ডিম নিক্ষেপকারী বালককে চড়-থাপ্পর দেওয়ার কারণে মুসলিম বিদ্বেষী সিনেটরকে অভিযুক্ত করা উচিত বলে মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। স্থানীয় সময় রোববার এক অনুষ্ঠানে ওই তরুণের পক্ষ নিয়ে সাংবাদিকদের এমন মন্তব্য করেন তিনি।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলার বিষয়ে সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং মুসলিমবিদ্বেষী মন্তব্য করায় তার মাথায় ডিম ভাঙেন উইল কনোলি নামের এক তরুণ।

এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পরায় ১৭ বছর বয়সী তরুণ কনোলি অনলাইন হিরো হিসেবে সারা বিশ্বে আলোচনায় এসেছেন।

রবিবার এক অনুষ্ঠানে ওই তরুণের পক্ষ নিয়ে রিপোর্টারদের প্রধানমন্ত্রী মরিসন বলেন,‘ফ্রেজার অ্যানিংয়ের বিরুদ্ধে সবধরনের আইনী ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়ছে, অনলাইনে নিজেকে ‘এগ বয়’ (ডিম বালক) পরিচয়দানকারী ওই তরুন সিনেটরের মাথায় ডিম নিক্ষেপের পর সিনেটর তাকে চর-থাপ্পড় দেয়। পরবর্তীতে সিনেটরের অনুসারীরা বালকটিকে ধরে ফেলে।

প্রসঙ্গত, ক্রাইস্টচার্চ হামলার পেছনে মুসলিম অভিবাসনকে দায়ী করে প্রশ্ন রাখেন সিনেটর অ্যানিং। তিনি বলেন, মুসলিম অভিবাসন ও সহিংসতা যে অঙ্গাঙ্গি জড়িত, ক্রাইস্টচার্চ হামলার পরও কি কেউ তা অস্বীকার করতে পারবে?

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় সাধারণত যে রিজার্ভ ব্যবস্থা থাকে, সিনেটর অ্যানিং দেশটির ফেডারেল পুলিশের নিরাপত্তা বিষয়ক তেমন একটি দায়িত্বে রয়েছেন।

সেই ‘ডিম বয়’ বলল, মুসলমানরা সন্ত্রাসী নয়

মুসলমানদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্যকারী অস্ট্রেলিয়ান সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভাঙা সেই কিশোরের পরিচয় মিলেছে। ১৭ বছর বয়সি ওই কিশোরের নাম উইল কনোলি। কিশোরটি অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা।

ঘটনার পর টুইটারে কনোলি লিখেছে, ‘মুসলমানরা সন্ত্রাসী নয়। সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম নেই।’

গতকাল শনিবার এক অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভাঙে ওই কিশোর। শুধু তাই নয় বিষয়টি নিজের মোবাইলে ভিডিও করে কনোলি। তবে ফ্রেজার নিজেই ওই কিশোরকে মারধর করেন।

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার পর মুসলমানদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং। টুইট বার্তায় ওই সিনেটর বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের রাস্তায় ওই ঘটনার প্রকৃত কারণ হচ্ছে অভিবাসন কর্মসূচি, যা উগ্র মুসলিমদের নিউজিল্যান্ডে থাকার অনুমোদন দিচ্ছে।’

এর পরই বেশ তোপের মুখে পড়েন ফ্রেজার অ্যানিং। এরই প্রতিবাদে গতকাল শনিবার ওই কাণ্ডটি ঘটায় কিশোর উইল কনোলি। তাকে পুলিশ আটক করে পরে ছেড়ে দেয়। তবে সামাজিক মাধ্যমে এরই মধ্যে ওই কিশোরকে নিয়ে রীতিমত হৈ চৈ শুরু হয়ে গেছে।

নিজের টুইটারে কনোলি ওই ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেছে। কনোলি লিখেছে, ‘ওই মুহূর্তে মানুষ হিসেবে আমি গর্বিত। আপনাদের বলতে চাই, মুসলমানরা সন্ত্রাসী নয় এবং সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম নেই। যারা মুসলমানদের সন্ত্রাসী সম্প্রদায় মনে করে, তাদের মাথা অ্যানিংয়ের মতোই শূন্য।’

এদিকে সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের সমালোচনা করেছেন খোদ অস্ট্রেলিয়ান প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদে গুলি করে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে এক সন্ত্রাসী। ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫০ জন নিহত হয়েছে। ব্রেন্টন ট্যারেন্ট নামে ওই সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। ট্যারেন্ট অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক।

সেখানকার আল নূর মসজিদেই জুমার নামাজ পড়ার জন্য রওনা দেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। পাঁচ মিনিট দেরি করায় ভয়াবহ ঘটনা থেকে বেঁচে যান তাঁরা। পরে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে হোটেলে ফিরে যান ক্রিকেটাররা।

মুসলিমদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশে কালো ওড়না মাথায় জড়িয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বারবার গণমাধ্যমের সামনে এসে নিজেই তথ্য জানাচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরদার্ন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে শুরু করে আহতদের দেখতে যাওয়া, তাদের খোঁজখবর নেয়া- সবখানেই নিজে যাচ্ছেন। যেখানেই যাচ্ছেন, যার সঙ্গেই কথা বলছেন, সবখানেই তাকে দেখা যাচ্ছে বিমর্ষ অবয়বে।

শোক প্রকাশে শুধু কালো পোশাকই পরেননি, মসজিদে নামাজরত মুসলিমদের হামলার ঘটনায় নিউজিল্যান্ডের মুসলিমদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশে মাথায় ওড়না জড়িয়ে রয়েছেন।

আরদার্নের আচরণ আর চেহারার অভিব্যক্তিতেই বোঝা যাচ্ছে, শোক শুধু তার বক্তব্যে নেই, ভয়াবহ এ হামলার শোক তার মনেও আঘাত হেনেছে।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর এমনই কিছু ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমগুলোতে।এর মধ্যে ওপরের ছবিটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে।

ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, কালো পোশাকের সঙ্গে কালো ওড়না মাথায় জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছেন জাসিন্দা। চোখে যেন স্বজন হারানোর করুণ দৃষ্টি। দেখে মনে হচ্ছে হয়তো এক্ষুণি কেঁদে ফেলবেন। কিন্তু হাত দুটো একসঙ্গে শক্ত করে মুষ্টিবদ্ধ করে রেখেছেন তিনি, যেন দেশের এই ভয়ানক শোকের দিনে নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করছেন।

জাসিন্দা আরদার্ন তার পোশাকের মধ্য দিয়ে দেশের শোকাহত মুসলিম জনগোষ্ঠীর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু ছবিতে তার দাঁড়ানোর ভঙ্গি আর চোখের দৃষ্টিই মনকে নাড়িয়ে দেয়ার মতো। এই ছবি শেয়ার করে অনেকেই বলছেন, প্রধানমন্ত্রী যেন এর মধ্য দিয়ে শুধু নিজের শোক নয়, পুরো দেশের শোককে তুলে ধরেছেন।

পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজিল্যান্ডের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রীকে মুসলিমদের উদ্দেশে কথা বলতে দেখা গেছে। সেখানেও তিনি বলেছেন, এটি আমাদের দেশের জন্য বিশাল এক শোকের ঘটনা। আপনারাই আমরা, আর তাই যা ঘটেছে তার কষ্ট আমরা মনের গভীরে অনুভব করতে পারছি।

Related Post

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *