বিগবাজারে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড- রাজধানী ঢাকার চকবাজারের অগ্নিকান্ডের ঘটনার ক্ষত এখনো জ্বলজ্বল করছে সারা দেশবাসীর মনে। এরই মাঝে বড় ধরণের অগ্নিকান্ড থেকে রক্ষা পেলো সিলেটের তালতলাস্থ একটি মার্কেট।

তালতলাস্থ বিগ বাজার ডিপার্টমেন্ট স্টোর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এতে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে হতাহতের কোন খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে বিগ বাজার ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোরে আগুন লেগে যায়। আগুনের লেলিহান শিখা আর ধোঁয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিগবাজার ডিপার্টমেন্টে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় সুফিয়া হোটেলসহ আশেপাশের মার্কেট ও বাসাবাড়ীতেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট এসে একযোগে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। তবে এর আগেই আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যায় বিগ বাজার ডিপার্টমেন্ট ষ্টোর।

অগ্নিকান্ডের ঘটনা নিশ্চিত করে সিলেট ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক দীনমনি শর্মা সিলেটভিউকে জানান, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত। খবর পেয়ে আমাদের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। কোন হতাহত হয়নি তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার উপরে হয়েছে বলে ধারণা করছি।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, মেইন রোডে আগ্নিকান্ড এবং পাশেই ফায়ার সার্ভিসের অফিস থাকায় বড় ধরণের দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে সিলেট। নতুবা চকবাজারের মতো আরেকটি দূর্ঘটনা সিলেটেও ঘটতো বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।

মর্গে শতাধিক শিক্ষার্থীর ভিড় প্রিয় শিক্ষকের মরদেহ নিতে

বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত দশটায় প্রিয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়েছেন মাওলানা মুফতি ওমর ফারুক। এক ঘন্টা পার না হতেই সেই শিক্ষকের মৃত্যুর খবর। এ যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো দু:সংবাদ।

শুরু হয় শিক্ষার্থীদের আহাজারি। শত শত শিক্ষার্থীর এমন কান্নায় ফুটে উঠেছে প্রিয় শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা। মাদরাসার গন্ডি পেড়িয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গের সামনে।

প্রিয় শিক্ষকের মুখটি শেষবারের মতো দেখতে ও তার লাশ কাঁধে নিতে অপেক্ষা করছেন চকবাজার বড় কাটারা মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। মাত্র তিন বছর আগে বিয়ে করেছেন মুফতি ওমর ফারুক। দুই বছরের পুত্র সন্তাননের জনক তিনি। দীর্ঘ দশ বছর ধরে তিনি চকবাজার বড় কাটারা মাদরাসার শিক্ষক হিসেবে ছিলেন।

বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ফার্মেসীতে থাকা অবস্থায় মৃত্যু হয় এই মাদরাসা শিক্ষকের। বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে প্রিয় শিক্ষকের লাশ কাঁধে নিতে ঢামেকের সামনে অপেক্ষা করছেন তারা। বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত লাশ না পেলেও আগ্রহ ভরে প্রিয় শিক্ষকের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা।

মাদরাসাটির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ বলেন, হুজুর গতকালও আমাদের তিনটি ক্লাস নিয়েছেন। পরে রাত দশটায় আমাদের সঙ্গে খেয়ে মদিনা ফার্মেসিতে যান।

ঘটনার পর আমরা তাকে অনেকবার ফোন করেছি, তার খবর নেওয়ার চেষ্টা করেছি। তার ফোনটি বাজলেও ধরেননি তিনি। পরে সকাল তার মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে এসেছি। আমাদের যে কোনো সমস্যায় হুজুর খোঁজ নিতেন। কেউ অসুস্থ হলে তার কাছে গেলে সমাধান মিলত।

আরেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, তিনি অত্যন্ত ভালো শিক্ষক ছিলেন। তার পড়া কোনো শিক্ষার্থী বুঝবে না, এমন সুযোগ নেই। তার এমন চলে যাওয়া মেনে নেওয়া যায় না।

তার মুখটি শেষবারের মতো দেখতে আমরা এখানে অপেক্ষা করছি। সহকর্মী মাওলানা ওয়াসিক বিল্লাহ বলেন, তিনি খুবই মেহনতি মানুষ ছিলেন। তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকে শিক্ষার্থীরা মর্গের সামনে এসে সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছে। রাত থেকে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েছে।

‘ও এখনো জানে না তার কেউ বেঁচে নেই’

বাবা, মা ও ছোট্ট ভাইয়ের সঙ্গে বন্ধুর কানফোঁড়ানো অনুষ্ঠানে যাচ্ছিল রামিম। অনুষ্ঠানস্থলের কাছেই যানজটে রিকশায় বসে ছিল পরিবারের চারজন। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের একটি কুন্ডলী পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়।

তবে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তারিফুল ইসলাম রামিম। তার মুখমন্ডলের একাংশ পুড়ে গেছে। অবশ্য রামিম এখনো জানে না তার পরিবারের কেউ বেঁচে নেই।

প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে রামিম বলে, ‘আমার বন্ধুর কানফোঁড়ানো অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলাম। আমাদের রিকশার আগে চার-পাঁচটা রিকশা ছিল। এর সামনে ছিল একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা।

হঠাৎ ওপর থেকে বিদ্যুতের ট্রান্সমিটার বার্স্ট হয়ে অটোরিকশার ওপর পড়ে। এতে অটোরিকশাটির সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন দেখে চোখ বন্ধ করে ফেলি। পরে চোখ মেলে আব্বু-আম্মু কাউকে দেখতে পাইনি।

তখন আমি রিকশা থেকে নেমে পেছনের দিকে চলে যাই।’ এসব কথা জানানোর পর ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে রামিম। পাশে বসে থাকা তার খালা রনিয়া আক্তার কক্ষের বাইরে এসে জানালেন, ‘ও এখনো জানে না তার কেউ বেঁচে নেই।’

নিহত বোনের সঙ্গে সর্বশেষ কথার স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, গতকাল রাতে রামিম আমার কাছে পড়ছিল। সাড়ে ৮টার দিকে আপা ফোন করে বললেন, আজ একটু ১০-১৫ মিনিট আগে ছেড়ে দিস। ওর বন্ধুর দাওয়াতে যাব।

৯টার দিকে আমি ছুটি দিলাম। তাদের বাসাও কাছেই। বাসায় গিয়ে ওরা রেডি হয়ে অনুষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা হলো। সাড়ে ১০টার দিকে আমার ফোনে অন্য নম্বর থেকে রামিম ফোন করে আগুন লাগার কথা জানায়। বোন সোনিয়া ইসলাম, দুলাভাই মিঠু ইসলাম ও তাদের আড়াই বছরের ছেলে সাহিরের ছবি দেখিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

মার্চে তাদের আদরের ছোট ভাইয়ের (রামিমের মামা) বিয়ে। গতকাল রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) সবাই মিলে মেয়ের বাসায় গিয়ে বিয়ের দিন ধার্য করার কথা। এরই মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল। নিহত মিঠু ইসলাম রাজধানীর হাতিরপুলে একটি টাইলসের দোকানে চাকরি করতেন। সোনিয়া ইসলাম গৃহিণী।

লালবাগের ৩৬/১ ডুরিআঙ্গুর লেনের তিনতলা পৈতৃক বাসার দোতলায় পরিবার নিয়ে থাকতেন মিঠু। তিনতলায় পরিবার নিয়ে থাকতেন একমাত্র বড় ভাই মো. টিটু। রনিয়া আক্তার বলেন, এ বছরই রামিম রাইফেলসে (বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ) চান্স পেয়েছে। আপা-দুলাভাই অনেক খুশি ছিল।

Related Post