রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনজন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দুজন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে একজন এবং ঘটনাস্থলে ১১ জন মারা গেছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ৭০ জন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ডিডি) দিলীপ কুমার ঘোষ। প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

দিলীপ কুমার ঘোষ জানান, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে উদ্ধারকাজ চলছে। ভবনে কেউ জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় আটকা পড়ে আছে কি না- তা অনুসন্ধানে উদ্ধার টিম কাজ করছে।

এদিকে গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আব্দুল আহাদ নিহত ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- পারভেজ সাজ্জাদ (৪৭), মামুন (৩৬), আমিনা ইয়াসমিন (৪০), আব্দুল্লাহ আল ফারুক (৩২), মনির (৫০) ও মাকসুদুর (৩৬)।

জানা গেছে, ঢামেকে নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুল্লাহ আল ফারুক এবং কুর্মিটোলায় নিহতের নাম নিরস ভিগ্নে রাজা (৪০)। কুর্মিটোলায় নিহত রাজা শ্রীলঙ্কার নাগরিক এবং স্কেন ওয়েল লজিস্টিকসের ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। তবে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিহত তিনজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

ঢামেক ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ এসআই বাচ্চু জানান, বিকেল ৪টা ৩৮ মিনিটের দিকে আব্দুল্লাহ আল ফারুক মারা যান। তাকে অজ্ঞান অবস্থায় ঢামেকে আনা হয়। হাসপাতালে আনার পরও তার জ্ঞান ফেরেনি।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের ১৭ নম্বর রোডের ২২তলা ভবনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ২২টি ইউনিট দীর্ঘক্ষণ কাজ করার পর বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

আগুন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিস সদরের ডিউটি অফিসার মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে নির্বাপণ শতভাগ হয়নি। ধোঁয়া আছে। পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগবে।

-জাগো নিউজ

আল্লাহ যদি বাঁচায় রাহে দেহা অইব : স্ত্রীকে আতিকুর

রাজধানীর বনানীর ১৭ নম্বর রোডের এফআর টাওয়ারে আগুন লাগার পর এখন পর্যন্ত মির্জা আতিকুর রহমানকে খুঁজে পাচ্ছেন না তার স্বজনরা।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে মির্জা আতিকুর রহমানের খোঁজ করেছেন তার পরিবারের সদস্য মির্জা শফিউদ্দিন, মির্জা মামুন ও মির্জা রাসেল।

তারা জানান, ঢামেক ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালসহ বেশ কয়েক জায়গায় মির্জা আতিকুরকে খোঁজ করেছেন, তবে কোথাও তাকে খুঁজে পাননি। এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও ধানমন্ডির ইউনাইটেড হাসপাতালে খোঁজ নিতে যাবেন তারা।

মির্জা আতিকুরের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর সদরের শোলপাড়ায়। তার বাবার নাম আব্দুল কাদির মির্জা, মায়ের নাম হাজেরা বেগম। তিনি এফআর টাওয়ারে অবস্থিত এফসিএএন ওয়েল লজিস্টিক লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন।

মির্জা শফিউদ্দিন জাগো নিউজকে জানান, বেলা ১টায় স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় আতিকুরের। ওই সময় আতিকুর বলেন, ‘ধুমায় তো বাইর হওনের কোনো কায়দা নাই। আল্লাহ যদি বাঁচায় রাহে তো দেহা অইব। না থাকলে মাফ কইরা দিও’। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

আজ দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে বনানীর এফআর টাওয়ারের ৯ তলা থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। ফায়ার সার্ভিসের ২২টি ইউনিট দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টার পর বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন এখনও পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন ফা

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *