চেহারায় বয়সের ভাঁজ- বয়স কেবল সংখ্যামাত্র! এমন দাবি কি জোরের সঙ্গে করতে পারেন আপনি? না কি চামড়ার ভাঁজে, চেহারার গড়নে নানা ভাবে চোখে পড়ে বয়সের ছাপ?

বয়সকে তোয়াক্কা না করে কেবল শারীরিকভাবে সক্ষম থাকার চেষ্টা তো করতেই হবে, সঙ্গে চেহারাতেও যাতে বয়স থাবা বসাতে না পারে, নজর রাখা উচিত সে দিকেও।

রূপবিশেষজ্ঞদের মতে, চেহারা থেকে বয়সকে সরিয়ে রাখার জন্য যে সব সবজির উপর ভরসা করা যায়, তাদের মধ্যে অন্যতম করলা। কিন্তু জানেন কি, ঠিক কী উপায়ে করলা ব্যবহার করলে ত্বকের জন্য তা বিশেষ উপকারী হয়ে উঠবে? তাহলে জেনি নিন সেই নিয়ম।

১. করলায় রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। তাই চামড়ায় লালিত্য ধরে রাখতে সাহায্য করে এই সবজি। ত্বককে টানটান রাখতেও এর জুড়ি নেই। তাই প্রতি দিন করলা সেদ্ধ করে তাতে লেবু ও নুন যোগ করে খান। এতে ত্বকের জৌলুস বজায় থাকবে দীর্ঘ দিন।

২. করলার রসের সঙ্গে কমলালেবুর রস মিশিয়ে তা মুখে মাখলেও উপকার পাবেন। এই মিশ্রণ মুখে লাগিয়ে অপেক্ষা করুন কিছু ক্ষণ। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিন মুখ। মৃতকোষ ঝরিয়ে ত্বকে আলাদা উজ্জ্বলতা আনে এই মিশ্রণ।

৩. করলা রক্তের মধ্যেকার ক্ষতিকর পদার্থকে বিনষ্ট করে রক্তকে পরিশুদ্ধ রাখে। যার প্রভাব এসে পড়ে ত্বকেও। তাই ত্বক থেকে বয়সের ছাপ সরাতে ও ত্বককে সুন্দর রাখতে প্রতিদিন সকালে করলার রসও খেতে পারেন।

৪. করলার বীজ সরিয়ে, তা বেটে মুখে লাগান। সপ্তাহে তিন দিন এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করলেই ত্বকের যৌবন ফিরবে রাতারাতি।

বেলের শরবত, যে ফলের গুণের কথা বলে শেষ করা যায় না

রাস্তাঘাটে সবচেয়ে বেশী যে ফলটি চোখে পড়ে তার মধ্যে বেল একটি। ভিটামিন ‘এ’, আঁশ, ফাইবার, ভিটামিন ‘সি’ এর মত পুষ্টিগুণগুলো রয়েছে এতে। মৌসুমী এই ফলের গুণের কথা আসলে বলে শেষ করা যায় না।

শরীর ঠাণ্ডা করার পাশাপাশি ক্যান্সার পর্যন্ত প্রতিরোধ করে বেল। হজম শক্তি বাড়াতে বেলের ভূমিকা অগ্রগণ্য। পাইলস, এনাল ফিস্টুলা, হেমোরয়েড দূর করে বেল।

এতে থাকা ভিটামিন ‘সি’ রোগ প্রতিরোধ করে ও ভিটামিন ‘এ’ চোখের রোগ সারায়। দীর্ঘ দিনের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বেল বেশ উপকারী। ফাইবার বা আঁশ বেশী থাকায় হজমে সাহায্য করে। কোলনই ক্যান্সার, গ্লুকোমা জেরোসিস প্রতিরোধ করতে সক্ষম বেল। এছাড়া ত্বকের ব্রণ দূর করতেও খেতে পারেন বেল বা বেলের শরবত।

বেলের শরবত তৈরী করতে পাকা বেল চালনীতে চেলে বিচিগুলো আলাদা করে নিতে হবে। তারপর পরিমাণমতো পানিতে বেলের আঁশ ও চিনি দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। এবার বরফ কুঁচি দিয়ে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা পরিবেশন করুন বেলের শরবত।

জানেন, কতটুকু লবন খেলে নিরাপদ থাকবে আপনার শরীর?

লবন ছাড়া খাবার মুখে তোলা কঠিন। কিন্তু ঠিক কতখানি লবন শরীরের জন্য ভালো? অতিরিক্ত লবন যেমন খাবারকে বিস্বাদ করে তোলে তেমনই ক্ষতি করে শরীরেও। উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা, কিডনির সমস্যা-সহ নানা অসুখ লবনের হাত ধরেই বাসা বাঁধে শরীরে।

কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না ঠিক কতখানি লবন আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজন। এক এক জন মানুষের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ তাদের শারীরিক অবস্থা বুঝে এক এক রকম হয়।

তবে এক জন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের শরীরে লবনের পরিমাণ ঠিক কতখানি হলে তা বিপদসীমা ছাড়ায় না তা নিয়ে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’-র একটি নির্দেশিকা রয়েছে। তা জানার আগে আসুন দেখা যাক, লবন নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলি ঠিক কতটা সতর্কতার কথা জানাচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, মাত্রাতিরিক্ত লবনে রক্তচাপ তো বাড়েই, তা ছাড়াও ডেকে আনে আরও নানা অসুখ। আমেরিকান হেলথ অ্যাসোসিয়েশন-এর গবেষকদের দাবি, শরীরে জল ধরে রাখা লবনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। লবনের পরিমাণ বেড়ে গেলে শরীরে অতিরিক্ত জল জমে যায়, এতে ব্রেনস্ট্রোকের ভয় থেকে যায়।

মূত্রের মাধ্যমে বাড়তি লবন শরীর থেকে বার করে। কিন্তু কিডনির কোনও সমস্যা থাকলে সেই বাড়তি লবন শরীর থেকে বেরতে না পেরে মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত লবনে ক্ষয়ে যেতে থাকে হাড়ের ক্যালসিয়াম। তাই অস্থিসন্ধি ও হাড়ের নানাবিধ অসুখে প্রত্যক্ষ ভাবে লবনের ভূমিকা আছে।

আমেরিকান হেলথ রিসার্চ ইনস্টিটিউট-সহ বিশ্বের বিভিন্ন স্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থা এর আগে বহু বার দাবি করেছে, কাঁচা লবন মস্তিষ্কের নিউরোনকেও প্রভাবিত করে। এর প্রভাবে কোলন ক্যানসার ও পাকস্থলীর ক্যানসারের মতো মারণরোগও বাসা বাঁধতে পারে শরীরে। শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক সময় এই অতিরিক্ত লবন মূল ভূমিকা পালন করে।

লবনের সোডিয়াম যে কেবল কিডনি বা যকৃতের ক্ষতি করে এমনই নয়, ওবেসিটি বা মেদবাহুল্যের জন্যও লবন অনেকটাই দায়ী। হার্টের নানা অসুখ, বিশেষ করে ইস্কিমিয়ায় ভোগেন এমনন মানুষদের জন্য অতিরিক্ত লবন ক্ষতি করে। এ ছাড়াও অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের জন্যও অতিরিক্ত লবন ভালো নয়, এর প্রভাবে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় যা তাঁদের অন্তঃস্থ ভ্রূণের উপর প্রভাব ফেলে।

তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, লবনের পরিমাণ যেমন কমে গেলে সমস্যার, তেমনই তা বেড়ে গেলেও শরীরের প্রভূত ক্ষতি। তাই তাদের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী, প্রতি দিন দু’গ্রাম বা হাফ চা চামচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখুন লবনের পরিমাণ। এড়িয়ে চলুন কাঁচা লবনও।

Related Post

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *