বিমান ছিনতাইকারী- ঢাকা থেকে দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ দুর্বৃত্তরা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের জরুরি অবতরণ করা হয়েছে। জরুরি অবতরণের পরপরই রানওয়েতে বিমানটি ঘিরে রেখেছে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ।

বিমানটিতে অনবোর্ড যাত্রী ছিলেন সংসদ সদস্য এবং জাসদ নেতা মঈনুদ্দিন খান বাদল। তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিমান ছিনতাইকারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে চায়।

রোববার সন্ধ্যায় বিজি-১৪৭ নং ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল।

মঈনুদ্দিন খান বাদল জানান, অস্ত্র নিয়ে পাইলটের দিকে উদ্ধত হচ্ছিলেন ওই সন্ত্রাসী। ফলে ফ্লাইটটি দ্রুত অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন পাইলট এবং ক্রুরা।

তবে বিমানটিতে অবস্থানরত সব অনবোর্ড যাত্রীকে নিরাপদে বের করে নিয়ে আসা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিভিল এভিয়েশন সচিব মহিবুল হক জানান, বিমানটির মধ্যে সন্দেহভাজন একজন অস্ত্রধারী পাইলটসহ দুইজন ক্রুকে জিম্মি করে রেখেছে। ঘটনাস্থল থেকে একাধিক সূত্র বলছে, বিমানের বিজি-১৪৭ নম্বর ফ্লাইটটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা। কিন্তু উড্ডয়নের পরপরই এ ঘটনা ঘটে।

এরপরই দ্রুত ফ্লাইটের সব যাত্রীকে নামিয়ে দেয়া হয়। বিমানটি রানওয়েতে অবস্থান করছে এবং সেটি ঘিরে রেখেছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

বিমানবন্দরের একাধিক সূত্র বলছে, যাত্রীদের নামিয়ে আনলেও দুইজন ক্রু প্লেনের ভেতরে রয়েছেন। ঘটনাস্থলে ছুটে গেছে ফায়ার সার্ভিসও।

সূত্র জানায়, বিমানটি রোববার বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে জরুরি অবতরণ করা হয়। বিমানবন্দরের একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে সেখানে বিমান ওঠানামা বন্ধ রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, বিমানের ভেতরে অস্ত্রধারীরা রয়েছে।

বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ যুগান্তরকে বিমানের জরুরি অবতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে কাঁদলেন নওফেল

বাংলাদেশের প্রথম সড়ক সুড়ঙ্গপথ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ নির্মাণের কাজে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী খুবই আনন্দিত হতেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তার বক্তব্যে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

নিজের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের মেয়র ছিলেন। নদীর ওপর ব্রিজ করলে নদীর ক্ষতি হবে। তাই গণমানুষের এই নেতা কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের দাবিতে আন্দোলনও করেছিলেন। আজ কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে। তিনি থাকলে অত্যন্ত আনন্দিত হতেন। বাংলাদেশের অনেক আন্দোলন সংগ্রামে তার অবদান রয়েছে। আজ আমি তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।

এ সময় মঞ্চে অন্যদের মধ্যে প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও ছিলেন। তখন তাকে চোখ মুছতে দেখা যায়।

এর আগে শনিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ১৯৫০ সালে পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার এক গোপন প্রতিবেদন নিজ বক্তব্যে পড়ে শুনাচ্ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। প্রতিবেদনে পাকিস্তানের তৎকালিন গোয়েন্দা সংস্থা উল্লেখ করেছিলো ভাষা সৈনিক শেখ মুজিব শর্ত সাপেক্ষ জেল থেকে মুক্ত হওয়ার চেয়ে নিজের মৃত্যুবরণকে বেশী পছন্দ করেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল যখন বক্তব্যটি রাখছিলেন তখন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। এসময় প্রধানমন্ত্রী চশমা খুলে কয়েকবার নিজের চোখও মুছেন। ব্যারিস্টার নওফেল তার বক্তব্য শেষ করার পরে প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে পাশের চেয়ারে বসিয়ে কিছুক্ষণ কথা বলেন।

Related Post