নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় অর্ধশত মুসলিম শাহাদতবরণ করেন গেল শুক্রবার জুমার নামাজে। ইসলামভীতি, মুসলিমবিদ্বেষ ও অভিবাসীদের প্রতি ঘৃণার আগুন নিয়ে চালানো হলো এ সন্ত্রাসী হামলা। এর প্রতিবাদে ক্ষোভে ও নিন্দায় সমগ্র বিশ্ব আজ সোচ্চার। বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেছেন মুজাহিদুল ইসলাম ও আবু আফিফা

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এ হামলার নিন্দা করেন এবং উগ্রতা ও সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মিলে কাজ করার ব্যাপারে তার দেশের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি লিখেছেন, নিউজিল্যান্ডের জনগণ এবং সমগ্র দুনিয়ার মুসলমানদের স্থান আমাদের অন্তরে রয়েছে এবং এ সংকটময় মুহূর্তে আমরা তাদের দুঃখের সমান অংশীদার। জাস্টিস ট্রুডো আরও লিখেছেনÑ আমাদের ইসলাম-ফোবিয়ার ওপর জয়ী হতে হবে। এমন একটি সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে যে কোনো ধর্ম, বর্ণ বা বংশের লোক নিজেদের নিরাপদ মনে করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট টুইটে বলেন, আমার উষ্ণ সমবেদনা এবং শুভকামনা নিউজিল্যান্ডবাসীর জন্য। মসজিদে বর্বর হামলায় ঝরে গেছে ৫০টি প্রাণ। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

বারাক ওবামা
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা টুইট করেছেনÑ নিউজিল্যান্ডের সবার জন্য আমার ও মিশেলের গভীর সমবেদনা। আমরাও মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে এ ঘটনার নিন্দা জানাই। সব ধরনের ঘৃণার বিরুদ্ধে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে সবাইকে।

হিলারি ক্লিনটন
টুইট বার্তায় তিনি বলেছেনÑ নিউজিল্যান্ড ও বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য আমার হৃদয় কাঁদছে। ইসলাম-ফোবিয়া ও বর্ণবাদের চিরস্থায়ীকরণ ও স্বাভাবিকীকরণের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। বিশ্বের সব নেতাকেই শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের সন্ত্রাসীদের নিন্দা জানানো উচিত। তাদের এ খুনে ঘৃণাকে যে কোনো মূল্যে থামাতেই হবে।

জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্তোনিও গুতেরেস
প্রার্থনারত মানুষের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে টুইট বার্তায় তিনি বলেছেনÑ আমি গভীরভাবে শোকাহত। একদল শান্তিপূর্ণ প্রার্থনারত নিরীহ মানুষের ওপর এ হামলার নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি জানাই সমবেদনা। মুসলিমবিরোধী ঘৃণা এবং সব ধরনের ভ-ামি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের আজ এবং প্রতিদিনই একতাবদ্ধ হওয়া উচিত।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে
টুইট বার্তায় এ নেতা বলেন, ক্রাইস্টচার্চে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর নিউজিল্যান্ডের জনগণের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। এ ঘৃণ্য সহিংসতার শিকার প্রত্যেকের জন্য আমার হৃদয় কাঁদছে।

বাকিংহাম প্যালেস থেকে রানি এলিজাবেথ
ক্রাইস্টচার্চের ভীতিকর ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। জীবন হারানো মানুষগুলো পরিবারের প্রতি আমার ও প্রিন্স ফিলিপের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা। একই সঙ্গে আহতদের জন্য নিরলস কাজ করা জরুরি, সেবা ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মর্কেল
এ নেতা বলেছেনÑ ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনারত মানুষের ওপর হামলা যে কোনো সময়ই বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। হামলাটি মুসলমানদের ওপর হলেও এটি মূলত নিউজিল্যান্ডের গণতন্ত্র ও উন্মুক্ত ও সহনশীল সমাজের ওপর করা হয়েছে। আমরাও নিউজিল্যান্ডের এ মূল্যবোধগুলোর চর্চা করি এবং গভীর সমবেদনা জানিয়ে তাদের ওপর এ হামলার ভয়াবহতার সমান ভাগিদার হতে চাই। আমরা নিউজিল্যান্ডের জনগণের পাশে আছি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোন
ফ্রান্স সবসময়ই সবধরনের চরমপন্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে এবং বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বন্ধুদের সঙ্গে সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ক্রাইস্টচার্চের মুসলমানদের জন্য গভীর সমবেদনা।

পোপ ফ্রান্সিস
নীতিহীন ও অর্থহীন এক সন্ত্রাসী হামলায় মানবজীবনের এ বিনাশে আমি গভীরভাবে ব্যথিত। নিউজিল্যান্ডবাসী এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি একাত্মতা জানাচ্ছি।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গ
এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এ নেতা বলেনÑ এ ঘটনাটি আবারও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে একতাবদ্ধ করবে। তিনি আরও বলেন, জঙ্গিবাদের সবধরনের রূপকে নষ্ট করার জন্য এক নীতিতে আসতে হবে। এ ঘটনা প্রমাণ করে, জঙ্গিবাদ যে কোনো সময়ে যে কোনো স্থানে মাথা উঁচু করতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন
এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ক্রাইস্টচার্চের ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনায় আমি ভীত, শঙ্কিত। আমার কিউয়ি ভাইদের জন্য প্রার্থনা। পরে আরেকটি বার্তায় হামলাকারী অস্ট্রেলীয়Ñ এ কথা জানার পর যৌথ তদন্তের আগ্রহ প্রকাশ করেন স্কট মরিসন।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক
রাতারাতি ভয়ানক খবর এলো নিউজিল্যান্ড থেকে। যে সহনশীলতা ও বিনয়ের জন্য নিউজিল্যান্ড সবার কাছে সমাদৃত, ক্রাইস্টচার্চের এ সন্ত্রাসী হামলা তা কখনোই মুছে ফেলতে পারবে না।

সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ
নিউজল্যান্ডের দুটি মসজিদে নিরপরাধ নামাজরতদের লক্ষ্য করে জঘন্য গণহত্যা সন্ত্রাসী কর্মকা-। সব দ্বীনধর্ম ও মূল্যবোধে অননুমোদিত সন্ত্রাস ও ঘৃণা প্রকাশকারী যে কোনো বক্তৃতা-বিবৃতি মোকাবিলা করা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি নিরপরাধ শহীদদের ওপর করুণা করুন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা দান করুন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদ ও ইসলাম-ফোবিয়ার শিকার মুসলিমবিশ্ব ও নিউজিল্যান্ডে এ সন্ত্রাসী ঘটনার শিকার সবার প্রতি আমার ও তুরস্কের জনগণের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানাচ্ছি। যেসব নেতা ও মিডিয়া বিশ্বব্যাপী ইসলাম-ফোবিয়ার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে, এ হামলার পেছনে তারাও দায়ী।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান
এ নেতা বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম নেই। পরে এক টুইটবার্তায় ইমরান খান আরও বলেন, এ ঘটনার জন্য দায়ী ৯/১১-এর পর বিশ্বব্যাপী শুরু হওয়া ইসলাম-ফোবিয়া। যখন বিশ্বের কোথাও কোনো একজন মুসলমানের একটি সন্ত্রাসী কাজের জন্য বিশ্বের ১.৩ বিলিয়ন মুসলমানকে দায়ী করা হয়।

সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট মোহামেদ ফরমাজু
ক্রাইস্টচার্চের প্রার্থনারত মুসলমানদের ওপর ভয়াবহ হামলা ইসলাম-ফোবিয়ার নিদর্শন এবং এ হামলার গভীর নিন্দা জানাচ্ছি। নিউজিল্যান্ড সরকারের সঙ্গে আমরা একাত্মতা ঘোষণা করছি এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়াচ্ছি যেন তারা এ শোক কাটিয়ে উঠতে পারে। সন্ত্রাসবাদের অশুভ তৎপরতা রুখতে আমাদের একতাবদ্ধ হতে হবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ
তিনি আশা করছেন নিউজিল্যান্ড শিগগিরই এসব সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করবে এবং আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন জোট পাকাতান হারাপানের খ্যাতনামা নেতা আনোয়ার ইবরাহিম আলজাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ক্রাইস্টচার্চ সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে মালয়েশীয়দের হƒদয়। বিশ্ব মানবতা ও শান্তির জন্য এটাকে এক ট্র্যাজেডি হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। এক বিবৃতিতে ইবরাহিম বলেন, ‘এ অসভ্য-বর্বর আক্রমণে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। এটা মানবতার মূল্যবোধ পরিপন্থি কর্মকা-। হত্যার শিকার ও তাদের পরিবারগুলোর প্রতি এবং নিউজিল্যান্ডের মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো
এ নেতা বলেন, ‘আমরা এই ধরনের সহিংস কর্মকা-ের তীব্র নিন্দা জানাই।’ এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি বলেছেন, ‘ইন্দোনেশিয়া সরকার হত্যার শিকার ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। সেই সঙ্গে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছে।’ এ হামলার সময় আল নুর মসজিদের ভেতরে ছয় ইন্দোনেশীয় মুসল্লি ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে তিনজন প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হন।

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •