নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হামলায় অল্পের জন্য প্রানে বেঁচে যান বাংলাদেশের নাগরিক ফরিদ উদ্দীন। নিজের জীবন তুচ্ছ করে অন্যদের এবং স্বামীর জীবন বাঁচাতে গিয়ে সেদিন হামলাকারীর হাতে খুন হন ফরিদ উদ্দীনের স্ত্রী হোসনে আরা। ফরিদ উদ্দিন বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি তার স্ত্রীর হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে হারিয়েছি, কিন্তু আমি হত্যাকারীকে ঘৃণা করি না। একজন মানুষ হিসেবে আমি তাকে ভালবাসি। কিন্তু আমি দুঃখিত, সে যা করেছে আমি তা সমর্থন করতে পারি না।

আমার মনে হয় সে (হামলাকারী) তার জীবনে কখনো আঘাত পেয়েছে, সেই আঘাত পেয়ে সে ভাল কিছু না করে এমন জঘন্য কাজ করেছে।’

তিনি আরো বলেন, যারা সন্ত্রাসী হামলা করে তারা চায় জনগণকে ভয় পাক। তারা এক জাতি থেকে অন্য জাতির মধ্যে বিদ্বেষ লাগাতে চায়।

ফরিদ উদ্দিন বলেন, তারা (সন্ত্রাসীরা) হয়ত আশা করে মুসলিমদের ওপর হামলা করলে, মুসলিমরা প্রতিশোধ নিবে, কিন্তু আমরা মুসলিম নেতারা বলছি তা কখনো হবে না। মুসলিমরা এমন না। আমরা মুসলিমরা কাউকে ভয় পেতে দিব না এবং কাউকে ঘৃণা করতে হবে এটাও ছড়াতে দিব না।

তিনি আরো বলেন, আমার তার (হামলাকারীর) বিরুদ্ধে কোন আক্রোশ নেই। আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তার জন্য দোয়া করছি আল্লাহ যেন তাকে সঠিক পথ দেখায় এবং একদিন অন্যের জীবন রক্ষাকারী হয়ে ওঠে সে।

গত শুক্রবারে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুইটি মসজিদে হামলায় ৫০ জন নিহত হয়। হামলায় গুরুতর আহত হয় ৪০ জনের বেশি। নিউজিল্যান্ডের পুলিশ জানায়, অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্রারান্ট একাই হামলা চালিয়েছে।

ইতিমধ্যে ওই হামলাকারীকে শনিবার দেশটির আদালতে হাজির করা হয়েছে। অভিযুক্ত করা হয়েছে হত্যা মামলায়। বর্তমানে ওই হামলাকারী রিমান্ডে আছে।

Related Post

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *