আমীন অর্থাৎ হে আল্লাহ! কবুল করুন এবং তোমার জন্য অনুরূপ অর্থাৎ তোমার ভাইয়ের জন্য যা চাইলে আল্লাহ তোমাকেও তাই দান করুন। (সহীহ মুসলিম ৮৮)
কল্যাণের পথে দানকারীঃ রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন, একজন বলেন, হে আল্লাহ! দানকারীর সম্পদ বাড়িয়ে দাও। আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! যে দান করে না তার সম্পদকে বিনাশ করে দাও।’ (বুখারী ১৪৪২)

Related Post