পরিচয়ের আগেই তাহসানের – কলকাতার বাংলা ছবির জনপ্রিয় নায়িকা শ্রাবন্তী। ৮ মার্চ মুক্তি পেয়েছে এই গ্লামারাস নায়িকার ছবি ‘যদি একদিন’। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রযোজিত প্রথম কোনও সিনেমায় অভিনয় করলেন তিনি। ছবির প্রচারণায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। এ সময় শ্রাবন্তী জানিয়েছেন নানা অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার কথা।

তাহসানের সঙ্গে আগে পরিচয় ছিল কি-না জিজ্ঞেস করলে এই নায়িকা বলেন, পরিচালক রাজ যখন ‘যদি একদিন’ সিনেমার গল্প শোনায়। আমি চোখ-কান বুজে রাজি হয়ে যাই। তখন তাকে জিজ্ঞেস করি হিরোটা কে? রাজ বললেন, তাহসান। বাংলাদেশের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী।

তখন আমি দেখি আমার ফোনে তাহসানের তিন-চারটা গান আছে। আমি নিজে বাংলাদেশের গানের খুব ভক্ত, তাহসান, হাবিব, হৃদয়ের গান শুনতাম। বাংলাদেশের ভক্তরা আমাকে গান পাঠায়।

আমি বললাম, উনি গায়ক, অভিনয়ও করেন। রাজ বলল, হ্যাঁ অনেক ভালো অভিনয় করেন। বেশ ভালো ভালো নাটক করেছেন।

তাহসানের সঙ্গে প্রথম আলাপ প্রসঙ্গে শ্রাবন্তী বলেন, প্রথম দিন এসে তাহসানের সঙ্গে আলাপ হয়। ভাবলাম উনি খুব গম্ভীর। তাকে চুপচাপ থাকতে দেখে রাজকে বললাম, আমার সঙ্গে উনি অভিনয় করবেন, কথা না বললে ক্যামনে হবে।

রাজ বললেন, প্রথম দিন। আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।

তারপর সত্যিই বলছি কথা বলতে বলতে ও অভিনয় করার সময় ওনার থেকে অনেক কিছু শিখেছি। ডায়ালগ দেবার সময় কোন কোন জায়গায় আসলেই থামতে হবে তা ওনার থেকে ভালোভাবে শিখেছি। এতো সুন্দর, ধারাবাহিকভাবে উনি ডায়লগ বলতে পারেন, আমি অবাক হয়ে দেখতাম। নিজেকে ভাগ্যবান মনে হতো। এখানের এতো ভালো ভালো অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি।

বাংলাদেশের গায়কদের নিয়ে শ্রাবন্তী বলেন, এখানে অনেক মেধাবী শিল্পী আছে। ভালো গান করেন। কলকাতা থেকেও বেশি। আমরা কলকাতা থেকে পাগলের মতো বাংলাদেশি গান শুনি। আমার নিজের ফোনে অনেক বাংলাদেশি গান আছে।

ঢালিউড ও টালিউডে মিল অমিল নিয়ে তিনি বলেন, আমরা বাঙালি। আমাদের ভাষা বাংলা, ছবি করছি বাংলাতে। সবকিছু বেশ মিলে গেছে। দুই জায়গায় একই আন্তরিকতা।

অমিল হলো, এখানে এসে ডায়েট ভুলে গেছি। ভুলে গিয়ে প্রচুর খেয়েছি। বাসায় বানানো খাবার খেয়েছি। সবাই নিয়ে এসেছে, আর আমি খেয়েছি। এখানের মিউজিক্যালই সাউন্ড খুব ভালো লেগেছে।

বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত ‘যদি একদিন’ ছবিতে শ্রাবন্তীর বিপরীতে রয়েছেন তাহসান খান।

আরও অভিনয় করেছেন তাসকিন রহমান, সাবেরী আলম, ফখরুল বাশার মাসুম, মিলি বাশারসহ অনেকে। গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছে শিশুশিল্পী আফরিন শিখা রাইসা। পরিচালনা করেছেন মুহাম্মাদ মোস্তফা কামাল রাজ।

৮ ঘণ্টার বেশি ঘুমলে যে ৬টি কঠিন সমস্যায় পড়তে হয়

যারা সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করেন তারা প্রতিদিন কম পক্ষে ৮ ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকেন। কিন্তু কিছু মানুষ আছেন যারা অতিরিক্ত সময় ঘুমিয়ে কাটান। ঘুম কম হওয়ার মতোই অতিরিক্ত ঘুম শরীরের উপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

আমরা আপনাকে এমনই ৬টি সমস্যার কথা জানাবো যা অতিরিক্ত ঘুমলে সৃষ্টি।

৬. ওজন বেড়ে যায়

অনেক গবেষণায় এ কথা প্রমাণিত যে, কম ঘুমের মতোই অতিরিক্ত ঘুমের সাথে ডায়াবেটিস এবং ওজন বৃদ্ধির সরাসরি সংযোগ রয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, যারা ৮ ঘণ্টার বেশি ঘুমান ৬ বছরের মধ্যে তাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে যারা ৭-৮ ঘণ্টার মতো ঘুমান তাদের শরীর কম ঝুঁকিতে থাকে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত ঘুমলে আমাদের শরীরে নড়াচড়া কম হয় এবং শরীর তার অতিরিক্ত ক্যালোরি ব্যয় করতে পারে না বলে ওজন বড়তে শুরু করে। অতিরিক্ত ঘুমলে দেরি করে ঘুম থেকে উঠবেন এটাই স্বাভাবিক। এতে অন্যান্য কাজের ভীরে ব্যায়ামের সময় হারিয়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে বেশি ঘুমানোর কারণ ৬ বছরের মধ্যে ওজন বেড়ে যেতে পারে। যারা ৯-১০ ঘণ্টা ঘুমান তাদের ২৫ ভাগের ওজন বেড়েছে। এমনকি খাবার গ্রহণে সতর্কতা ও শারীরিক কসরত সত্ত্বেও স্থূলতা রোধ করা যায়নি।

৫. বিষণ্ণতায় ঘিরে ধরে

২০১৪ সালে প্রাপ্তবয়স্ক যমজদের উপর একটি গবেষণা চালানো হয়। এতে দেখা যায় দীর্ঘ সময় ঘুমলে বিষণ্ণতার ঝুঁকি বাড়ে। ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমানো ব্যক্তিদের ২৭ ভাগের মধ্যে বিষণ্ণতার লক্ষণ দেখা গেছে। আর যারা ৯ ঘণ্টা বা বেশি ঘুমিয়েছেন তাদের ৪৯ ভাগে বিষণ্ণতার লক্ষণ পাওয়া গেছে। ২০১২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে বয়স্ক নারীদের মধ্যে যারা কম বা বেশি ঘুমান, তাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

৪. হৃদরোগ

অতিরিক্ত ঘুমের কারণে শুধু মূল্যবান সময়ই আপনি নষ্ট করছেন না, আপনার হৃৎপিণ্ডকেও দুর্বল করে হৃদরোগের ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছেন। এখনকার দিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রবণতা খুব বেশি, এবং রাতে ৮ ঘণ্টার বেশি ঘুমনোর কারণে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর সম্ভাবনা ৩৪% বৃদ্ধি পায়। ২০১২ সালে আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির মিটিংয়ে জানানো হয়, ঘুমের সঙ্গে হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক রয়েছে। সেখানে ৩ হাজার ব্যক্তির তথ্য-উপাত্ত নিয়ে পরিচালিত গবেষণা ফলাফল জানানো হয়। এতে বলা হয় যারা রাতে ৮ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ঘুমায় তাদের ক্ষেত্রে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। যারা কম ঘুমায় তাদের চেয়ে এদের টন্সিলাইটিসের ঝুঁকি দ্বিগুণ ও করনারি আর্টারির ঝুঁকি ১.১ গুণ। যা কম বয়সে মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

৩. মাথাব্যথা

কম ঘুম হলে মাথাব্যথা হয়, কিন্তু অতিরিক্ত ঘুমলেও মাথাব্যথা হতে পারে। প্রতিদিন একজন ব্যক্তির ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। কিন্তু এর চেয়ে বেশি অর্থাৎ ৯ ঘন্টার বেশি ঘুমালে মাথাব্যথা হতে পারে। অতিরিক্ত ঘুমের ফলে মস্তিষ্কের সেরোটোনিনের মাত্রা কমে যায় বলে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ কমে যায় এবং মাথাব্যথা সৃষ্টি হয়।

২. স্মৃতি শক্তি কমে যায়

২০১২ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, বেশি সময় ধরে ঘুম বৃদ্ধ নারীদের মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। ছয় বছর সময়সীমার মাঝে দেখা যায়, যাদের ঘুমের পরিমাণ বেশি তাদের মস্তিষ্কের ক্ষমতা অন্যদের চাইতে দ্রুত হ্রাস পায়। যার প্রভাব পড়ে স্মৃতি শক্তির উপর। যারা দিন ভর ঘুমন তাদের স্মৃতি শক্তি অন্যদের তুলনায় কমতে থাকে।

১. অনিদ্রা

শুনতে আশ্চর্য লাগলেও অনিদ্রার মূল কারণ অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস এবং ঘুম। যেমন, আপনি যদি রাতে দীর্ঘসময় কম্পিউটার অথবা ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন এবং পরের দিন অনেক সময় নিয়ে ঘুমনোর পরিকল্পনা করেন তাহলে আপনি অনিদ্রায় আক্রান্ত হতে পারেন। মাত্র ২ দিনের অনিয়মই আপনার দেহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এলোমেলো হয়ে যাবে এবং অনিদ্রা বা অতিনিদ্রার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অতিরিক্ত ঘুম থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কী?

আমরা যারা নিজেদের এবং আশেপাশের লোকজনের এই অতিরিক্ত ঘুমানো নিয়ে বিরক্ত, তারা প্রায় সবাই এর থেকে বের হয়ে আসার উপায় খুঁজে থাকি। এ ব্যাপারে বিভিন্ন মতামত খুঁজে পাওয়া যায়। উল্লেখযোগ্য এবং সাহায্য করতে পারে এমন কয়েকটি মত এখানে তুলে ধরা হলো।

১. আপনার কখন ঘুম থেকে ওঠা জরুরি তার উপর ভিত্তি করে ১-২টি অ্যালার্ম ঠিক করে রাখুন। প্রতিদিন একই সময় ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন।

২. অ্যালার্ম ঘড়িটি হাতের থেকে দূরে রাখুন। এতে অ্যালার্ম বন্ধ করার জন্য হলেও আপনাকে বিছানা ছেড়ে ওঠা লাগবে।

৩. যখন অ্যালার্ম বাজবে তখনই উঠে পড়বেন। ৫ মিনিট বেশি ঘুমানোর জন্য আপনার ১ ঘণ্টার দেরি হয়ে যেতেই পারে!

৪. খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে আমরা অনেকেই নাস্তা করতে চাই না। কিন্তু বলা হয়, যদি আপনি ঘুম থেকে ওঠার ৩০ মিনিটের মধ্যে সকালের নাস্তা সেরে ফেলেন, তাহলে আপনি সারাদিনের জন্য কিছু বাড়তি শক্তি পাবেন এবং এটি আপনাকে রাতে ভালো মতো ঘুমাতেও সাহায্য করবে।

৫. রাতে ১-২ ঘণ্টা সময়ের ব্যবধানে একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিদিন শুয়ে পড়বার চেষ্টা করবেন।

৬. সাধারণত সপ্তাহের বন্ধের দিন আমরা একটু বেশি ঘুমাই। এই অভ্যাসটি না করাই ভালো। এটি আপনার নিয়মিত ঘুমের ধারায় ব্যাঘাত আনতে পারে।

৭. নিয়মিত ব্যায়াম করুন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান। এটি আপনার শরীর ও মন ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

৮. সকালের সূর্য দেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৯. কোনো প্রকার দুশ্চিন্তা বা হীনম্মন্যতার মধ্যে থাকলে তার আসল কারণ খুঁজে বের করুন। এটি কীভাবে সমাধান করা যায় তা আগে ঠিক করুন। কারণ দুশ্চিন্তা আর হীনম্মন্যতা আপনাকে ঠিকমতো ঘুমাতে দেবে না।

এগুলো ছিলো অতিরিক্ত ঘুমানোর অভ্যাস থেকে নিজেকে রক্ষা করার কিছু উপায়। তবে বড় ব্যাপার হলো, এখানে নিজের ইচ্ছাশক্তি সবথেকে বেশি কাজ করে। আপনি যদি এই বদভ্যাস ত্যাগে নিজে উদ্যোগী না হয়ে থাকেন, তবে কেউ আপনাকে সাহায্য করতে পারবে না।

Related Post

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *