গতকাল নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে গুলি চালান অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারেন্ট। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৯ জন। আহত হন ৪৮ জন। ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে মুসল্লিদের ওপর স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে হামলা চালান ব্রেনটন।

অল্পের জন্য ওই হামলা থেকে বেঁচে যান বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। হামলায় বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা নিরাপদে থাকা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজে আমাদের ক্রিকেটাররাও যাওয়ার কথা ছিল। আগামীতে আমাদের ক্রিকেটাররা কোথাও গেলে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করেই তাদের পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে, খেলোয়াড়দের দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করছে বিসিবি। একই রকম আশ্বাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)।

আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন জানিয়েছেন, ক্রাইস্টচার্চে ভয়াবহ হামলায় যে সকল পরিবার ক্ষয়-ক্ষতির শিকার হয়েছে তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। দুই দল, দলের কর্মকর্তা ও ম্যাচ অফিশিয়ালরা নিরাপদে আছেন। টেস্ট ম্যাচ বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে আইসিসির। অবশ্যই নিউ জিল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে আইসিসি চিন্তা করবে এবং কঠিন কোনো পদক্ষেপও নিতে পারে।

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের (এনজেডসি) প্রধান নির্বাহী ডেভিড হোয়াইট মনে করেন, ক্রাইস্টচার্চ হামলার পর কেউ এখন দেশটিকে নিরাপদ বলে গণ্য করবে না। শুধু ক্রিকেট নয়, যেকোনো খেলা আয়োজন করার ক্ষেত্রেই এখন নিউজিল্যান্ডকে অনিরাপদ ভাবা হবে।

তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। গোটা বিশ্বে খেলা আয়োজকদের মনোভাব পাল্টে যাবে। এখন সর্বত্রই পরিবর্তন আসবে। সবাই আগেভাবে আরও বেশি ভাববে। সফর করার ব্যাপারে চিন্তা করবে।

ডেভিড হোয়াইট বিশ্বাস করেন, নিউজিল্যান্ডকে নিরাপদ আবাস হিসেবে এখন আর কেউ অভিহিত করবে না। আমরা অবশ্যই আমাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে গভীরভাবে চিন্তা করার কথা জানান তিনি।

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে নৃশংশ হামলার পর বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের তৃতীয় টেস্ট বাতিল করা হয়েছে। দেশে ফিরে আসছেন টাইগাররা। সফর বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব ১৯ নারী ক্রিকেট দল। শুধু তাই নয়, বর্বর এ হামলার জেরে নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটও বন্ধ হয়ে গেছে।

শুক্রবার হ্যাগলি পার্কে মসজিদ আল নূরে জুমার নামাজ আদায় করতে যাওয়া মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। এতে নিহত হন প্রায় অর্ধশতাধিক। সেই মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলে বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা। কয়েক মিনিট আগে তারা সেখানে পৌঁছলে বড় কিছু ঘটতে পারত।

Related Post

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *