বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা- ঢাকা থেকে দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ দুর্বৃত্তরা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের জরুরি অবতরণ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। শাহ আমানত বিমানবন্দরের রানওয়ে ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সূত্রের খবর, বিমানের ভেতরে দুর্বৃত্তরা ক্রুসহ সবাইকে জিম্মি করে রেখেছে।

বিমানটি রোববার বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে জরুরি অবতরণ করা হয়। বিমানবন্দরের একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে সেখানে বিমান ওঠানামা বন্ধ রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, বিমানের ভেতরে অস্ত্রধারীরা রয়েছে। বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ যুগান্তরকে বিমানের জরুরি অবতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আমার ওপর কাদেরের অনেক ক্ষোভ: প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার ওপর সেতুমন্ত্রীর অনেক ক্ষোভ। কারণ তিনি আমার নামে পদ্মাসেতু করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আমি সেটা নাকচ করে দিয়েছি।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের খননকাজ উদ্বোধন শেষে সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা পদ্মাসেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলাম ২০০১ সালে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে পদ্মাসেতুর কাজ বন্ধ করে দেয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আবার আমরা উদ্যোগ নেই পদ্মাসেতু নির্মাণের। তখন সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। তবে হঠাৎ মাঝামাঝি সময়ে এসে তারা অভিযোগ আনলো এখানে দুর্নীতি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এ সময় চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম কোথায় দুর্নীতি হয়ে তা দেখাতে হবে, দুর্নীতির প্রমাণ দিতে হবে। কিন্তু বিশ্বব্যাংক সেই দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে কানাডার আদালতেও মামলা হয়েছে। পরে আদালত বলেছেন, বিশ্বব্যাংক যে অভিযোগ তুলেছে তা মিথ্যা, ভূয়া। এরপর আমার নিজেদের অর্থে পদ্মাসেতু নির্মাণের চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম, সেই পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান।

সরকার প্রধান বলেন, পদ্মাসেতু নিয়ে যখন এত কিছু হয়ে গেছে, তখন সেটা পদ্মাসেতুর নামেই থাকবে। এটার সঙ্গে আর কোনো নাম যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কাজেই আমার মন্ত্রীকে বলবো রাগ ক্ষোভ করার কিছু নেই। আমি কোনো নাম চাই না, কিছুই চাই না। কারণ আমি সব হারিয়ে রিক্ত হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে এসেছি।

চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কথা স্মরণ করে বলেন, চট্টগ্রামের সন্তান এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর উপর টানেল নির্মাণের জন্য আন্দোলন করেছিলেন। তার দাবি ছিলো, কর্ণফুলী নদীর উপর ঘন ঘন ব্রিজ নির্মাণ হলে নদীর ক্ষতি হবে । তার দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক ছিলো। তিনি আজ বেঁচে থাকলে টানেলের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন দেখে অনেক খুশি হতেন।

এ সময় কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে চীন সরকারের সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, চীন সরকার কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ পরিকল্পনার শুরু থেকে সহায়তা করছে। বাংলাদেশকে শতভাগ ঋণ সহায়তা দিয়েছে। চীনের সহায়তায় আজকে আমরা এ বিরাট মহাযজ্ঞ করতে পারছি।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে কাঁদলেন নওফেল

বাংলাদেশের প্রথম সড়ক সুড়ঙ্গপথ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ নির্মাণের কাজে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী খুবই আনন্দিত হতেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তার বক্তব্যে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

নিজের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের মেয়র ছিলেন। নদীর ওপর ব্রিজ করলে নদীর ক্ষতি হবে। তাই গণমানুষের এই নেতা কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের দাবিতে আন্দোলনও করেছিলেন। আজ কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে। তিনি থাকলে অত্যন্ত আনন্দিত হতেন। বাংলাদেশের অনেক আন্দোলন সংগ্রামে তার অবদান রয়েছে। আজ আমি তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।

এ সময় মঞ্চে অন্যদের মধ্যে প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও ছিলেন। তখন তাকে চোখ মুছতে দেখা যায়।

এর আগে শনিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ১৯৫০ সালে পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার এক গোপন প্রতিবেদন নিজ বক্তব্যে পড়ে শুনাচ্ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। প্রতিবেদনে পাকিস্তানের তৎকালিন গোয়েন্দা সংস্থা উল্লেখ করেছিলো ভাষা সৈনিক শেখ মুজিব শর্ত সাপেক্ষ জেল থেকে মুক্ত হওয়ার চেয়ে নিজের মৃত্যুবরণকে বেশী পছন্দ করেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল যখন বক্তব্যটি রাখছিলেন তখন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। এসময় প্রধানমন্ত্রী চশমা খুলে কয়েকবার নিজের চোখও মুছেন। ব্যারিস্টার নওফেল তার বক্তব্য শেষ করার পরে প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে পাশের চেয়ারে বসিয়ে কিছুক্ষণ কথা বলেন।

Related Post