নাটোরের তিনটি উপজেলায় আজ রবিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে রবি শস্যসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দশ থেকে পনের মিনিটের এ শিলাবৃষ্টিতে আম, লিচু, পেয়ারা, পিঁয়াজ, রসুন, বোরো ধান, সরিষা, গম, কালাই, ভুট্টা, সবজি ও পানবরজসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়াও বাড়িঘরের ক্ষতি হওয়াসহ বিভিন্ন পাখি মারা গেছে। ঋণ করে ফসল ফলিয়ে হঠাৎ এই শিলাবৃষ্টিতে যে ক্ষতি হয়েছে তাতে কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। এদিকে শিলাবৃষ্টিতে ২ হাজার ৭ শত ৭৪ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। শিলাবৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, শিলাবৃষ্টিতে ২ হাজার ৭ শদ ৭৪ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। কৃষকরা জানান, রবিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জেলার নলডাঙ্গা, সিংড়া ও সদর উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় হঠাৎ করে শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। দশ থেকে পনের মিনিটের শিলাবৃষ্টিতে আম, লিচু, পেয়ারা, সরিষা, গম, পিঁয়াজ, রসুন, বোরো ধান, কালাই, ভুট্টা, সবজি, পান বরজ সহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে সকাল ১০টা পর্যন্ত টিনের চালা, খরের গাদা, রাস্তাসহ কোন কোন স্থানে শিল জমে থাকতে দেখা গেছে। শিল পড়ে টিনের চালা ফুটো হয়ে গেছে।

সদর উপজেলার ছাতনী এলাকার কৃষক নাসির উল্লাহ জানান, হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে তার অনেক কষ্টের ফসল একেবারে মাটির সাথে মিশে গেছে। এতো শিল তারা আগে কখনও দেখেননি।

একই এলাকার পেয়ারা চাষি আব্দুল গফুর জানান, শিলাবৃষ্টিতে তার ৭ বিঘা পেয়ারা বাগান একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। ঋণ করে অনেক কষ্টের করা ফসল নষ্ট হওয়াতে তারা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তেমনি ঋণের টাকা কিভাবে পরিশোধ করবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না। সিংড়ার গৃহবধু জোবেদা খাতুন জানান, শিলাবৃষ্টিতে তার ঘরে চালা নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক পাখি মরে বাড়ির আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বোরো ধানের পাতা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক বেশি ক্ষতি হয়ে গেছে। এজন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

Related Post