বর্তমানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, ভূমি সেবা, কৃষি, আইনশৃঙ্খলা, বিচারিক সেবা, বিদ্যুৎ, ব্যাংকিং, বিআরটিএ, কর ও শুল্ক, এনজিও, পাসপোর্ট, বিমা, গ্যাসসহ দেশের প্রায় প্রতিটি খাতকেই কমবেশি দুর্নীতি গ্রাস করেছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ঘুষ, মুক্তিপণ আদায়, জবরদখল, ওজনে কম দেওয়া এবং খাদ্যে ভেজাল মেশানো ইত্যাদি যেন আমাদের পিছু ছাড়ছে না। শিশু ধর্ষণ, মা-মেয়েকে একসঙ্গে ধর্ষণ বা স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণÑ এগুলো এখন নিত্যদিনের সংবাদে পরিণত হয়েছে। এই ধর্ষণ একটি বর্বরোচিত অপরাধ। কিন্তু ধর্ষণ করার পর নরপিশাচরা যখন ভুক্তভোগীকে হত্যা করে তখন ওই বর্বরতার কোনো ব্যাখ্যা থাকে না। অথচ সমাজে এগুলোও ঘটছে।
মাদকদ্রব্য আমদানি, রপ্তানি ও সেবন নিষিদ্ধ কাজ। অথচ দেশের অনেক উঁচু-নিচু মানুষ শুধু নিজের অবৈধ অর্থ উপার্জনের জন্য গোটা দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে কুণ্ঠাবোধ করছে না। সামান্য কারণে হাতাহাতি বা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মারামারি হচ্ছে হরহামেশাই। নানান কারণে খুনাখুনি বা হত্যাকা-ও কম ঘটছে না।
এসব অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত লেখালেখি, সভা-সেমিনার, মানববন্ধনসহ নানানভাবে প্রতিবাদ করা হচ্ছে। আবার দেশীয় আইনে নির্দিষ্ট নিয়মে অপরাধীরা শাস্তিও পাচ্ছে; কিন্তু অপরাধ ও অপরাধের প্রবণতা কমছে না। ইসলামে এসব অপরাধকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আল্লাহর ভয় তথা তাকওয়া অর্জনের জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যেমন আল্লাহপাক বলেছেন, ‘হে বিশ্বাসীরা! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় কর আর তোমরা মুসলমান (পরিপূর্ণ) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।’ (সূরা-আল ইমরান : ১০২)।
তাকওয়া অর্জনের দ্বারা বান্দার জন্য যে কোনো অপরাধ থেকে বিরত থাকা সহজ হয়। এমনকি তাকওয়া অর্জনকারীকে স্বয়ং আল্লাহই স্বীয় কুদরতে পাপকাজ থেকে রক্ষা করেন।
তাকওয়ার পরিচয় : তাকওয়ার শাব্দিক অর্থ ভয় করা, সাবধানতা অবলম্বন করা বা বিরত থাকা। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালা সব কিছু দেখেন এবং শোনেন এ বিশ্বাস পোষণ করে, আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার ভয় অন্তরে রেখে গোটা জীবনের যাবতীয় কর্ম ও কথা শরিয়তের বিধান অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করে তার আদেশকৃত বিষয়গুলো শিরক ও বিদাতমুক্তভাবে পালন করা এবং তার নিষেধকৃত বিষয়গুলো বর্জন করা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘রাসুল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো, আর যা নিষেধ করেন তা বর্জন করো।’ (সূরা হাশর : ৭)। আর যে বা যারা তাকওয়া অর্জন করে তথা আল্লাহকে ভয় করে তাদের মুত্তাকি বলা হয়। এমন ব্যক্তিদের মহান আল্লাহ ভালোবাসেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আর মনে রেখ, নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকিদের সঙ্গে আছেন।’ (সূরা বাকারা : ১৯৪)।
সাধারণভাবে তাকওয়া অর্জনকারী ব্যক্তি কোনো অপরাধ বা দুর্নীতি করেন না বা করতে পারেন না। কারণ তিনি জানেন এসব কাজ করা তাকওয়ার পরিপন্থি এবং আল্লাহপাক ও রাসুল (সা.) কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত। যেমন আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে অন্যের সম্পদকে অবৈধভাবে দখল বা ভোগ করতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহপাক বলেন, ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অপরের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের ধন-সম্পত্তির কিয়দংশ জেনেশুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকদের কাছে পেশ করো না।’ (সূরা বাকারা : ১৮৮)। তাই তাকওয়াবান মানুষ এমন কাজ করতে পারেন না।
তাকওয়ার অধিকারী ব্যক্তি ঘুষের লেনদেন করতে পারে না। কারণ তা হারাম এবং এর পরিণতি ভয়াবহ। দুর্নীতির বাহন ঘুষের ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ঘুষদাতা ও ঘুষখোর উভয়ের ওপর আল্লাহর অভিশাপ।’ (বোখারি ও মুসলিম)। অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) আরও বলেন, ‘ঘুষদাতা ও ঘুষখোর উভয়ই জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে।’ (তাবারানি)।
মুত্তাকি ব্যক্তি খাদ্যে বা যে কোনো পণ্যে ভেজাল মেশাতে বা ত্রুটিযুক্ত পণ্যের ত্রুটি গোপন করে বিক্রি করতে পারে না। কারণ ব্যবসায়িক পণ্যে ভেজাল মিশিয়ে বিক্রি হারাম করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আল্লাহপাক বলেন, ‘তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে গুলিয়ে দিও না এবং তোমরা জেনেশুনে সত্যকে গোপন করো না।’ (সূরা বাকারা : ৪২)।
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জেনেশুনে কোনো ত্রুটিযুক্ত পণ্য বিক্রি করা কারও জন্য বৈধ নয়, যতক্ষণ না ক্রেতাকে ওই ত্রুটি সম্পর্কে অবহিত করা হয়।’ (বোখারি)। মহানবী (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ক্রেতাকে অবহিত না করে দোষযুক্ত পণ্য বিক্রি করে, সে অবিরাম আল্লাহর ক্রোধ ও ফেরেশতাদের অভিশাপে পতিত থাকবে।’ (ইবনে মাজাহ)।
তাকওয়াবান ব্যক্তি মাদক সেবন ও মাদকদ্রব্যের ব্যবসা করতে পারে না। কারণ এগুলো হারাম কাজ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা নিষেধ করেন, ‘হে মোমিনরা! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, বেদি, ভাগ্য নির্ণায়ক তীর অপবিত্র শয়তানি কাজ। সুতরাং তোমরা তা থেকে বিরত থাক। তাতে তোমরা সফলকাম হবে।’ (সূরা মায়েদা : ৯০)। মাদকের ব্যাপারে বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, ‘নেশা জাতীয় যে কোনো দ্রব্যই মাদক, আর যাবতীয় মাদকদ্রব্য হারাম।’ (মুসলিম)। অন্য হাদিসে এসেছে, মদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে এমন দশ শ্রেণির লোকের প্রতি রাসুল (সা.) অভিশাপ করেছেন। ১. যে লোক মদের নির্যাস বের করে, ২. প্রস্তুতকারক, ৩. মদপানকারী, ৪. যে পান করায়, ৫. মদের আমদানিকারক, ৬. যার জন্য আমদানি করা হয়, ৭ বিক্রেতা, ৮. ক্রেতা, ৯. সরবরাহকারী এবং ১০. এর লভ্যাংশ ভোগকারী।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মিশকাত)।
ধর্ষণ তো দূরের কথা, তাকওয়াবান ব্যক্তি কোনো পরনারীর দিকে কুনজরও দেয় না। কেননা আল্লাহপাক তা করতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহপাকের নিষেধাজ্ঞা হলো, ‘হে নবী! মোমিন পুরুষদের বলে দিন তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনমিত রাখে এবং যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য পবিত্রতম পন্থা। নিশ্চয়ই তারা যা কিছু করে আল্লাহ তা অবহিত।’ (সূরা নূর : ৩০)। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো গায়রে মুহরিম বা বেগানা নারীর সৌন্দর্যের প্রতি কামনার দৃষ্টিতে তাকাবে, কেয়ামতের দিন তার চোখে সিসা ঢেলে দেওয়া হবে।’ (ফাতহুল কাদির)। অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) হজরত আলী (রা.) কে বলেন, ‘হে আলী! দৃষ্টির পর দৃষ্টি ফেল না। অনিচ্ছাকৃত যে দৃষ্টি পড়ে এর জন্য তুমি ক্ষমা পাবে; কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টির জন্য ক্ষমা পাবে না।’ (আবু দাউদ)। অপরপক্ষে নারীদের উদ্দেশ্যেও বলা হয়েছে, ‘হে নবী (সা.) ঈমানদার নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা যেন প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশকে আবৃত করে রাখে…।’ (সূরা নূর : ৩১)।
একইভাবে মুত্তাকি ব্যক্তি সন্ত্রাসী কর্মকা- করে না। কারণ তিনি আল্লাহকে ভয় করেন এবং ভালোবাসেন। মুত্তাকি ব্যক্তি জঙ্গিবাদী, আত্মঘাতী বা অন্যায়ভাবে হত্যাকারী হতে পারে না। কারণ তার রব তাকে এসব করতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যাদের হত্যা করা আল্লাহ হারাম করে দিয়েছেন তাদের ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া হত্যা করো না।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ৩৩)।
আল্লাহপাক আরও বলেন, ‘নরহত্যা বা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কর্মকা-ের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন দুনিয়ার সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে হত্যা করল। আর কেউ কারও প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন সব মানুষের প্রাণ রক্ষা করল।’ (সূরা মায়েদা : ৩২)।
এভাবে মুত্তাকি ব্যক্তি যে কোনো অপরাধ বা দুর্নীতি থেকে বিরত থাকে। সেই সঙ্গে মুত্তাকি ব্যক্তি জবাবদিহিতার বিষয়টি সব সময় মাথায় রাখে অর্থাৎ তাকওয়াবান ব্যক্তি জানে যে, আল্লাহর কাছে দাঁড়াতে হবে তথা আয়-ব্যয়সহ জীবনের প্রতিটি বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে। কেননা মহানবী (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘কেয়ামতের দিন পাঁচটি বিষয়ে জবাব না দেওয়া পর্যন্ত কোনো মানবসন্তান তার প্রতিপালকের সামনে পা বাড়াতে পারবে না। এক. জীবন কীভাবে অতিবাহিত করেছ? দুই. যৌবন কীভাবে কাটিয়েছ? তিন. ধনসম্পদ কীভাবে উপার্জন করেছ? চার. কোন পথে সম্পদ ব্যয় করেছ? পাঁচ. অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছ? (তিরমিজি)।
সর্বোপরি মানুষ প্রধানত দুইভাবে অন্যায় কাজে জড়িয়ে পড়ে। এক. নিজস্ব চিন্তাচেতনা বা বুদ্ধি থেকে। দুই. অন্য কারও দ্বারা প্ররোচিত বা প্রলুব্ধ হয়ে। মহান আল্লাহ নিজেই মুত্তাকি ব্যক্তিকে এসব পদ্ধতির দ্বারা অপরাধে জড়ানো থেকে বাঁচিয়ে রাখেন।
প্রথমত, তিনি মুত্তাকি ব্যক্তিকে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করার শক্তি দিয়ে অন্যায় করা থেকে বাঁচান। আল্লাহপাক বলেন, ‘হে মোমিনরা! যদি তোমরা তাকওয়া অর্জন করো তবে আল্লাহ তোমাদের সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করার শক্তি দেবেন, তোমাদের পাপ মোচন করবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ তায়ালা অতিশয় মঙ্গলময়।’ (সূরা আনফাল : ২৯)।
দ্বিতীয়ত, মহান আল্লাহ নিজেই মুত্তাকিদের শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করেন। আল্লাহপাক বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা তাকওয়া অর্জনকারী হয় তাদের যখন শয়তান কুমন্ত্রণা দেয় তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তৎক্ষণাত তাদের দৃষ্টি খুলে যায়।’ (সূরা আরাফ : ২০১)।
তৃতীয়ত, মুত্তাকিদের তাদের সঙ্গী-সাথিরা (মোনাফেক) তথা বন্ধু-বান্ধব, পরিবার, আত্মীয়স্বজন বা অফিসের সহকর্মীরা কেউই ভ্রান্তিতে বা দুর্নীতিতে জড়ানোর ক্ষেত্রে প্রলুব্ধ করতে পারে না। এ ক্ষেত্রেও তাকওয়ার শক্তি দ্বারা মুত্তাকি ব্যক্তি পাপাচার থেকে রেহাই পান। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহপাক বলেন, ‘তাদের সঙ্গী-সাথিরা তাদের ভ্রান্তির দিকে টেনে নেয়, তারপরও তারা এ বিষয়ে কোনো ত্রুটি করে না।’ (সূরা-আরাফ : ২০২)।
তাকওয়া অর্জনকারী যেহেতু মহান আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে এবং যে কোনো পর্যায়ের অপরাধ বা দুর্নীতি থেকে বিরত থাকে সে জন্য এমন ব্যক্তির সম্মান ও মর্যাদাও সবচেয়ে বেশি। মহান আল্লাহপাকের বাণীÑ ‘তোমাদের মাঝে সে ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকি।’ (সূরা হজুরাত : ১৩)। হাদিসে এসেছে রাসুল (সা.) কে প্রশ্ন করা হলো, ইয়া রাসুলুল্লাহ মানুষের মধ্যে অধিক সম্মানিত কে? তিনি বললেন, তাদের মধ্যে যে অধিক মুত্তাকি বা পরহেজগার। (বোখারি ও মুসলিম)। সর্বশেষ এমন ব্যক্তির জন্য রয়েছে জান্নাত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে এবং নিজেকে কুপ্রবৃত্তি থেকে ফিরিয়ে রাখে, নিশ্চয় জান্নাত হবে তার আবাসস্থল।’ (সূরা নাজিয়াত : ৪০-৪১)।
সুতরাং তাকওয়ার গুরুত্ব ও শক্তি অনেক বেশি। আর এ তাকওয়ার বাহন হলো ব্যক্তি চরিত্র এবং এ কথা চিরন্তন সত্য যে, দুর্নীতি, সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে ব্যক্তি পর্যায়ে নৈতিকতা, সততা ও কর্তব্যনিষ্ঠা খুবই জরুরি, যা তাকওয়া অর্জনকারীদের চরিত্রে সর্বদাই বিদ্যমান। তাই সমাজ বা রাষ্ট্র থেকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে তাকওয়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *