রাজধানীর চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু লাশ পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। নিহতদের দেখে পরিচয় শনাক্ত করার কোনো উপায় নেই। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৪১ জন।

অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া এক যুবক হলেন, রহনা হন মুক্তা প্লাস্টিক কারখানার কর্মচারী নাসির আহম্মেদ।

ভয়াবহ সেই অগ্নিকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন নাসির আহম্মেদ। তিনি বলেন, ‘আগুন লাগার ১০ মিনিট আগে দোকান বন্ধ করে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। কয়েক মিনিটের মধ্যে চকবাজার চুরিহাট্টা এলাকা আগুনের লেলিহান শিখা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।’ এ সময় তিনি তার দোকানের পাশেই চা খাচ্চিলেন। প্রাণে বেঁচে যাওয়া নাসির বিডি২৪লাইভের প্রতিবেদককে এ ঘটনার বর্ণনায় বলেন, ‘আমার সামনেই পিকআপ থেকে গ্যাস সিলিন্ডার পরে যায় এরপরেই আগুন ধরে যায় পাশে থাকা প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডারে। এরপর এলাকার সামনে পূরা এরিয়া দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে।’ তিনি কান্না জনিত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার দোকানের পাশের মোবাইলের দোকানদার দুই ভাই রানা আর রাজু আগুন দেখে ভিতর থেকে দোকানের সাটার বন্ধ করে দেয়। কিন্তু আগুন থেকে তাদের আর রক্ষা হয়নি। তারা দুই ভাই মারা যায়।’ পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের ভবনগুলোতে লাগা ভয়াবহ আগুনে দগ্ধ এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া মরদেহের মধ্যে ৬৬ পুরুষ ৭ জন নারী ও ৫ জন শিশু রয়েছে।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৪১ জন।

এর আগে, বুধবার রাত ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার থানার চুড়ি হাট্টা শাহী মসজিদের সামনে একটি বহুতল ভবনে আগুন লেগে তা আশেপাশের ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট চারঘণ্টার মতো কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়। এই ঘটনায় দগ্ধসহ আহত কমপক্ষে অর্ধশত ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

Related Post