মার্চ থেকে চালু হচ্ছে- ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য আরও একটি সুখবর রয়েছে। এখন থেকে কলকাতা যাওয়া যাবে নৌপথে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আগামী ২৯শে মার্চ থেকে ঢাকার পাগলা মেরিএন্ডারসন জেটি থেকে রাত ৯ টায় এম ভি মধুমতি জাহাজটি ছেড়ে যাবে। জাহাজটি বরিশাল-মংলা-সুন্দরবন-আন্টিহারা-হলদিয়া রুট হয়ে কলকাতায় প্রবেশ করবে।

কেবিন ভাড়া তালিকা

ফ্যামিলি স্যুট (দুইজন)= ১৫০০০ টাকা
প্রথম শ্রেণি (যাত্রী প্রতি)= ৫ হাজার
ডিলাক্স শ্রেণি (দুইজন)= ১০ হাজার

ইকোনমি চেয়ার= ৮ হাজার
সুলভ শ্রেণি/ডেক (যাত্রী প্রতি)=১৫০০ টাকা।
এই সার্ভিস পরীক্ষামূলকভাবে চলবে বলে জানানো হয়।

বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বাংলাদেশে ওঠা-নামা করতে পারবে না

ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস ও লায়ন এয়ারের ম্যাক্স উড়োজাহাজের দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো এয়ারলাইনসকে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ মডেলের উড়োজাহাজ কেনা বা লিজের অনুমতি দেবে না বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

এ সময় পর্যন্ত দেশের কোনো বিমানবন্দরে ম্যাক্স সিরিজের কোনো এয়ারক্রাফটকে অবতরণ ও উড্ডয়নে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানায় বেবিচক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেবিচক পরিচালক (ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশন) উইং কমান্ডার চৌধুরী এম জিয়াউল কবির।

বুধবার সকালে তিনি বলেন, বোয়িং-৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজের সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর বিষয়টি নজরে রেখেই বেবিচক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আকাশসীমায় ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ নিষিদ্ধের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বেবিচক। বিধ্বস্ত এয়ারক্রাফট দুটির তদন্ত শেষে বেবিচক এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

জানা গেছে, বিশ্বের সর্বাধুনিক এয়ারক্রাফট হিসেবে আগামী বছর বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ যুক্ত হওয়ার কথা ছিল দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি একটি এয়ারলাইনসের বহরে। যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক এয়ারক্রাফট লিজিং কোম্পানি এয়ারক্যাপ মিলে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স সরবরাহ করার কথা থাকলেও এখন আর সেটি হচ্ছে না।

এয়ারক্যাপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার ফিলিপ স্ক্রাগস, লিজিং কোম্পানির প্রতিনিধি সুতেশ সেলভারাতনাম, বোয়িং কোম্পানির ডিরেক্টর সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং আহসেন রাজপুতসহ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনন্সের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

রেগুলেটরি বডি বেবিচকের নিষেধাজ্ঞার ফলে ওই এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হচ্ছে না এয়ারক্রাফটি।

খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই দুর্ঘটনার পর ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ক’দিন ধরে একের পর এক বিভিন্ন এয়ারলাইনস বহরে থাকা ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ সিরিজের উড়োজাহাজ গ্রাউন্ডেড করেছে।

এর মধ্যে সিঙ্গাপুর, চীন, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া ও অস্ট্রেলিয়া রয়েছে। এ ছাড়া ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস, ব্রিটিশ কেইম্যান এয়ারওয়েজ, সাউথ আফ্রিকার কোমএয়ার, ব্রাজিলের গোল এয়ারলাইনস, মেক্সিকোর অ্যারোমেক্সিকো ও আর্জেন্টিনার অ্যারোলিনেয়াস আর্জেন্টিনাস,

নরওয়েজিয়ান এয়ার, টুই এয়ারওয়েজ, শেনজেন এয়ারলাইনস, এয়ার চায়না, চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস, চায়না সাউদার্ন, হাইনান এয়ারলাইনস, সাংহাই এয়ারলাইনস, জিংমেন এয়ারলাইনস, শ্যানডং এয়ারলাইনস,

ওকে এয়ারওয়েজ, কুনমিং এয়ারলাইনস, গরুড় ইন্দোনেশিয়া, লায়ন এয়ার ও সিল্ক এয়ার তাদের বহরের বোয়িং-৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজের সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। অসংখ্য এয়ারলাইনস বোয়িং-৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজের দেয়া অর্ডার বাতিল করতে শুরু করেছে।

ডাবল চুলায় ১৪৪০ টাকা করতে চায় তিতাস

বিশ্ব অর্থনীতির প্রভাবে দেশের শিল্পখাতে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ব্যবসায় মুনাফার হার কমছে। এর মধ্যে বার বার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আবার গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে শিল্প খাতের বিকাশ রুদ্ধ হবে।

দেউলিয়া হয়ে যাবেন উদ্যোক্তারা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে। তাই গ্যাসের মূল্য যৌক্তিক হওয়া উচিত। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি বা কমানোর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা উচিত।

গতকাল মঙ্গলবার তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির প্রস্তাবিত গ্যাসের দাম বৃদ্ধির আবেদনের গণশুনানিতে শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা এসব কথা বলেছেন। রাজধানীর টিসিবি মিলনায়তনে এই শুনানির আয়োজন করে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। শুনানিতে কমিশনের চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম, সদস্য মিজানুর রহমান, মাহমদুউল হক ভুঁইয়া, রহমান মুর্শেদ, আব্দুল আজিজ খান উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে চাইলে শিল্পে কর্ম সংস্থান ছাড়া বিকল্প নেই। এজন্য ৭০ বিলিয়ন ডলার অর্থ প্রয়োজন। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে মজুরি ও অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উদ্যোক্তাদের ২৯ ভাগ ব্যয় বেড়েছে।

এখন আবার গ্যাসের দাম বাড়ালে উদ্যোক্তারা দেউলিয়া হয়ে যাবে। শিল্প উদ্যোক্তা তৈরি হবে না। এতে কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হবে। তাই গ্যাসের দাম বাড়ানো উচিত নয়। এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দিলেও সরকারের স্বল্প মেয়াদি শিল্পনীতি বেশ অগোছালো।

তবে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নীতি ভালো। শুধু দাম বাড়ানোর সময় তাদের ডাকা হবে আর বিশ্ববাজারে দাম কমলে কমানোর কোনো উদ্যোগ নেয়া হবে না, এই চর্চা ঠিক নয়।

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আবেদন করার পর শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সবেমাত্র গ্যাস সংযোগ পেতে শুরু করেছে। এসময়ে দাম বৃদ্ধি কার স্বার্থে? গণশুনানি হাস্যকর। সারা বিশ্বে তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে জ্বালানির দাম কমেনি।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশন-বিটিএমএ’র সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, পোশাক খাত যে ৪০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করছে তার পেছনে তাদের ১৭ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে।

বার বার গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে কিন্তু তারা দুই তিন বছর থেকে যে ইভিসি (ইলেকট্রিক ভলিউম কারেকটর) মিটার চাইছেন তা দেওয়া হচ্ছে না। ফলে গ্যাসের নিম্নচাপ, অপর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের পরও অতিরিক্ত বিল দিতে হচ্ছে। এতে উত্পাদন খরচ বাড়ছে। এখন আবার গ্যাসের দাম বাড়লে শিল্প প্রতিষ্ঠানের চাবি বিইআরসির কাছে দিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।

কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, আগামী এপ্রিলে নতুন এলএনজি আসতে পারবে না। এই বিষয়টি সরকার যেমন জানে, বিইআরসিও বোঝে যে গ্যাস আসেইনি তার ওপর ভিত্তি করে দাম বাড়ানোর উদ্যোগ অযৌক্তিক ও অন্যায়।

তিনি বলেন, এলএনজির জন্য সরকারকে প্রতি ঘনমিটারে এক টাকা করে ভর্তুকি দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সে অর্থ দেওয়া হয়নি। জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিলে সাত হাজার ৫০০ কোটি টাকা পড়ে আছে।

সরকার যতদিন অর্থ না দেয় ততদিন এই তহবিল থেকে ঋণ দিয়ে এলএনজির ব্যয় নির্বাহ করা যায়। সরকার বলছে ধারাবাহিকভাবে ৪৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি আসবে। এতে কি পরিমাণ ব্যয় বাড়বে তা ভোক্তার জানা উচিত।

গতকাল সকালে তিতাস গ্যাসের ও বিকালে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তিতাস গড়ে ১০২.৮৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। সংস্থাটি বাসা বাড়িতে একচুলার বর্তমান দর ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫০টাকা, দুই চুলার ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪৪০ টাকা করার আবেদন করেছে।

কোম্পানিটি বিদ্যুতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম তিন টাকা ১৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে নয় টাকা ৭৪ পয়সা, সিএনজিতে ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ টাকা, আবাসিকের প্রি-পেইড মিটারে নয় টাকা ১০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৬ টাকা ৪১ পয়সা, সার উত্পাদনে দুই টাকা ৭১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে আট টাকা ৪৪ পয়সা, ক্যাপটিভ পাওয়ারে নয় টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৮ টাকা চার পয়সা, শিল্পে সাত টাকা ৭৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৪ টাকা পাঁচ পয়সা, বাণিজ্যিকে ১৭ টাকার পরিবর্তে ২৪ টাকা পাঁচ পয়সা করার প্রস্তাব করেছে।

একই সঙ্গে বিতরণ চার্জ বাড়ানোর জন্যও প্রস্তাবনা দিয়েছে। তিতাস বিদ্যমান বিতরণ চার্জ ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে চলতি অর্থবছরে ৫৩ পয়সা এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৫ পয়সা করার আবেদন জানিয়েছে।

তবে বিইআরসির মূল্যায়ন কমিটি বলেছে, চলতি অর্থবছর সমাপ্তির পর প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে তিতাসের বিতরণ চার্জ বাড়ানো যৌক্তিক হবে। ঢাকা ও এর নিকটবর্তী ১৪টি জেলায় গ্যাস বিতরণ করে তিতাস।

শুনানিতে অংশ নিয়ে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি একই হারে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির আবেদন করেছে। তারা বিতরণ মার্জিন ২৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে চলতি অর্থবছরে এক টাকা ২৫ পয়সা এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে এক টাকা ৩০ পয়সা করার আবেদন জানিয়েছে।

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *