দাম্পত্য জীবনে প্রবেশের আগে ও পরে ইসলাম যেসকল নির্দেশনা দিয়েছে একজন আদর্শ মুসলিম সেগুলো পালনে সচেষ্ট থাকে। আদর্শ মুসলিম তার জীবনসঙ্গিনী বাছাইয়ে তাড়াহুড়া করে না। বাহ্যিক সৌন্দর্যকে সে উপেক্ষা করে না বটে, তবে বাহ্যিক সৌন্দর্যই তার নিকট সবকিছু নয়। সম্পদ, বংশগত কৌলীন্য ও দৈহিক সৌন্দর্যের উপর সে দ্বীনদারিকেই প্রাধান্য দেয়।

একজন আদর্শ মুসলিম দাম্পত্য জীবনকে মনে করে পারস্পরিক ভালোবাসা, অন্যের স্বার্থকে প্রাধান্য দান, সাহায্য-সহযোগিতা এবং সৌহার্দ্য-সহানুভূতির জীবন।

জীবনসঙ্গিনীর ভুলত্রুটি সে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে। ভুলের জন্যে অন্যের সামনে তাকে তিরষ্কার করে না। কোনো কিছু বলতে হলে আড়ালে কোমলভাবে বলে। তার কাজের প্রশংসা করে। তার আবেগ-অনুভূতির প্রতি খেয়াল রাখে। তার মান-অভিমানকে গুরুত্ব দেয়। তার আত্মীয়-স্বজনের সাথে নিজের আত্মীয়-স্বজনের মতই সুন্দর আচরণ করে। তার কাছে তার আত্মীয়দের ব্যাপারে কোনো কটু কথা বলে না। খাওয়ার সময় রান্নার দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করে না।

যদি কখনো রাগ হয়, তাহলে রাগের বশবর্তী হয়ে সে তার সাথে খারাপ আচরণ করে না। সে নিজেকে বোঝায়, ‘তার মাঝে যদিও এই দোষ আছে, কিন্তু আল্লাহ তো বলেছেন, তার মাঝে আল্লাহ রেখেছেন আরো অনেক কল্যাণ।’

জীবনসঙ্গিনীর প্রতি তার ভালোবাসা হয় আল্লাহর জন্যে। তাই যদি কখনো কোনো বিষয়ে খারাপও লাগে তারপরও সে আল্লাহর ওয়াস্তে স্ত্রীকে ভালোবেসে যায়।

সে যখন ঘরে প্রবেশ করে তখন সালাম দিয়ে প্রবেশ করে। স্ত্রীকে ঘরের কাজে সহযোগিতা করে। সহযোগিতা করতে না পারলে সহানুভূতি প্রকাশ করে। সে প্রতিদিনের রুটিনবন্দী জীবনকে মাঝেমধ্যে নির্মল হাসি-কৌতুকের মাধ্যমে আনন্দময় করে তোলে।

একজন আদর্শ মুসলিম মা ও স্ত্রীর মাঝে সমন্বয় রক্ষা করে চলে। স্ত্রীর প্রতি যেভাবে খেয়াল রাখে, তেমনি মাকেও সে শ্রদ্ধা করে। মাকেও খুশি রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। কারো হক আদায় করতে গিয়ে অন্যের হক নষ্ট করে না। এক্ষেত্রে সে অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও সহনশীলতার পরিচয় দেয়।