নেশা স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। তা সে মাদকের নেশাই হোক আর ভিডিও গেমের। এটি যে শুধু মানুষকে অসুস্থ করে তোলে, তা নয়। মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে। ভারতের তেলেঙ্গানার ঘটনা সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। পাবজি-র নেশা কেড়ে নিল একটা তরতাজা প্রাণ।

পাবজি বন্ধের দাবিতে সরব হয়েছে দেশটির একাধিক রাজ্য। ইতিমধ্যেই গুজরাটে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই জনপ্রিয় ভিডিও গেম। এমনকী দেশটির বিভিন্ন প্রান্তের কলেজ পড়ুয়াদের এই নেশা থেকে দূরে থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও দুর্ঘটনা এড়ানো গেল না।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, তেলেঙ্গানার ২০ বছর বয়সী তরুণ দীর্ঘ ৪৫ দিন ধরে টানা পাবজি-তে মন গুঁজে বসেছিলেন। ফলে যা হওয়ার, তাইই হল। প্রথমে অসম্ভব ঘাড়ের ব্যথায় ছটফট করতে শুরু করেন তিনি। হায়দরাবাদ হাসপাতালে তাঁর চিকিত্‍সা করাতে নিয়ে গেলে চিকিত্‍সকরা জানান, মোবাইলে লাগাতার ওই ভিডিও গেম খেলতে থাকায় ঘাড়ের কাছের সমস্ত নার্ভ নষ্ট হয়ে কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। আর সেই কারণেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই তরুণ।

দিন কয়েক আগে পাবজি-তে আসক্ত কর্ণাটকের এক পড়ুয়া শিরোনামে উঠে এসেছিলেন। স্নাতক পরীক্ষায় তিনি খাতায় লিখে আসেন, কীভাবে পাবজি খেলতে হয়। সঙ্গে ব্যাখ্যাও করেন, এই গেম খেলতে গিয়ে কেন পড়াশোনার সময় পাননি তিনি। যে কারণে প্রথম বর্ষেই পরীক্ষায় ফেল করেন ওই ছাত্র। এদিকে মধ্যপ্রদেশের এক যুবক পাবজি-র নেশায় এতটাই বুঁদ ছিলেন যে পানি ভেবে অ্যাসিড পান করতে যাচ্ছিলেন। কোনওক্রমে প্রাণে বাঁচেন তিনি। এসব ঘটনাই জানান দিচ্ছে, কীভাবে যুব প্রজন্মের মধ্যে পাবজি-র খারাপ প্রভাব পড়ছে।

তারই মধ্যে একটি নতুন বিষয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন গেমাররা। অনেকেই জানিয়েছেন, পাবজি খেলাকালীন তাঁদের মোবাইল স্ক্রিনে একটি পপ-আপ ভেসে উঠছে। যেখানে লেখা, দীর্ঘক্ষণ খেলছেন। আবার ছ’ঘণ্টা পর খেলবেন। অনেকের দাবি, আধ-এক ঘণ্টা খেলার পরই এই সতর্কবার্তা দেখা যাচ্ছে। তাহলে কি ভিডিও গেম কর্তৃপক্ষের পক্ষেই এমন বার্তা দেওয়া হচ্ছে? না, তেমনটা নয়। উলটে তাদের পক্ষে জানানো হয়েছে, প্রযুক্তিগত কারণে হয়তো এমন ঘটনা ঘটছে। তার জন্য তারা ক্ষমাপ্রার্থী। শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান করা হবে।

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *