চলতি বোরো মৌসুমে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাহাপুর গ্রামে সোনালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠের জমিতে কৃষক আক্তারুজ্জামান পাটওয়ারী বেগুনী রঙের ধানের আবাদ করে সবার নজর কেড়েছেন।

চারদিকে সবুজ ধান ক্ষেত থাকলেও মাঝখানে এক টুকরো জমিতে বেগুনি রঙের ধান গাছ দেখে মানুষের চোখ জুড়িয়ে যায়।

সবুজ ধানের বেষ্টনির মধ্যে বেগুনী এ ধান ক্ষেতটি দেখলে মনে হতে পারে কোন আগাছা বা বালাই আক্রান্ত ধানের ছবি। আসলে এর কোনটিই নয়, এটি এমন একটি ধানের জাত, যার পাতা ও কান্ডের রঙ বেগুনী। শুধু ধান গাছ নয় এর চালের রং ও বেগুনী। তাই কৃষকদের কাছে এখন পর্যন্ত এ ধানের পরিচিতি বেগুনী রঙের ধান বা রঙ্গিন ধান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, কৃষক আক্তারুজ্জামান পাটওয়ারী নিজ উদ্যোগে আগ্রহের বসে এ ধান চাষাবাদ করেছেন। ভিন্ন রঙের ধান ক্ষেতটি সড়কের পাশে হওয়ায় পথচারিদের দৃষ্টি কেড়েছে। ইতোমধ্যে ধানগাছে ফুল এসেছে এবং ধানের ছড়ার আকার ধারণ করেছ।

ফরিদগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বেগুনী রঙের এ ধান বিদেশী জাত নয়, দেশীয় শুক্রানু প্রাণরস (জার্মপাজম)। মাঠ পর্যায়ের অবস্থা বিবেচনায় ধানটির জীবনকাল ১৪৫ থেকে ১৫৫ দিন এবং ফলন একরে ৫৫ থেকে ৬০ মণ। যা আনুমানিক শতাংশে ২০ কেজি (৪ থেকে ৫ টন প্রতি হেক্টরে) হতে পারে। এ ধানের চাল হবে বেগুনী ও সুস্বাধু।

বেগুনী ধান চাষ সর্ম্পকে কৃষক আক্তারুজ্জামন পাটওয়ারী জানান, তার আত্মীয়ের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে ২৫ শতাংশ জমিতে এ ধানের আবাদ করেছি। শুনেছি তিনি চীন থেকে এ বীজ সংগ্রহ করেছেন। এখন পর্যন্ত ধানক্ষেতের অবস্থা ভালো। গাছ থেকে ধানের ছড়া বের হতে শুরু করেছে। মাত্র দুই কেজি ধানবীজ দিয়ে চারা উৎপাদন করে জমিতে রোপণ করি। আশাকরি অনুকূল আবহাওয়া থাকলে ভালো ফলন হবে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নূরে আলম জানান, ওই কৃষক নিজ উদ্যোগে বীজ সংগ্রহ করে রঙ্গিন ধান আবাদ করেছে। আমরা বেগুনী রংয়ের ধানক্ষেতটি পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি। এর ফলন কি রকম হবে তা জানতে ধান কাটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ফলন ভালো হলে ভবিষ্যতে এ ধানের আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সূত্র: বাসস

Related Post

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *