পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় একটি স্কুলের পিকনিকের বাস উল্টে গেছে। এতে এক শিক্ষার্থী নিহত ও অন্তত ৩০ জন হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার শালবাহানের রওশনপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম সজীব কুমার। সে রশেয়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

বাসটি আটোয়ারি উপজেলার রশেয়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে তেঁতুলিয়ায় পিকনিকে যাচ্ছিল। এতে ৬৫ জন শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৮০ জন যাত্রী ছিল বলে জানা গেছে। প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে পিকনিকে আসা বাসটি রওশনপুরের কাজী অ্যান্ড কাজী টি স্টেটের দিকে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ গোলাম আজম বিষয়টি নিশ্চত করে জানান, বাসটিতে অন্তত ৭০ থেকে ৮০ জন যাত্রী ছিল। আহতদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

#### সংসার করতে বাড়ি থেকে পালালো সমকামী দুই বান্ধবী:
মনীষা আর বান্টি। তেইশ বছরের দুই যুবতীর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব। সম্প্রতি মনীষার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে নিজেই হাজির হয়েছিলেন বান্টি। সবাইকে অবাক করে বান্টি জানিয়ে দেয়, মনীষাকেই তিনি বিয়ে করতে চান। টিভি, রেডিওতে সমকামী সম্পর্কের কথা শুনলেও, নিজেরা যে এভাবে প্রত্যক্ষ করবেন, তা ভাবতেই পারেননি জামুড়িয়ার বেড়ালা গ্রামের বাসিন্দারা। ফলে আইনি স্বীকৃতি থাকলেও পরিবারের সদস্যরা কিছুতেই মেনে নিতে পারলেন না মনীষা-বান্টির এই সম্পর্ক। সহমত নেই গ্রামবাসীদেরও। তাই নিজেদের স্বপ্ন পূরণে হাতে হাত রেখে ঘর ছেড়ে, গ্রাম ছেড়ে অজানার উদ্দেশে পাড়ি দিলেন দুই সখী। চার বছর প্রেমের পর এখন ঘর বাঁধার স্বপ্নে বিভোর দুই সমকামী যুবতী। শনিবার এই ঘটনার সাক্ষী রইল ভারতের আসানসোলের জামুড়িয়া থানার বেড়ালা গ্রাম। জানা যায়, বেড়ালার মেয়ে মনীষা কেওড়া এবং সিঙ্গুর থানার বারুইপাড়ার বাসিন্দা বাণ্টি ভদ্র দুজনে অন্তরঙ্গ সঙ্গী। গত চার বছর ধরে একে অপরের সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্কে আবদ্ধ। কলেজে পড়ার সময় এনসিসি ক্যাম্প থেকে একে অপরের সঙ্গে পরিচয়। এরপর থেকে ভাললাগা ও ভালবাসার পর্ব শুরু। জামুড়িয়ায় মনীষার বাড়িতে প্রায়ই আসতেন বান্টি। থাকতেন দিনের পর দিন। বাড়ির লোকও মনে করেছিলেন, দুই অন্তরঙ্গ বান্ধবী তারা। কিন্তু এই ভুল ভাঙল গত শনিবার। ওই দিন বান্টি জামুড়িয়ায় আসে। মনীষার বাবা বিপদতারণ কেওড়াকে সরাসরি বলেন, মনীষাকে তিনি বিয়ে করতে চান।

তারা রেজিস্ট্রি করে অন্যত্র ঘর বাঁধতে চান। এ কথা শুনে আকাশ ভেঙে পড়ে মনীষার বাড়ির সদস্যদের। দিশেহারা হয়ে পড়েন মনীষার বাবা-মা। মেয়েকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় তারা। দুই বান্ধবীকে বোঝাতে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। পুলিশকে ডেকে মধ্যস্থতা করার চেষ্টাও চলে। কিন্তু নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় বান্টি, মনীষা। জামুড়িয়া থানার পুলিশ এলে বান্টি সোজা সুপ্রিম কোর্টের আদেশনামা দেখিয়ে জানিয়ে দেন, এটা আইনত বৈধ। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভিড় জমে এলাকায়। পিলপিল করে বেড়ালা গ্রামে লোক জমতে শুরু করে। একদিকে পরিবারের সদস্যরা, অন্যদিকে বান্টি-মনীষা। শেষ পর্যন্ত মনীষার বাবা জানিয়ে দেন, তারা এই সম্পর্ক মানতে পারবেন না। প্রয়োজনে মেয়ে যেন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এটুকু শোনার অপেক্ষা শুধু। এরপরেই হাত ধরে হেঁটে গ্রামের বাইরে চলে যান বান্টি-মনীষা। রাস্তায় গিয়ে বাসে উঠে পড়েন। এই দৃশ্য দেখতে গ্রামের মানুষ নেমে আসেন রাস্তায়। অত্যুৎসাহীরা ছবিও তুলে নেন। বান্টি নিজের সম্পর্কে কিছুই জানাতে চাননি এদিন।যেটুকু জানা গেছে সবটাই মনীষার মাধ্যমে। বান্টি বাড়িতে থাকেন না। মা মারা যাওয়ার পর বাবা বিয়ে করায় তিনি ঘরছাড়া। কলকাতায় এক মেডিক্যাল কলেজে বান্টি নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কাজ করেন। দুজনে একসঙ্গে কলকাতাতেই ঘর বাঁধবেন বলে জানা গিয়েছে।

Related Post