ভয়াবহ হামলা বা হত্যাযজ্ঞের কারণে নিউজিল্যান্ডের খবরের শিরোনাম হওয়ার ইতিহাস নেই। নজিরবিহীনভাবে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে বন্দুকধারীর হামলা বিশ্ববাসীকে হতবাক করেছে।

বিশ্ব আরো হতবাক হয়েছে প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডেনের অপ্রত্যাশিত আচরণে। তিনি হতাহত মুসলিমদের প্রতি যে সহানুভূতি ও সহমর্মিতা দেখিয়েছেন, তা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল ভেঙে তিনি ছুটে গিয়েছেন শোকাহত স্বজনদের কাছে। বুকে জড়িয়ে সান্তনা দিয়েছেন তাদের। এসময় প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে তার মানবিক ব্যক্তিত্বই যেন প্রধান হয়ে ওঠে। সংকটকালীন সময়ে সাধারণত সরকারের পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন।

কিন্তু সেসব রীতির তোয়াক্কা না করে জাসিন্দা আরডেন দফায় দফায় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। নিজেই সর্বশেষ তথ্য বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন। এমনকি এসময় মুসলিমদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে কালো ওড়নাও পরতে দেখা যায় তাকে। সবখানেই তার মুখাবয়বে ফুটে ওঠে করুণ চাহনি।

এতে প্রকাশ হয় যে, শোকাহত স্বজনদের মতো সমব্যথী তিনিও। তবে শোকবিহ্বল অবস্থাতেও নিজের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে পিছপা হননি আরডেন। নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রম নিজেই তদারকি করেছেন। ঘটনাপ্রবাহের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রেখেছেন। তার অভিব্যক্তিতে যেন গোটা নিউজিল্যান্ডবাসীর প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠে।

নম্র ও বিনয়ী স্বভাবের কারণে কিউইদের সুনাম বিশ্বজোড়া। ক্রিকেটের কারণে উপমহাদেশের মানুষের কাছে দেশটি আরো ভালো জানাশোনা। কিউই ক্রিকেটারদের বিনয় ও ভদ্রতা নিয়ে অভিযোগ খুব কমই শোনা যায়। প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডেন গত দু’দিন ধরে যে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন, তাতে কিউইদের ওই চরিত্রই ফুটে ওঠে।

যদিও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব ও সংকটকালীন পরিস্থিতিতে পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব করার কারণে নিউজিল্যান্ড বিশ্বব্যাপী সমালোচিত হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় অনেকটাই স্পষ্ট যে, সংকট উত্তরণে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপই নিয়েছে তার সরকার।

জাসিন্দা আরডেন ২০১৭ সালের অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের ৪০তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দু’বছর ধরে তিনি নিজের দল লেবার পার্টির প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। হামলার পরপরই আরডেনের বক্তব্যের একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে।

এতে তার দেয়া সম্প্রীতির আহ্বান বিশ্ববাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভিডিওতে তাকে বলতে দেখা যায়, ‘এটি আমাদের দেশের জন্য বিশাল এক শোকের ঘটনা। আপনারাই আমরা, তাই যা ঘটেছে তার কষ্ট আমরা মনের গভীরে অনুভব করতে পারছি।’

তার এই উদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী যে তৎপরতা দেখিয়েছেন, তার মতো আরো নেতার প্রয়োজন আছে বিশ্বে। সব ক্ষেত্রে, সব দলে তার মতো তৎপর অভিভাবকের প্রয়োজন।

তিনি প্রথাগত রাজনীতিবিদের মতো না। তাই বর্তমান সময়ে নিউজিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা শুধু তারই আছে। এ ছাড়াও বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আরডেনের উদ্দেশে প্রশংসাবাণী আসছে।

Related Post

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *