শিক্ষামন্ত্রীর সাথে সেলফি- শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের মতো গুরুগম্ভীর বিষয়ে আলোচনার মধ্যে অনুমতি ছাড়াই শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সাথে সেলফি তুলতে যান একজন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা। শিক্ষামন্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই সেলফি তুলতে গিয়ে বিরক্তির উদ্রেক করেন শিক্ষা ক্যাডারের অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানেই এ ঘটনা ঘটান অধ্যাপক লুৎফর। কারিকুলাম পরিবর্তন, পাঠ্যবইয়ের ভুল সংশোধনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন মন্ত্রী।

পাঠ্যবইয়ের জন্য বোনাসও দিয়েছেন। বেলা ২টা থেকে প্রায় তিনঘণ্টা এনসিটিবিতে ছিলেন মন্ত্রী। বেলা আড়াইটার দিকে ২য় তলার সভাকক্ষে হঠাৎই মন্ত্রীর পাশে গিয়ে সেলফি তোলা শুরু করেন অধ্যাপক লুৎফর রহমান। এতে বিরক্ত হন শিক্ষামন্ত্রী। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্কুলজীবনেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আসেন ভিপি নুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে বিজয়ী হয়েছেন কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর। তাকে অনেকেই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী নেতা হিসেবে চেনে। নুরের বাবা ইদ্রিস হাওলাদার বর্তমানে কৃষি কাজের পাশাপাশি উপজেলার চর বিশ্বাস ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বুধবার বাজারে একটি চায়ের দোকান দিয়ে সংসার চালান।

১৯৯১ সালে নুরে বাবা ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই সময় তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও গত ১০ বছর তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। তবে তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় সমর্থক বলে জানান স্থানীয়রা আওয়ামী লীগের নেতারা।

নুরের স্কুল শিক্ষক চর বিশ্বাস জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও চর বিশ্বাস ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বাড়ির পাশের মধ্য চর বিশ্বাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শেষ করে পার্শ্ববর্তী চর বিশ্বাস জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে নুর গাজীপুরে চলে যান।

আবু বক্কর আরও জানান, ৭ম শ্রেণিতে পড়ার সময় বিদ্যালয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় নেতা ছিল নুর। পরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর গোলাম নবী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। এরপর উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন।

চর বিশ্বাস ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জেল হোসাইন বাবুল জানান,নুরের বয়স যখন ৫ বছর তখন তার মা মারা যান। পরে নুরের বাবা দ্বিতীয় বিবাহ করে রাজনীতি ছেড়ে কৃষিকাজ করে সংসার চালান। বর্তমানে নুরের বাবা আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় সমর্থক এবং মিছিল মিটিংয়ে যোগ দিয়ে আমাদের সাথে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।

তিনি বলেন, নুর সব সময়ই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। বাড়িতে এলে স্থানীয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিত। চর বিশ্বাস ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাতেম আলী মাস্টারের মেয়ে মরিয়ম আক্তারকে বিয়ে করেন নুর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর নুর থাকতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে। এই হল ছাত্রলীগের মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদকও ছিলেন তিনি। পরে কোটা সংস্কার আন্দোলনে জড়িয়ে ছাত্রলীগ থেকে ছিটকে পরেন ভিপি নুর।

ছেলের ডাকসুর ভিপি হওয়ার খবর শুনে তিনি বলেন, ছেলের বিজয়ে আমার এলাকার সর্বস্তরের জনগন খুব খুশি। এ বিজয় আপনাদের সকালের। আমরা গর্বিত। আমার ছেলে ভবিষ্যতে যাতে বড় কিছু হতে পারে তার জন্য সবাই দোয়া করবেন।

ডাকসু নির্বাচন বাতিলে তিন দিনের আল্টিমেটাম নুরদের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন আগামী শনিবারের (১৬ মার্চ) মধ্যে বাতিলের দাবি জানিয়েছে নির্বাচন বর্জন করা পাঁচটি প্যানেল। পাশাপাশি পুনঃতফসিল ঘোষণার মাধ্যমে নতুন করে ভোটের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে তারা।

বুধবার দুপুর ২টার দিকে তারা উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করে এ দাবি জানান ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল।এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন ডাকসু নির্বাচন বর্জন করা ৫ টি প্যানেলের নেতারা। এসময় তারা ডাকসু নির্বাচন বাতিল ও পুনর্নির্বাচন দাবিতে উপাচার্যকে স্মারকলিপিও দেন।

এর আগে আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে এক বক্তৃতায় কোটা আন্দোলনের নেতা ও ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ব্যাপক কারচুরির পরও ডাকসুর ২৫টি পদের মধ্যে দুটি পদে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদকে হারাতে পারেনি ছাত্রলীগ। আপনাদের ভোটে আমি ভিপি নির্বাচিত হয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগ মিলে আমার জয় আটকাতে পারেনি।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমি বলছি, আমি সাধারণ শিক্ষার্থী ও নির্বাচন বর্জনকারীদের সঙ্গে একমত। আমি ডাকসু নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচন দাবি করছি।

এর আগে ডাকসু নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে নির্বাচন বর্জন করা পাঁচ প্যানেল। পাঁচ প্যানেল হলো- ছাত্রদল, বামজোট, সাধারণ অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বতন্ত্র জোট।বুধবার সকালে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের দিকে যান।

সেখানে গিয়ে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করেন। তিন দিনের মধ্যে পুনঃতফসিল দাবি করে স্মারকলিপি দেন তারা।এ সময় তারা ডাকসু নির্বাচন বাতিল ও আবারও তফসিল ঘোষণার দাবিতে স্লোগান দেন।

এর আগে বুধবার সকাল থেকেই রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। সেখানে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বামজোটের নেতা লিটন নন্দী বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা রাজু ভাস্কর্য থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করব। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকায় মিছিলটি প্রদক্ষিণ করে ভিসি কার্যালয় গিয়ে তার কাছে স্মারকলিপি দেব।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্লাটফর্ম সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ফারুক বলেন, আগামী শনিবারের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনকে বাতিল করতে হবে এবং তিন দিনের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণা করতে হবে। নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে বাদ দিয়ে সৎ ও নিরপেক্ষ শিক্ষকদের নির্বাচনের দায়িত্ব দিতে হবে। দাবি না মানলে তারা রোববার থেকে ক্যাম্পাসে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

আর পরিষদের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ বলেন, ডাকসুতে ইতিহাসের কলঙ্কিত নির্বাচন হয়েছে। আমরা পুনরায় নির্বাচন চাই।পরে তারা মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের দিকে যান। সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে পাঁচ জোটের ১১ প্রতিনিধি পুনঃতফসিলের দাবিতে ভিসিকে স্মারকলিপি দিতে যান।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে দুটি ছাড়া সব পদে জয় পায় ছাত্রলীগ। ভোটের দিনই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করে ছাত্রলীগ ছাড়া সব প্যানেল। এরা হলো- ছাত্রদল, বামজোট, ইসলামী আন্দোলন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোট ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এর পর থেকে তারা পুনর্নির্বাচন দাবিতে বিক্ষোভ করছে। কর্মসূচিতে অংশ নেন লিটন নন্দী, উম্মে হাবিবা বেনজীর, অরণি সেমন্তি খানসহ শতাধিক শিক্ষার্থী।

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *