সেই অস্ত্রধারী নিহত- বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা ছিনতাইকারী আইন শৃংখলা বাহিনীর সাথে গোলাগুলিতে নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যাক্তির নাম মাহাদি বলে জানা গেছে।

এই ঘটনায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিংয়ে মেজের জেনারেল এস এম মতিউর রহমান (জিওসি ২৪ পদাতিক ডিভিশন) বলেন, মৃত্যুর আগে নিহত ছিনতাইকারী প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল বিমান ছিনতাইকারী। সে বাংলাদেশি এবং তার কাছে একটি পিস্তল ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। পাইলট কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা সুস্থ আছেন।

তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তির কাগজপত্র এবং অন্যান্য জিনিষপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। আগামীকাল সকল তথ্য জানানো হবে। প্রথমে বিমানের মধ্যে অভিযান চালালে কথিত ছিনতাইকারী আহত হয় এবং পরবর্তীতে মারা যান।

বিমানটি রবিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটা ২০ মিনিটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাত্রা করে। এরপর বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণ করে। বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ গণমাধ্যমকে বিমানের জরুরি অবতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আইন পরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিমানটিকে জরুরি অবতরণ করানো হয়। বিজি-১৪৭ নং ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল।

বিমানের ভিতরে দুই ক্রুদের জিম্মি করে রাখা হয়েছে। রানওয়েতে বিমান ঘিরে রেখেছে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ৪টি ইউনিট মোতায়েন রয়েছে।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদে জানা গেছে, চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজে অস্ত্রধারী সেই সন্ত্রাসীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরা।

বিমানটিতে অনবোর্ড যাত্রী ছিলেন সংসদ সদস্য এবং জাসদ নেতা মঈনুদ্দিন খান বাদল। তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিমান ছিনতাইকারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে চায়।

মঈনুদ্দিন খান বাদল জানান, অস্ত্র নিয়ে পাইলটের দিকে উদ্ধত হচ্ছিলেন ওই সন্ত্রাসী। ফলে ফ্লাইটটি দ্রুত অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন পাইলট এবং ক্রুরা।

তবে বিমানটিতে অবস্থানরত সব অনবোর্ড যাত্রীকে নিরাপদে বের করে নিয়ে আসা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিভিল এভিয়েশন সচিব মহিবুল হক জানান, বিমানটির মধ্যে সন্দেহভাজন একজন অস্ত্রধারী পাইলটসহ দুইজন ক্রুকে জিম্মি করে রেখেছে। ঘটনাস্থল থেকে একাধিক সূত্র বলছে, বিমানের বিজি-১৪৭ নম্বর ফ্লাইটটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা। কিন্তু উড্ডয়নের পরপরই এ ঘটনা ঘটে।

বর্তমানে সেখানে বিমান ওঠানাম বন্ধ রয়েছে। জানা যায়, বিমানটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাচ্ছিলো। বিমান থেকে যাত্রীদের নামিয়ে ফেলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ঢাকা থেকে উড্ডয়নের পরে বিভিন্ন কারণে পাইলটের মনে হয় উড়োজাহাজটি ছিনতাইয়ের আশঙ্কা আছে। এ কারণে শাহ্ আমানতে এটি জরুরি অবতরণ করে।

উড়োজাহাজের ভেতরে একজন যাত্রীর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তিনি বিদেশি কেউ একজন বলে এক যাত্রীর বরাতে জানিয়েছে দায়িত্বশীল সূত্র। তবে অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে ছিনতাইকারী বাংলাদেশি।

প্রত্যক্ষদর্শী এক যাত্রী জানান, অস্ত্র হাতে এক দুর্বৃত্ত ককপিটে ঢুকতে চাইলে পাইলটরা তাতে বাধা দেন। এ সময় একটি গুলির আওয়াজও তারা শুনতে পান। সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি নিজের বুকে বোমা বাঁধা আছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে চান।

সূত্রে জানা যায়, ভেতরে একটি গুলির শব্দ শোনা গেছে। কেউ একজন তাতে আহত হতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্রটি আরো জানায়, প্রথমে কেবিন ক্রুদের একজন ওই বিদেশি ব্যক্তিকে দেখে সন্দেহ করলে পাইলটকে জানান। পাইলট কোনও ঝুঁকি না নিয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে অবতরণ করার সিদ্ধান্ত নেন। ফ্লাইটে ক্যাপ্টেন ও বেশিরভাগ যাত্রী নিরাপদে নেমে যেতে পারলেও একাধিক ক্যাবিন ক্রু জিম্মি রয়েছেন বলে জানায় সূত্রটি।

রানওয়েতে বিমানটিকে ঘিরে রেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। র‌্যাব পুলিশ এপিবিএন সসদ্যরা রয়েছেন সেখানে। বাইরে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা হয় বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল হকের সঙ্গে। তিনি জানান, ভেতরে একজন কেবিন ক্রু ভেতরে রয়েছেন। কোনও গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর আমরা এখনো পাইনি।

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •