সার্ভিসও আগুন লাগার প্রকৃত কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে আগুনের কারণ সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দা আদিল জানিয়েছেন, চু‌ড়িহাট্টা বড় মস‌জি‌দের সাম‌নে থাকা প্রাইভেটকা‌রের গ্যাস সি‌লিন্ডার বি‌স্ফোর‌ণে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। তি‌নি বলেন, বিকট শ‌ব্দে বি‌স্ফোর‌ণে ভে‌বে‌ছি‌লাম বোমা ফে‌টে‌ছে। দৌ‌ড়ে এসে দে‌খি প্রাইভেটকা‌রে আগুন জ্বল‌ছে। মুহূর্তের ম‌ধ্যে আগুন পাশের হো‌টেল ও কে‌মিক্যালের গোডাউনে ছ‌ড়ি‌য়ে প‌ড়ে। ত‌বে কেউ কেউ আবার বল‌ছেন, ওয়া‌হিদ ম্যানস‌নের পা‌শের হো‌টেলের গ্যাস সি‌লিন্ডার বি‌স্ফোরণ থে‌কে আগুন লা‌গে। এদিকে ফায়ার সা‌র্ভিস বল‌ছে, তদন্ত না ক‌রে কিছু বলা যা‌বে না। সূত্র: সময়ের কণ্ঠস্বর.

##### এভাবে তো চলতে পারে না: বলছে ফায়ার সার্ভিস:
পুরান ঢাকার চকবাজারে লাগা ভয়াবহ আগুনে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৭০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় চুড়িহাট্টায় স্থাপিত ফায়ার সার্ভিসের অস্থায়ী তথ্য কেন্দ্র থেকে এ তথ্য জানানো হয়। চকবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয়দের সচেতন হতে হবে। এ ধরনের বিপর্যয় রোধে সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। তিনি বলেন, ‘বাড়িওয়ালাদের অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে কেমিক্যাল গুদাম করা হয়েছে, এগুলো বন্ধ করতে হবে। যিনি এ গুদামের মালিক, তিনি হয়তো থাকেন গুলশানে। কিন্তু দুর্ঘটনায় মারা যায় সাধারণ মানুষ।’ শাকিল নেওয়াজ বলেন, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কোনো কোম্পানি যেন থাকতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। ফায়ার কিন্তু এগুলো অনুমোদন দেয় না, যারা দেয় তাদের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ফায়ার রাস্তাও তৈরি করে না। আজ আমরা আধুনিক একটি গাড়িও উদ্ধার কাজে ব্যবহার করতে পারিনি। যদি বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়, তাহলে কী হবে?’

‘যে পাঁচটি ভবনে আগুন লেগেছে প্রতিটিতে কেমিক্যাল মজুদ করা ছিল’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘নিচে হোটেল, হোটেলের উপরে কেমিক্যালের গোডাউন, তার উপরে মানুষের বসবাস। এভাবে তো চলতে পারে না। কেমিক্যালের কারণে বারবার আগুন জ্বলে উঠছে, নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। আগুন নেভানোর জন্য যে পরিমাণ পানির দরকার, তাও পাওয়া যাচ্ছে না। এর চেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা আর কী হতে পারে’- প্রশ্ন রাখেন শাকিল নেওয়াজ।

####বিয়ের হলুদে গিয়ে বেঁচে গেল রামিম, আগুন কেড়ে নিল মা-বাবা, বোনকেঃ
‘এখনও ভয়ে বুক কাঁপছে। মনে হচ্ছে দাউ দাউ করে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, পিছু ধাওয়া করছে। শত শত মানুষ আগুন আগুন চিৎকার করে দিগ্বিদিক ছুটছে। প্রাণ বাঁচাতে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে সামনের দিকে দৌড়াতে থাকি। বারবার কোলের শিশুটির নিষ্পাপ মুখখানা দেখছিলাম আবার ভাবছিলাম সবাইকে রক্ষা করতে পারব তো। ওই দৃশ্য জীবনেও ভুলব না।’ রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার চুড়িহাট্টার নন্দকুমার দত্ত রোডের ১৬/১ নম্বর বাড়ির ভাড়াটিয়া মোহাম্মদ আলম স্ত্রী, পাঁচ বছরের মেয়ে ও কোলের শিশুকে নিয়ে রাত ৪টায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে এভাবেই তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন। রাত ৩টার সময় ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিলে ধীরে ধীরে চুড়িহাট্টা এলাকার ঘরছাড়া মানুষ বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করে। অগ্নিকাণ্ডের পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করায় রাস্তাঘাট তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার। রাস্তাঘাটে তখন বিভিন্ন কেমিক্যালের দানা, অগ্নিনির্বাপণের সময় রাস্তা পড়ে থাকা পানি আর কালো ধোয়া। এমন অবস্থার মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুরা বাড়ি ফিরতে শুরু করে। রাত পৌনে ৪টার দিকে একে একে অগ্নিদগ্ধ হয়ে করুণ মৃত্যুর শিকার নারী, পুরুষ ও শিশুদের মরদেহ বের করে মর্গে পাঠাতে থাকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। হীরা নামে এক যুবক অন্ধকারে দাঁড়িয়ে তার খালাত বোন, তার স্বামী ও তাদের এক সন্তানকে খুঁজতে থাকেন।

তিনি জানান, তার খালাত বোন সোনিয়া স্বামী মিঠু, ছেলে রামিম ও মেয়ে শাহরিনকে নিয়ে চুড়িহাট্টার ঘটনাস্থলের অদূরে কাটারা কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের হলুদের দাওয়াত খেতে আসছিলেন। রিকশাযোগে আসার পথে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় রামিম লাফিয়ে পড়ে আহত হয়। আরেকজনের মোবাইল থেকে ফোন করে রামিম জানায়, সে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি। বাবা, মা ও বোনের খবর জানে না। খবর পেয়ে পাগলের মতো ছুটে আসে সে। এসে জানতে পারে ওরা তিনজনই মারা গেছে। কিন্তু তখনও মরদেহ দেখেনি। তবে পুলিশ জানায়, সোনিয়া, মিঠু ও শাহরিন নামে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাত যত বাড়ছিল ততই নিখোঁজদের সন্ধানে স্বজনদের ভিড় বাড়ছিল।

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •