বাড়িটির ভাড়া না দিতে পারায়- গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়ের পর থেকে কারাগারে আছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কারাগারে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি গুলশান এভিনিউয়ের ৭৯ নম্বর রোডের ১ নম্বর বাসা ‘ফিরোজা’য় বসবাস করছিলেন। কিন্তু তিনি কারাগারে যাওয়ার পর থেকে সুনশান নীরবতা নেমে আসে বাড়িতে। এখন খালেদা জিয়ার বাড়িটি ছেড়ে দিতে হচ্ছে। বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির পার্টি ফান্ড বা দলের নেতাদের পক্ষ থেকে পালাক্রমে বাড়িটির ভাড়া পরিশোধ করা হতো। কিন্তু গত ৮ মাস ধরে বাড়িটির ভাড়া বকেয়া রয়েছে। ভাড়া পরিশোধের দায়িত্ব এখন কেউ নিচ্ছে না।

বাড়িটিতে কর্মরত ১৫ জন্য স্ট্যাফের বেতনও দেয়া হচ্ছে না। একইসঙ্গে বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও স্ট্যাফদের খাওয়াসহ আনুষঙ্গিক খরচও বিএনপির কোন নেতা দিচ্ছে না। এর ফলে স্ট্যাফরা একেক করে ছুটিতে চলে যাচ্ছে। বাড়িটি হয়ে গেছে অরক্ষিত। বাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণও সম্ভব হচ্ছে না। এসব কারণে বাড়িটির মালিক, যিনি ঢাকা মহানগর বিএনপির একজন নেতা বাড়িটি আবারও নিজের দায়িত্বে নিয়ে নিচ্ছেন। এ বিষয়ে তিনি খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে বিএনপির ঐ সূত্র জানিয়েছে। বাড়ির ভিতরের আসবাবপত্র আপাতত শামীম ইস্কান্দারে বাসা কিংবা অন্য কোথায় সরিয়ে নেয়ার জন্য কথা হচ্ছে। যেহেতু খালেদা জিয়ার আপাতত মুক্তির কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না, তাই ‘ফিরোজা’ ছাড়তে হচ্ছে খালেদাকে।

## শিগগিরই ২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি: এমপিওভুক্তির জন্য দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য হিসেবে বিচেনা করা হয়েছে। শিগগিরই ধাপে ধাপে এমপিওভুক্তির কাজ শুরু করা হবে। রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধীদল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমানের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি একথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে আবেদন করে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে। সাড়ে ৯ হাজার আবেদন আসে। এর মধ্যে থেকে দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। যে ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছিল প্রতিষ্ঠানগুলো সেগুলো পূরণ করেছে। কম্পিউটারাইজড প্রক্রিয়ায় এটা করা হয়েছে। এর ভেতর থেকে অর্থপ্রাপ্তি সাপেক্ষে ধাপে ধাপে এমপিওভুক্তি করা হবে। ‘সবগুলো একসঙ্গে পারবো না। ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। শিগগিরই এমপিওভুক্তির কাজ শুরু করতে পারবো।’ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এম আব্দুল লতিফের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সময়োপযোগী ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে ২০১৮ সালের জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হয়নি। এমনকি প্রশ্নফাঁসের গুজবও ছড়ায়নি। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়ে সরকারের কাছে বেশ কিছু প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। বাস্তবতার নিরিখে পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস রোধে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

হোটেল ছেড়ে মেসে উঠলেন আইজিপি!
দেশব্যাপী চলা মাদকবিরোধী অভিযান থেকে প্রাণ বাঁচাতে প্রথমবারের মতো মাদক কারবারীদের একটি অংশ সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। শনিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে আত্মসমর্পণ করেন ১০২ ইয়াবা কারবারি। এর আগে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান তদারকি করতে গত বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারে যান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। সেখানে তার জন্য উন্নত মানের হোটেলে থাকার ব্যবস্থা থাকলেও তিনি উঠেছেন একেবারেই সাধারণ একটি গেস্ট হাউজে। খেলেন স্থানীয় সাধারণ খাবারই। পুলিশ বাহিনী প্রধানের এমন এমন সাধারণ জীবন-যাপন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সর্বত্র। একে অনুকরণীয় বলছেনই অনেকেই। জানা গেছে, শনিবার টেকনাফ সীমান্তের ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের তদারকি করতেই পুলিশের আইজিপি বৃহস্পতিবার কক্সবাজার এসে পৌঁছান। কক্সবাজার সাগর পাড়ে রয়েছে কমপক্ষে আধা ডজন তারকা মানের হোটেল।

রয়েছে অনেক উন্নত মানের সরকারি-বেসরকারি সার্কিট হাউজ থেকে শুরু করে গেস্ট হাউজও। আইজিপি’র জন্য তারকা মানের হোটেলে অবস্থানের ব্যবস্থা থাকলেও তিনি এসব সুযোগ-সুবিধা না নিয়ে সাধারণ মানের গেস্ট হাউজে অবস্থান করেন। কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কামরুল আজম বলেন, আমি পুলিশের একজন ছোট কর্মকর্তা হিসেবে অবাক হচ্ছি পুলিশ বাহিনীর একজন প্রধান হয়েও আইজিপি স্যার সাগর পাড়ের আধুনিক সুযোগ সুবিধার হোটেলে থাকেননি। তিনি থেকেছেন পুলিশ ম্যাচের একটি অতি সাধারণ মানের কক্ষে।

পরিদর্শক কামরুল আজম আইজিপি’র অবস্থানের জন্য পুলিশ ম্যাচটির দেখভাল করার দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বলেন, কক্সবাজার দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হবার সুবাধে এখানে সরকারি-বেসরকারি লোকজন আসেন প্রতিনিয়ত। অনেকেরই থাকে বিলাসী চাহিদা। কিন্তু এক্ষেত্রে পুলিশের মহাপরিদর্শকের সাধারণ্যে অবস্থান যেন অন্যরকমের।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের পরিদর্শক মানস বড়ুয়া এ বিষয়ে বলেন, আমাদের দেশে পুলিশই যেহেতু নানা কাজে জড়িত থাকে সেহেতু পুলিশ নিয়েই সবচেয়ে বেশী আলোচনা-সমালোচনা হয়ে থাকে। আর এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর প্রধান হিসাবে আইজিপি মহোদয়ের এরকম সাধারণ মানের জীবন-যাপন দেশব্যাপী নিশ্চয়ই গোটা পুলিশ বাহিনীরই ভাবমূর্তি উজ্জল করবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, পুলিশ ম্যাচের যে কক্ষে আইজিপি অবস্থান করেছেন সেটির ভাড়া মাত্র ৫০০ টাকা। অথচ সাগর পাড়ের একটি তারকামানের হোটেলের প্রতিটি কক্ষের ভাড়া ক্ষেত্র বিশেষে ১০/১৫ হাজার টাকা।

Related Post