ঢাকা থেকে দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের ‘ময়ূরপঙ্খী’ উড়োজাহাজ ছিনতাই চেষ্টাকারী নিহত পলাশ আহমেদের সঙ্গে বিখ্যাত কয়েকজনের ছবি পাওয়া গেছে।

এলাকায় পলাশ নামে পরিচিত হলেও ঢাকায় তিনি মাহিবি জাহান নামে পরিচিত ছিলেন। পলাশের ফেসবকু আইডি থেকে জানা যায়, চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন ছিনতাইকারী পলাশ। পল্লীকবি জসিম উদ্দিনের বিখ্যাত কবিতা অবলম্বনে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘কবর’র সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। এ নিয়ে গত ২০১৭ সালের অক্টোবরে একটি ছবি দিয়ে ফেসবুকে পোস্টও দেন।

এছাড়া পলাশ আহমেদের ‘মাহিবি জাহান’ নামের ওই ফেসবুক আইডিতে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, নগরবাউল জেমস ও বলিউড অভিনেতা (খলনায়ক) আশিষ বিদ্যার্থী ও আমেরিকান এক পাইলটের সঙ্গে তোলা পলাশের চারটি ছবি রয়েছে।

সাকিবের সঙ্গে তোলা ছবিটি গত বছরের ৩১ আগস্ট পোস্ট করা হয়। ছবিতে পলাশের স্ত্রী চিত্রনায়িকা সিমলাকেও দেখা গেছে। ছবিটির ক্যাপশনে লেখা- ‘বউ আমি আর সালা বাবু সাকিব।’

মাহিবি জাহান আইডি থেকে একই বছরের ৮ জুন আরেকটি ছবি পোস্ট করা হয়। সেখানে বিমানের ভেতর বলিউড ছবির খলনায়ক আশিষ বিদ্যার্থীর সঙ্গে বসে আছেন পলাশ।

একই আইডি থেকে ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর আপ করা একটি ছবিতে শিল্পী জেমসের সঙ্গে পলাশকে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া একই বছরের ৫ নভেম্বর আমেরিকান এক পাইলটের সঙ্গে তার ছবি রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস লোকেশন দেওয়া ছবিতে ওই পাইলটকে পলাশের কাঁধে হাত রাখতে দেখা গেছে। তবে কে এই পাইলট স্ট্যাটাসে সেটি জানাননি পলাশ।

জানা গেছে, নিহত পলাশ আহমদ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ফিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামে পিয়ার জাহানের ছেলে। বিশিষ্টজনদের সাথে তার সম্পর্ক ছিলো। ছোটবেলা থেকেই তিনি পরিবারের অবাধ্য ছিল।

এদিকে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ছিনতাইচেষ্টায় কমান্ডো অভিযানে নিহত পলাশ র‌্যাবের অপরাধী ডাটাবেজের অন্তর্ভুক্ত। এক নারীকে অপহরণের ঘটনায় তিনি ২০১২ সালে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

সূত্র জানায়, ২০১২ সালের মার্চ মাসে পলাশ আহমেদ ও তার একজন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার অপরাধ ছিল সে একজন নারীকে অপহরণ করে ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিলেন।

র‌্যাবের ক্রিমিনাল ডেটাবেইজ অনুযায়ী তার জন্মসাল ১৯৯৪। অর্থাৎ ২০১২ সালে গ্রেফতারের সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর। সে সময় গ্রেফতারের পর নিজেকে বিবাহিত বলে দাবি করে পলাশ। শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি সমমানের। সে মাদরাসা বোর্ডের শিক্ষার্থী ছিল।

বিমান ছিনতাইকারী যুবকের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে, নায়িকা শিমলার সাথে ছিল রহস্যময় সম্পর্ক

বিমান ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত নিহতের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে । তার নাম পলাশ আহমেদ । তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় দুধঘাটা। বাবার নাম পিয়ার জাহান।

রোববার চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বিমান ছিনতাইয়ের নাটকীয় ঘটনার পর প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে সোমবার সকালে হাজির হয় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা । সকল তথ্য সংগ্রহ করতে এখনো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার অনেকেই।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, এলাকার সোনারগাঁ উপজেলার দুধঘাটার অনেকের ভাষ্য জানা যায়, বাবার একমাত্র ছেলে পলাশ আহমেদ স্থানীয় তাহরপুর মাদরাসা থেকে ২০১১ সালে দাখিল পাশ করার পর মাদরাসার নিয়ম নীতি রহস্যজনক কারণে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে শর্ট ফিল্মের সাথে জড়িয়ে পড়ে । এ থেকেই অনেক শর্ট ফিল্ম করলেও সাফল্যের মুখ দেখেনটি পলাশ।

প্রকৃত নাম পলাশ হলেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নাম ব্যবহার করে এলাকায় নায়ক নায়িকাদের নিয়ে বাড়ি আসতেন। এতে পরিবারে লোকজন পলাশ আহমেদের উপর প্রচণ্ডভাবে রাগান্বিত ছিল। গত শনিবার রাতে পলাশ নিজের মোবাল ফেলে বাড়ির সিমকার্ড ও মোবাইল নিয়ে দুবাই চলে যাচ্ছেন বলে বের হয়ে যান ।

সকালে পুলিশ প্রশাসনের অনেকেই বিমান ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত নিহত পলাশের বাড়ি উপস্থিত হলে টনক নড়ে দুধঘাটা এলাকার সকলেই ।

এলাকার রহিম মুন্সী নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, এই পলাশই বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন নামে পরিচয় দিতো। বাবা পিয়ার জাহান মুদি দোকানদার হলেও পলাশ নায়ক নায়িকাদের নিয়ে এলাকায় শো ডাউন করতো। তার চাল চলন ছিল রহস্যেঘেরা।

নায়িকা শিমলার জন্য পরাশ ছিল পাগল। বাড়িতেও নায়িকা শিমলাকে বিয়ে করবে বলে জানাত। কিন্তু বাড়ির কেউ এ বিয়েতে রাজি ছিল না। নায়িকা শিমলা প্রায়ই সোনারগাঁয়ের দুধঘাটায় পরাশের বাড়িতে আসতো।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় পলাশ আহমেদের বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য দেয়া উচিৎ হবে না। ঢাকা থেকেই ব্রিফিং করা হবে।

Related Post