প্রধানমন্ত্রীকে ১০০ কেজি ওজনের ছাগল উপহার দিতে চাওয়া সেই ছাগল মালিক ইসমাইল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে মহিষকুন্ডি বাজার থেকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় তাকে আটক করা হয়। বুধবার তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার গ্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি গ্রামের মৃত সামছুদ্দিন মন্ডলের ছেলে ইসমাইল হোসেন তার মাকে সঙ্গে নিয়ে ১০০ কেজি ওজনের ছাগল উপহার দিতে চান প্রধানমন্ত্রীকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে এ খবর ভাইরাল হয় বিভিন্ন মিডিয়ায়।

তবে এতে কৌতুহলও জাগে অনেকের মনে। ছাগলটি দেখার জন্য বিভিন্ন এলাকার মানুষ তার বাড়িতে ভিড় করতে থাকে।

এলাকাবাসী জানায়, বাচ্চা থেকেই লালন-পালন করা হলেও প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেয়ার কথাটি আগে কখনও শোনা যায়নি। হঠাৎ করে কথাটি শোনা যাচ্ছে। ইসমাইল ও তার মা কেন হঠাৎ করে প্রধানমন্ত্রীকে ছাগল উপহার দিতে চান তা নিয়েও তাদের মনে প্রশ্ন ওঠে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ছাগল উপহারের উদ্যোক্তা ইসমাইল একজন চা বিক্রেতা। স্থানীয় বাজারে তিনি চা বিক্রি করেন। মা লতিফুননেছা ও স্ত্রী সন্তান নিয়ে ইসমাইল একই বাড়িতে থাকেন। চা বিক্রি করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন।

কিন্তু বাস্তবতা এর বিপরীত। ইসমাইল একজন মাদক ব্যবসায়ী। তিনি চায়ের ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা করে আসছেন। প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে মোটরসাইকেলে মাদকসেবীরা তার দোকানে এসে মাদক ক্রয় ও সেবন করে। এর আগে ইসমাইল ফেনসিডিলসহ পুলিশের হাতে আটকও হয়েছিলেন। তার নামে দৌলতপুর থানায় মাদকের মামলা আছে।

ইসমাইলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ছাগলটি আমার বাড়িতে জন্ম হয়েছে। আমার মা ছাগলটি লালন-পালন করেন। আমি ও আমার মা ১০০ কেজি ওজনের এই ছাগলটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চাই।

মাদক ব্যবসা সম্পর্কে ইসমাইল বলেন, আমি মাদক ব্যবসা করি না। আমার চা একটু ভালো হয়, তাই বিভিন্ন জেলা বা থানা থেকে লোক আসেন।

মাদক ব্যবসায় অভিযোগ উঠলে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম থানার উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিমকে বিষয়টি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেন।

গত ২ মার্চ রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয় পুলিশ। প্রায় ১০ দিন তদন্তের পর বিষয়টির সত্যতা পাওয়ায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের ওই টিম মহিষকুন্ডি বাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেন।

এ ধরনের কৌশল অবলম্বন করায় অনেকে হতবাক হয়েছেন। দেরিতে হলেও আসল ঘটনা উদঘাটন হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

দৌলতপুর থানার উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন, তার নামে মাদকের একটি মামলা রয়েছে। মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত হওয়ায় তাকে আটক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তাই কোনো কৌশল করেই মাদক ব্যবসায়ীরা বাঁচতে পারবে না।

প্রাগপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম মুকুল জানান, ইসমাইলের নামে মাদকের মামলা ও ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে জেনেছি। এখন প্রমাণ হলো ইসমাইল মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিল।

দৌলতপুর থানা পুলিশের ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও তদন্ত চলছে। সে মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভিক্ষুকের ঘরে মিললো ১৩ বস্তা টাকা ও ৮৮ কেজি কয়েন

রাজধানীর দক্ষিণ মাণ্ডা এলাকার মাদরাসা রোডে জাকির হোসেনের বাড়িতে ‘গুপ্তধন’পাওয়া গেছে এমন খবর গতকাল বুধবার সকালে জড়িয়ে পড়ে। এমন খবরে ওই বাসার চারপাশে ভিড় করে অসংখ্য কৌতূহলী মানুষ। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ।জাকিরের বাড়িতে সাজেদা বেগম নামে ৭২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার ঘর থেকে ১৩টি বস্তায় ভর্তি ৭৬ হাজার টাকা এবং ৮৮ কেজি কয়েন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব টাকা ও কয়েন মুগদা থানার হেফাজতে রয়েছে।

বাড়িটির মালিক ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অথরাইজড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ট্রেজার) জাকির হোসেন বলেন, মাস তিন আগে বৃদ্ধা সাজেদা তার মেয়ে আমেনাকে নিয়ে মাসিক ৪ হাজার টাকায় দুই রুম ভাড়া নেন। প্রতিদিনই রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আনা প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে ঘর ভরিয়ে ফেলেন তিনি। এক মাস ১০ দিন পর আমি তার কাছে ঘর ভাড়া চাই। রাতে এসে দেবেন বলে সেই যে তিনি গেলেন আর ফিরে আসেন নাই।

তিনি আরও বলেন, এভাবে কাটে যায় দুই মাস। ভেবেছিলাম ভাড়া জোগাড় করতে না পারায় তারা আর আসবেন না। অন্য কোথাও উঠেছেন। সাজেদা বেগমের ঘর থেকে বস্তার স্তূপ ও নষ্ট কাপড় সরিয়ে সেগুলো বাইরের বারান্দায় এনে রেখেছিলাম।

গত সোমবার সকালে এলাকার কয়েকজন ভাঙারি ব্যবসায়ীকে ডেকে আনি সেগুলো বিক্রি করার জন্য। তারা কয়েকটি বস্তা খুলতে দেখেন বস্তাগুলোতে টাকায় ভরা। পরে কৌতূহলবশত ছোট ছোট ব্যাগগুলো খুললে তার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে প্রচুর কয়েন।

ছয় থেকে সাতজন মানুষ দিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত গুনে পাওয়া যায় ৭৬ হাজার টাকা (এক টাকা, দুই টাকা থেকে শুরু করে ১০০-৫০০ টাকার নোট) ও ৮৮ কেজি টাকার কয়েন (চার আনা থেকে শুরু করে ৫ টাকা)।হঠাৎ হন্তদন্ত হয়ে আমেনাকে নিয়ে হাজির হন মা সাজেদা বেগম। আমেনা জানান, তার বাবা মো. সোবহান বেশ কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।

তার আরও দুই ভাইবোন ছিল। কিন্তু তারাও মারা গেছে। তাই পেটের দায়ে গ্রামের বাড়ি বগুড়ার সোনাতলা দড়িহাসরাস থেকে তারা ঢাকায় আসে। কোনো কাজ না পেয়ে মা-মেয়ে ভিক্ষা করে দিন চালাতেন।সেই থেকে ভিক্ষার টাকা বস্তায়, কাপড়ের ভাঁজে রাখতে শুরু করেন তার মা। টাকা জমানো তার নেশা।

সাজেদা বেগম জানান, বাড়ি ভাড়ার টাকার জন্য নয়, অসুস্থ হয়ে পড়ায় এতদিন তারা আসতে পারেননি। বস্তায় কত টাকা ছিল তা তিনি জানেন না বলে জানান।এ বিষয়ে মুগদা থানার ওসি প্রলয় কুমার শাহা বলেন, টাকার মালিক ভিক্ষুক বৃদ্ধা ও তার মেয়েকে পাওয়া গেছে। বস্তা থেকে উদ্ধার টাকা তাদের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

Related Post

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *