ছেলের লাশ খুঁজে না পেয়ে মা বলতেছে,”এক টুকরা মাংস হলেও দাও, আমার বাবারে আমি কোলে নেবো।” সন্তানহারা এই মায়ের আর্তনাদ শুনে কাদছে আশপাশের সবাই।

আগুন লাগে চকবাজারে – চকবাজারের চুরিহাট্টা মসজিদের পাশের ওয়াহেদ ম্যানশন নামের পাঁচতলা ভবনে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হয়েই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ভবনটির নিচতলা ও দোতলায় ক্যামিকেল ও প্লাস্টিকের গোডাউনের সরঞ্জাম থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের ভবনেও।

বুধবার রাত ১০টা ৩৮ মিনিটে লাগা ওই আগুন দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। তবে আগুন সকাল নয়টা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওয়াহেদ ম্যানশনের সামনে একটি ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হয়ে প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে। এসময় প্রাইভেটকারের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ভবনে আগুন লাগে। আর ভবনটিতে কেমিকেলের গোডাউন থাকায় আগুন লাগার পর থেমে থেমে শব্দ করে ছোট ছোট বিস্ফোরণ হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম জানান, ওয়াহেদ ম্যানশন নামের ওই বাড়ির মালিকের নাম হাজী আব্দুল ওয়াহেদ। ভবনের নিচতলা ও দোতলায় পাউডার ও কেমিকেলের গোডাউন আর প্লাস্টিকের সরঞ্জামের গুদাম রয়েছে। এরপর পাঁচতলা পর্যন্ত ফ্ল্যাট।

ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে।

এদিকে চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৭০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হাত পায়ে কাটা জখম নিয়ে আরও প্রায় ৩০ জন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বাবার খোঁজে হাসপাতালে যমজ শিশু

রাজধানীর চকবাজারের আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে এইচ এম কাওসার আহমেদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। কাজ করতেন চুড়িহাট্টায় এক ফার্মেসিতে। প্রতিদিনের মতো গতকালও গিয়েছেন কাজে। কিন্তু ভয়াবহ আগুন তাকে কেড়ে নিয়েছে তার প্রান।

গতকাল রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ আগুনে তার মৃত্যু হয়েছে। এদিকে কওসার আহমেদের ৪ মাস বয়সের ২ বাচ্চা মর্গে স্বজনদের কোলে। একজনের নাম আবদুল্লা।

এদিকে অগ্নিনির্বাপকরা ৯ ঘন্টারও বেশি সময় কঠোর চেষ্টা চালিয়ে বেশিরভাগ আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। অগ্নি নির্বাপণ বিষয়ক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘বুধবার রাতে একটি ভবনে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত। দ্রুত তা অন্য ভবনগুলোতে চড়িয়ে পড়ে।

এ সময় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কন্ট্রোল রুমের একজন কর্মকর্তা মাহফুজ রিবেন বলেছেন, ‘ঘটনার সময় বহু মানুষ ভবন গুলোতে আটকে পড়েছিলেন। নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘আমাদের টিম সেখানে কাজ করছে। কিন্তু উদ্ধার করা মৃতদেহগুলো চেনার কোনো উপায় নেই। আমাদের সদস্যরা লাশ বহনের ব্যাগে করে সেগুলো হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাচ্ছেন। অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতি।’

Related Post