কাশ্মীরের পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারত পাকিস্তান সীমান্ত। এরই মধ্যে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সার্জিকাল স্ট্রাইক চালালো ভারত। মিরাজ ২০০০ বিমানের সাহায্যে ক্রমাগত হামলা চালায় ভারতীয় বিমান সেনারা। বালাকোটে বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটায় ভারতীয় যুদ্ধবিমান। এ হামলায় প্রায় ৩০০ ‘জঙ্গি’ প্রাণ হারিয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম।

এদিকে, ভারতের এমন আকস্মিক হামলার পর জরুরি বৈঠক তলব করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছেন তিনি।

এর আগে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতীয় যুদ্ধবিমান সে দেশের মাটিতে প্রবেশ করলে পাকিস্তানে সেনা দ্রুত জবাব দেওয়ায় ফিরে এসেছে ভারতীয় যুদ্ধবিমান।

এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রে মোদিকে বোমা মেরে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। দিল্লির বুরাড়ি এলাকায় ১০০ নম্বরে দিল্লি পুলিশের কাছে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে দিল্লির পুলিশ প্রশাসনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এক ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করেছে। জানা গেছে, এই ব্যাক্তির নাম অরুণ। ওই ব্যাক্তি মদ্যপ অবস্থায় পুলিশকে ১০০ নম্বরে ফোন করেছেন বলেই তদন্তে জানতে পারেন পুলিশ কর্তারা।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি পুলিশকে জানায়, বাড়িওয়ালার তার সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল। সেই রাগে সে মদ্যপান করে। আর তাতেই নেশাগ্রস্ত হয়ে পুলিশকে ফোন করে প্রধানমন্ত্রীকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পর সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঘাঁটিতে’ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করছে ভারত। অন্যদিকে, এ হামলায় ভারত পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি পাকিস্তানের। তারা বলছে, পাকিস্তানের বিমানবাহিনী ভারতের বিমানবাহিনীকে আক্রমণ করতে না দিয়ে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য করেছে।

তবে ১৯৭১ সালের পর পাকিস্তানের আকাশে ঢুকে এটাই ভারতের বিমান বাহিনীর প্রথম অভিযান। ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারি বাজপেয়ী পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে আকাশপথে হামলা পরিচালনা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ওই সময় ভারত নিজেদের আকাশসীমায় থেকে যুদ্ধবিমান মিরাজ-২০০০ ব্যবহার করেছিল কার্গিল পাহাড়ে।

গোখেল বলেছেন, আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য ছিল যে, জয়েশ-ই-মোহাম্মদের সদস্যরা ভারতে ফের হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সে জন্যই জয়েশের বৃহত্তম এই ঘাঁটিতে অভিযান চালানো জরুরি হয়ে পড়েছিল।

Related Post