আন্তর্জাতিক ডেস্ক- কাশ্মীরের পুলওয়ামারে আত্মঘাতী হামলায় ৪৪ জওয়ান নিহত হওয়ার পর প্রতিবেশী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার আওয়াজ উঠেছে। ভয়ানক এই ঘটনায় গর্জে উঠেছে গোটা দেশ। কড়া ভাষায় বদলা নেওয়ার ইঙ্গিত ঘটনার পরেই দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সামরিক ক্ষেত্রে তো বটেই, কূটনৈতিকভাবেও পাকিস্তানকে একেবারে মারার চেষ্টা শুরু করেছে ভারত। যখন একদিকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বদলা নেওয়ার দাবিতে ফুঁসছে গোটা দেশ অন্যদিকে নিঃশব্দে পাকিস্তানের মাটিতে ‘সাইবার-অ্যাটাক’ চালিয়ে যাচ্ছে ভারতের সাইবার সেনারা।

সোমবার বিকালে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম কলকাতা টুয়েন্টিফোর এক প্রতিবেদনে জানায়, ঘটনার পর থেকে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের ৭০টিরও বেশি সরকারি এবং বেসরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে ভারতের হ্যাকাররা। ভারতে ভয়ঙ্কর এই হামলার পরেই বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র মহম্মদ ফয়সল জানিয়েছেন, পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের ওয়েবসাইটটি খোলা যাচ্ছে না। আর তা খোলা যাচ্ছে না বিভিন্ন দেশ থেকে অভিযোগ আসছে। এটি ভারতের হ্যাকারদের কাজ বলে সন্দেহ করছে পাকিস্তান। ফয়সল আরও জানান, যদিও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটটি খুলতে পাকিস্তানে কোনও সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ও নেদারল্যান্ডসে এই ওয়েবসাইট খোলা যাচ্ছে না। শুধু বিদেশমন্ত্রকের ওয়েবসাইটিই নয়, একাধিক ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি ভারতের হ্যাকার গ্রুপ TEAM-1 Crew নেতৃত্বে ঘটছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই হ্যাকার গ্রুপ কোন কোন পাকিস্তানের সাইট হ্যাক করেছে তার একটা তালিকা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে দিচ্ছে। একই সঙ্গে এই হ্যাকার গ্রুপের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে যে, পাকিস্তানের উপর চলা এটাই সবথেকে বড় সাইবার অ্যাটাক। শুধু হামলা করাই নয়, পাকিস্তানের সাইটগুলি একের পর এক হ্যাক করে সেখানে একটি ম্যাসেজও ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ভারত কখনও ১৪/০২/২০১৯-এর ঘটনা ভুলবে না। আর এই সাইবার হানা শহিদদের সম্মান জানানোর জন্যে।

আরও পড়ুন-
## ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা চরমে, মোদির বুকে জ্বলছে প্রতিশোধের আগুন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ভারতশাসিত জম্মু-কাশ্মীরে বোমা হামলায় দেশটির সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) অন্তত ৪০ জন সদস্য নিহতের ৪৮ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ওই ঘটনার জবাব দিতে জোরদার মহড়ায় নেমে গেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। ভারতের রাজস্থান রাজ্যের পাকিস্তানের সীমান্তসংলগ্ন পোখরানে ভারতীয় বায়ুসেনার প্রায় ১৪০টি বিমান মহড়ায় অংশ নেয়। রাতের আকাশে ঝলকানি তুলে চলে এই বিমান মহড়া।
এদিকে এ হামলার ঘটনায় বুকে ‘প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। রোববার বিহার রাজ্যে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে মোদি নিহত জওয়ানদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এমন কথা বলেন। সন্ত্রাসীদের এমন হামলার ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নিন্দা জানিয়ে মোদি বলেন, ‘দেশবাসীর মনে কতটা আগুন জ্বলছে আমি তা অনুভব করতে পারছি। জেনে রাখুন, যে আগুন আপনাদের বুকে জ্বলছে, আমার বুকেও সেই একই আগুন জ্বলছে।’ রোববার বিহারের বারউনিতে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে গিয়ে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন মোদি। সেখানে পুলওয়ামা হামলায় ভারতের সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) নিহত জওয়ান বিহারের সঞ্জীব কুমার সিনহা ও ভাগলপুরের রতন কুমার ঠাকুরের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের উপস্থিতিতে বারাউনিতে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার পাটনা মেট্রো রেল প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন মোদি। তবে মোদির বক্তৃতায় সবকিছু ছাপিয়ে মুখ্য হয়ে ওঠে পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার ঘটনা।

এর আগে হামলার পরপরই সেনাবাহিনীকে পাল্টা আক্রমণের ছাড়পত্র দেন মোদি। তিনি বলেন, আমরা নিরাপত্তাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি। আমি সন্ত্রাসীগোষ্ঠী ও তাদের সহযোগী ও মদদদাতাদের বলতে চাই যে, তারা একটা বড় ভুল করেছে। আর তাদেরকে এর জন্য চরম মূল্য দিতে হবে। এই হামলার নেপথ্যে যারা আছে তাদের শাস্তির আওতায় আনবো আমরা।‘
তিনি দেশের অন্যান্য দলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা এই সন্ত্রাসী হামলাকে রাজনীতিকরণ করবেন না। কারণ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করছে। তাদেরকে এই সুযোগ দেয়া যাবে না।’

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •