একজন শিক্ষিকা তাঁর বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া অসাধারণ এই ঘটনাটি বর্ণনা করেনঃ
“আমি যখন প্রথম শ্রেনীতে আমার ছাত্রীদের ক্লাসে পড়াতাম যখনই আযান দেওয়া হতো তাদের থামিয়ে দিতাম এবং মুয়াজ্জিনের সাথে তার বলা বাক্যগুলো রিপিট করাতাম। তারপরে আমি তাদের স্মরণ করিয়ে দিতাম- আযান এবং ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দু’আ কবুলের ব্যাপারে। আমি প্রায় খেয়াল করতাম আমার এক ছাত্রী সব সময় আযান এবং ইকামতের মধ্যবর্তী সময়টা গুনগুন করে মুখ আওড়াত এবং অন্য ছাত্রীদের চাইতে এই সুযোগটা বেশি কাজে লাগাতে চাইতো। আমি একদিন তার নোটবুকে লিখে দিয়েছিলাম আমি তোমাকে অন্যদের চাইতে বেশি পছন্দ করি কারন তুমি আযান এবং ইকামতের মধ্যবর্তী দু’আর সময়টা তোমার অন্য সহপাঠীদের চাইতে বেশি কাজে লাগাও।
সে বললঃআলহামদুলিল্লাহ,আমি প্রথম যখন জানতে পারি আযান এবং ইকামতের মধ্যবর্তী সময় দু’আ কবুল হয় আমি তখন ক্লাস ফাইভে এ ছিলাম।তখন আমি এই সময়টায় একটা দু’আ সবচাইতে বেশি করতাম এবং দু’আ করার সুযোগটা কখনো মিস করতাম না।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলামঃকি সেই দু’আ?

সে বললঃ আমি আমার পিতামাতার একমাত্র সন্তান এবং ডাক্তারের রিপোর্ট অনুযায়ী আমার মা আর কখনো সন্তান জন্ম দিতে পারবেন না।তিনি আর মা হতে পারবেন না। আমার বয়স এখন ১৩ এবং আমার কোন বোন নেই। আমার সহপাঠীদের প্রতি আমার প্রচন্ড ঈর্ষা হয় যখন তারা তাদের ছোট বোন সম্পর্কে আমার সামনে গল্প করে। এবং আমার আফসোস হয়-ইশ! আমার ও যদি একটা বোন থাকতো।
আমি সব সময় আল্লাহর কাছে এই দুয়া করি,”হে আল্লাহ!আমাকে একটা ফুটফুটে বোন দান করুন।যার সাথে আমি আমি খেলত পারব,যার সাথে আমি আমার সময় কাটাতে পারব।” কিন্তু আমার মা সব সময় আমাকে বলতো আল্লাহর কাছে এই দু’আ করতে আল্লাহ যেন তাকে একটা ছেলে সন্তান দেন। কারন তার ইতিমধ্যে একটি কন্যা সন্তান আছে যেটা হচ্ছে আমি। এ জন্য পরে আমি আল্লাহর কাছে এই দু’আ করতামঃ হে আল্লাহ আপনি আমার মা’য়ের জন্য একটি ছেলে সন্তান দিন, আমার জন্য একটি বোন দিন আর আরেকটি ভাই দিন যেন আমার ভাইয়ের আমার মত একাকীত্ব অনুভব না হয়।” আমি আমীন বললাম এবং আমি তাকে তারপর নোটবুকটি ফিরিয়ে দিলাম।
ইতিমধ্যে অনেক দিন কেটে গেল আমি তার এই ঘটনাটি ভুলে গেলাম। একদিন আমি স্কুলের বারান্দা দিয়ে হাঁটার সময় তার সাথে দেখা হয়ে গেল। সে এর মধ্যে ৯ম শ্রেনীতে উঠে গেছে। সে আমাকে দেখে উৎফুল্ল হয়ে চিৎকার দিয়ে কাছে এসে বললঃম্যাম!ম্যাম!আমার মা গতকাল এক সাথে তিনটা সন্তান জন্ম দিয়েছেন যার মধ্যে দুইটা ছেলে সন্তান এবং একটি মেয়ে সন্তান! আমি অবাক হয়ে সুবহানাল্লাহ, আল্লাহু আকবর বললাম! আমি আমার এ ছাত্রী থেকে এমন একটা জিনিস শিখলাম যেটা আমি কখনোই ভুলবোনা।”

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আল্লাহর ব্যাপারে আশাবাদী হোন এবং আপনি আল্লাহর কাছে সৎ থেকে অবিরত ভাবে দুয়া করে যান। আল্লাহর ব্যাপারে সব সময় সু ধারণা রাখবেন। বিশ্বাস রাখুন আপনার দুয়া কবুল হবেই।আর সেই সময় গুলোর সুযোগ নিন যে সময় গুলোতে দু’আ কবুল হয়। দু’আ করুন আর বিশ্বাস রাখুন আল্লাহ আপনার নিকটে, কাছেই আছে। আমার প্রিয় ভাই-বোন আপনি কি এই গোপনীয় বিষয় জানেন? সাহাবীরা জুতার ফিতা ছিড়ে গেলেও আল্লাহর কাছে চাইতেন। সামান্য জিনিস চাইতেও তাঁরা আল্লাহর কাছে লজ্জা পেতেন না। আপনার নেককার স্ত্রী,চক্ষুশীতলকারী সন্তান দরকার? আল্লাহর কাছে চান। আল্লাহকে বলুন। আপনার রিযিক দরকার,সুস্বাস্থ্য দরকার, সম্পদ দরকার?
আল্লাহর কাছে বলুন।আপনার যা কিছুই প্রয়োজন সব আল্লাহর কাছে নিঃসকোচে বলুন। আপনি আপনার রবের কাছে দু’আ করতেছেন এবং আপনার দু’আ কবুল হবেই।

এ বিশ্বাস রাখুন,যদিও দু’আ কবুল হতে একটু দেরি হবে, সময় লাগতে পারে তবুও আপনার দু’আ কবুল হবে। কারন আপনি এমন একজনের কাছে চাচ্ছেন যাঁর কাছে কোন কিছুই অসম্ভব না।যাঁর কাছে কোন কিছুরই অভাব নেই। দু’আ করুন নিজের জন্য,নিজের মুসলিম ভাইয়ের জন্য। মুসলিম উম্মাহর জন্য দু’আ করুন। ইসলামে সবচাইতে সুন্দর বিষয় কি জানেন? আপনি আপনার অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য যে দু’আই করবেন ফেরেশতারা ও অনুরুপ দু’আ আপনার জন্য রিপিট করবেন। অন্যের জন্য দু’আ করে দিনশেষে আপনার নিজেরই লাভ৷মোদ্দাকথা দু’আ করে আপনি কখনো ঠকবেন না।

Related Post