কাশ্মীরে পুলওয়ামাতে পাকিস্তানি জঙ্গী সংগঠনের সন্ত্রাসী হামলার জের ধরে শুরু থেকেই নানান মন্তব্য করেছে ভারতের সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটার, ক্রীড়া সংগঠক থেকে শুরু করে ক্রিকেট ভক্ত-সমর্থকরা। কিন্তু এতদিন ধরে নিশ্চুপ ছিলো ভারতের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা বিসিসিআই।

এবার ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর আলোচনায় এলো বিসিসিআই। আলোচনায় এসেছে বলা ভুল হবে, রীতিমতো ধামাকা নিয়েই এসেছে তারা। বিসিসিআইয়ের শীর্ষকর্তারা পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে আবেদনের কথা ভাবছে।

এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে বিসিসিআইয়ের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠিও প্রস্তুত করা হয়েছে। গত বুধবার তৈরি করা চিঠিকে এখন পর্যালোচনা করছেন বিসিসিআইয়ের শীর্ষ কর্তারা। শুক্রবার এ ব্যাপারে ভারতের যথাযথ মন্ত্রণালয়ের মতগ্রহণপূর্বক আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবে তারা।

আনুষ্ঠানিক খসড়া চিঠিতে বিসিসিআই দাবি করছে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করা উচিৎ কারণে তারা অনেক আগে থেকেই ভারতের মাটিতে করা জঙ্গীবাদে সমর্থন এবং পেছন থেকে সাহস দিয়ে যাচ্ছে। যার সবশেষ উদাহরণ ছিলো পুলওয়ামা আক্রমণে ৪২ জন ভারতীয় সেনা সদস্যের মৃত্যু এবং পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া।

এরই মধ্যে খসড়া চিঠিটি দেখেছেন ভারতের ক্রিকেট কমিটি অব এডমিনিস্ট্রেশনের (সিওএ) চেয়ারম্যান ভিনোদ রায়। তিনি বিসিসিআইয়ের প্রধান নির্বাহী রাহুল জহুরীকে পরামর্শ দিয়েছেন এ চিঠিটি আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন এবং বিশ্বকাপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্টিভ এলওয়ার্থির উদ্দেশ্যে চিঠিটি পাঠিয়ে দিতে।

এই চিঠিটি এরই মধ্যে রিচার্ডসন এবং এলওয়ার্থির নিকট পৌঁছে যেত। কিন্তু বাঁধা দিয়েছেন সিওএ সদস্য দিয়ানা এডুলজি। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন এ ব্যাপারে শুক্রবারের বৈঠকে আরও গভীরভাবে আলোচনা করে তবেই শেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে।

এখনো পর্যন্ত এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ভিনোদ রায় কিংবা রাহুল জহুরী। তবে দিয়ানা খসড়া চিঠিটির ব্যাপারে বলেন, ‘আমরা শুক্রবারের বৈঠকে এ ব্যাপারে আলোচনা করবো এবং ঠিক করবো পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে। এজন্য আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলাপ করে নিতে হবে। আমরা এও দেখবো অতীতে এমন পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয়া হয়েছে।’