রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেছেন গুরুতর অসুস্থ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এখনও শঙ্কামুক্ত নন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন ওবায়দুল কাদের।

রোববার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।

তবে তার শারীরিক পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি ঘটছে জানিয়ে তার সুস্থতার ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।

রোববার (৩ মার্চ) বিকেল পৌনে ছয়টায় বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ওবায়দুল কাদেরের স্বাস্থ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে ব্রিফিং করেন চিকিৎসকরা। ব্রিফিংয়ে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডা. আলী আহসান, ডা. অসিত বরণ অধিকারী সহ অন্যান্য চিকিৎসকরা।

এ সময় চিকিৎসকরা বলেন, এখনও চোখের পাতা নড়ছে ওবায়দুল কাদেরের। পাশাপাশি তিনি চিকিৎসকদের ডাকে অল্প অল্প সাড়াও দিচ্ছেন বলে জানান তারা।

চিকিৎসকরা বলেন, রোববার সকাল সাতটা ৫০মিনিটে হাসপাতালে নিয়ে আসার কয়েক মিনিট পরই হার্ট অ্যাটাক হয় ওবায়দুল কাদেরের। এরপর তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেয়া হলে তার অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হয়। এরপর তার এনজিওপ্লাস্ট করা হয়। তার হার্টে ব্লক ধরা পরে। সেখানে রিং পরানো হয়।

ওবায়দুল কাদের বর্তমানে ‘রিপারভিশন ইনজুরি’ অবস্থায় রয়েছেন উল্লেখ করে চিকিৎসরা জানান, এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে ওবায়দুল কাদেরের কমপক্ষে ৬ থেকে আট ঘণ্টা সময় লাগবে। এরপর বোঝা যাবে তার অবস্থা আসলে কি।

তবে তিনি এখনও সাড়া দিচ্ছেন উল্লেখ করে চিকিৎসরা বলেন, তিনি ইমপ্রুভ করছেন। তবে এখনও শঙ্কামুক্ত নন। আরও ১২ ঘণ্টা পর বোঝা যাবে তার অবস্থা কি।

এদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হচ্ছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএসএমএমইউ এর ভিসি ড. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, চিকিৎসকরা যদি মনে করেন তাকে পাঠানো যাবে, তাহলে তাকে পাঠানো হবে।

তাছাড়া সিঙ্গাপুরে পাঠানোর জন্য তার শরীরের পরিস্থিতি উপযুক্ত কি না তাও যাচাই করে দেখবেন চিকিৎসকরা। যদি চিকিৎসকরা ক্লিয়ারেন্স দেন তাহলেই তাকে সিঙ্গাপুর পাঠানোর জন্য বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসকদের একটি টিম ঢাকা আসছে উল্লেখ করে কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, তারপরও যে টিম সিঙ্গাপুর থেকে আসছেন তারা যদি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে যে কোনো সম্ভাব্য জটিলতায় সেই পরিস্থিতি সামলানোর মতো ব্যবস্থা থাকে, এবং আমরা চিকিৎসকরা যদি এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত হই, একমাত্র তাহলেই ওবায়দুল কাদেরকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর পাঠানো হবে।

এ সময় বিএসএমএমইউ ভিসি কনককান্তি বড়ুয়া ওবায়দুল কাদেরের দ্রুত সুস্থতার স্বার্থে অযথা হাসপাতালে দর্শনার্থীদের ভিড় না করার জন্য অনুরোধ করেন। এ ব্যাপারে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে উল্লেখ করে কনক কান্তি বলেন, ‘স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, প্রয়োজনে আমাকেও তোমরা ঢুকতে দেবে না।’

কনক কান্তি বলেন, দর্শনার্থীদের থেকে রোগীর ইনফেকশনও হতে পারে। সেক্ষেত্রে জটিলতা বাড়বে। তাছাড়া সিসিইউ কিংবা আইসিইউতে থাকা অন্যান্য রোগীরাও সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছে। তারাও দর্শনার্থীদের থেকে ইনফেকশনের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ডাকে ‘সাড়া’ দেওয়ার চেষ্টা কাদেরের

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেছেন গুরুতর অসুস্থ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রোববার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।

তিনি বলেন, প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতালে আসার পর ওবায়দুল কাদেরকে ডাকেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে মিটমিট তাকানোর চেষ্টা করেন তিনি। এরপর যখন রাষ্ট্রপতি আসেন তখন পুরোপুরি তাকিয়েছেন তিনি।

সেতুমন্ত্রীর অসুস্থের খবর শুনে রাজশাহী থেকে ঢাকায় ফিরে সরাসরি হাসপাতালে ছুটে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকাল ৩টা ৩৩ মিনিটে বিএসএমএমইউতে পৌঁছেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে হাসপাতালে যান। এসময় ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসার সার্বিক বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে জানানো হয়।

আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, ফজরের নামাজের পর হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন ওবায়দুল কাদের। অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নিয়ে আসেন তার স্ত্রী ইশরাতুন্নেসা কাদের। তখনই তাকে হাসপাতালের সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হার্ট অ্যাটাক হয়।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের কার্ডিওলজির অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান জানিয়েছেন, এনজিওগ্রাম করার পর সেতুমন্ত্রীর আর্টারিতে ব্লক ধরা পড়ে। তিনটি রক্তনালীতে ব্লক ধরা পড়ে। তার অবস্থা আশঙ্কা মুক্ত নয়।

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •