যুবকের প্রাণ কেড়ে নিলো- লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বাচ্চু মিয়া (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মুখের মধ্যে কৈ মাছ ঢুকে গলায় আটকে গেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মারা যান। বাচ্চু মিয়া উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের উত্তর রায়পুর গ্রামের তবিবউল্যা মিয়ার ছেলে। তার সংসারে স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে আছে।

প্রত্যক্ষদর্শী জসিম উদ্দিন জানান, দুপুরে বাচ্চু মিয়া নিজের পুকুরে মাছ ধরতে নামেন। এ সময় দুটি কৈ মাছ পান। তার মধ্যে একটি হাতে অন্যটি মুখে নিয়ে তৃতীয় মাছ ধরতে ডুব দেন। এ সময় মুখের কৈ মাছটি গলার ভেতরে গিয়ে আটকে যায়। পরে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন রাত ৩টায় তিনি মারা যান। চরমোহনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুর রহমান পাঠান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
|এবার অভিনব কৌশলে শিক্ষকদের প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য: উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও সরকারের নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে চলছে অভিনব কৌশলে প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য। গোপনে বাসায় প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টারে পড়াচ্ছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক। স্কুলের ক্ষেত্রে নানা প্রলোভন ও পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে তেমন কঠোর অবস্থান না থাকায় কলেজের শ্রেণিকক্ষে প্রকাশ্যেই প্রাইভেট পড়াচ্ছেন কয়েকজন শিক্ষক। প্রশ্নপ্রত্র ফাঁস রোধে চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর আগে থেকে সব ধরনের কোচিং বন্ধের নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়ে সরকারের রয়েছে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা। আদালত ও মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশ অমান্য করে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অভিভাবকদের বাধ্য করছেন শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী জানান, স্কুলে না গেলেও সমস্যা নেই। কিন্তু প্রাইভেট না পড়লে বোর্ড পরীক্ষায় যেমন তেমন, স্কুলের পরীক্ষায় পাস করা সম্ভব নয়। প্রাইভেট না পড়লে ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের বাইরেও রাখা হয়। চতুল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, ‘প্রাইভেট নীতিমালা ও কোচিং বন্ধে আদালত রায় দিয়েছেন। তবুও বন্ধ হচ্ছে না কোচিং বা প্রাইভেট। শিক্ষকরা সকাল-বিকাল কৌশলে প্রাইভেটে সময় দেয়। ক্লাসে মনোযোগসহকারে ভালোভাবে পড়ালে শিক্ষার্থীদের আর প্রাইভেট কিংবা কোচিং করতে হয় না। শিক্ষকরাই বাণিজ্য করতে ক্লাসে পড়া ফাঁকি দেন।’ গত কয়েকদিন সরেজমিনে ঘুরে পৌর সদরের একাধিক শিক্ষককে প্রাইভেট পড়াতে দেখা গেছে। প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বোয়ালমারী জর্জ একাডেমির হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষক আনিচুজ্জামান কলেজ রোড সংলগ্ন ভাড়া বাড়িতে দিনে কয়েকটি ব্যাচে প্রায় ২৫০ ছাত্র ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ান।

দরজা-জানালা বন্ধ করে নিজে ও তার স্ত্রী নিলুফা খাতুন (একটি নিম্নমাধ্যমিক কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষিকা) কৌশলে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। যার অধিকাংশই জর্জ একাডেমির শিক্ষার্থী। এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলে যেতে শিক্ষার্থীদের নিরুৎসাহী করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরজমিনে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে গোপন দরজা দিয়ে শিক্ষার্থীদের বের করে দেন শিক্ষক আনিচুজ্জামান। প্রাইভেট পড়ানোর দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করা হলে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা চালান তিনি। বোয়ালমারী জর্জ একাডেমির প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘নীতিমালা অনুসারে আনিচুজ্জামানসহ কোনো শিক্ষক আমার কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেননি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’বোয়ালমারী সরকারি কলেজে গতকাল সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে গিয়ে দেখা গেছে, শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে দুইজন শিক্ষক প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক প্রফেসর অসীম কুমার ঘোষ প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থীকে ইংরেজি পড়াচ্ছিলেন। হঠাৎ সাংবাদিকরা উপস্থিত হয়ে ছবি ধারণ করতে চাইলে তিনি বাঁধা দেন এবং দাবি করেন, নীতিমালা অনুসরণ করে পড়ানো হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয়ের ভয় দেখিয়ে উস্কে দেওয়ারও চেষ্টা করেন তিনি এবং সাংবাদিকদের ওপর অনেকটাই মারমুখী হয়ে ওঠেন। একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক হয়ে কীভাবে নীতিমালা অনুসারে ইংরেজি পড়াচ্ছেন? জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি অসীম কুমার ঘোষ। হিসাববিজ্ঞানের খণ্ড কালীন শিক্ষক জোয়াদ্দারকেও কলেজ সময় পড়াতে দেখা যায়। তবে তার দাবি, নীতিমালা অনুসারে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। বোয়ালমারী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. আব্দুস সাত্তার মজুমদারকে তার কার্যালয়ে না পেয়ে মোবাইলে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘বোয়ালমারীতে আসলে কেউ এসে থাকতে চান না। যারা আসেন তাদের সুযোগ-সুবিধা না করে দিলে কলেজ চালানো সম্ভব নয়।’ ‘লিখিতভাবে কেউ পড়ানোর অনুমতি নেননি। তবে মৌখিকভাবে কেউ কেউ অনুমতি চেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে নীতিমালা অনুসারে পড়াতে বলেছি।’

কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের একাধিক শিক্ষকসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ জন শিক্ষক প্রাইভেট-কোচিং বাণিজ্যে জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে। ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা ‘২০১২’ এর ১৩ অনুচ্ছেদের ‘ঙ’ ধারায় সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধি ‘১৯৮৫’ এর অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে উল্লেখ থাকলেও নীতিমালার তোয়াক্কা করছেন না এই শিক্ষকরা।বোয়ালমারী উপজেলা শিক্ষা নীতিমালা মনিটরিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ‘বোয়ালমারীতে প্রাইভেট পড়ান কেউ কেউ, তবে বর্তমানে তেমন একটা দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। কেউ যদি নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লুকিয়ে পড়ানোর চেষ্টা করেন, তবে আমাকে অবহিত করুন। সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •