ভারতে বন্ধ করা হলো টিকটক অ্যাপ। আজ বুধবার চাইনিজ এই মোবাইল অ্যাপটি নিষিদ্ধ করতে কেন্দ্রকে নির্দেশ দেন মাদ্রাজ হাইকোর্ট।

আদালতের পর্যবেক্ষণের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে জানানো হয়, টিকটক অ্যাপের কনটেন্ট অনুপযুক্ত৷ এখানে পর্নগ্রাফির মতো কনটেন্টও রয়েছে যা কমবয়সীরা সহজেই নাগালে পেয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া এই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে স্কুল পড়ুয়ারা যেভাবে অনলাইনে অপরিচিতদের সঙ্গে নিজেদের এক্সপোজ করছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বেঞ্চ।

মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি এন কিরুভাকরণ ও বিচারপতি এসএস সুন্দরের নির্দেশে তিনটি বিষয় উঠে আসে। প্রথমত, টিকটক মোবাইল অ্যাপকে নিষিদ্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, টিকটক মোবাইল অ্যাপে তৈরি কোনো ভিডিও মিডিয়া সম্প্রচারিত করতে পারবে না। তৃতীয়ত, কমবয়সীদের বিশেষত ১৮’র কম বয়সীরা যাতে সাইবার অপরাধের শিকার না হয় তা আটকাতে আমেরিকার মতো চিলড্রেনস অনলাইন প্রাইভেসি প্রোটেকশন অ্যাক্ট চালু করা যায় কিনা তা নিয়ে ভাবতে হবে।

বিচারপতিরা তাদের নির্দেশে ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করেন। এই দুই দেশে নিষিদ্ধ টিকটক। যদিও বাংলাদেশে গুগল প্লে স্টোর থেকে টিকটক অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাচ্ছে। তবে অ্যাপটি চলছে না। অবশ্য কেউ কেউ ভিপিএন এর মাধ্যমে টিকটক চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতিরা আরও বলেন, এই অ্যাপের আসক্তির জেরে কমবয়ীরা ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে চলেছে। মাদুরাইয়ের এক আইনজীবী ও সমাজকর্মী মুথু কুমার টিকটককে নিষিদ্ধের দাবিতে মাদ্রাজ হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেন।

পিটিশনে তিনি উল্লেখ করেন, এই মোবাইল অ্যাপে অতিরিক্ত আসক্তির জেরে কমবয়সীদের মধ্যে সংস্কৃতির অবনতি ঘটছে। পর্নগ্রাফি সহজলভ্য হয়ে যাচ্ছে। শিশুনিগ্রহ বাড়ছে। ভারতে প্রতিমাসে ৫৪ মিলিয়ন টিকটক ব্যবহার করে। ২০১৮ সালে বেজিংয়ের ননগেম মোবাইল অ্যাপটি ছিল ছিল চতুর্থ ডাউনলোডেড অ্যাপ। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৬ এপ্রিল ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

প্রসঙ্গত, এর আগে বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিরোধী প্রায় দুই লাখ ভিডিও মুছে ফেলেছে আলোচিত ভিডিও ফানি অ্যাপস টিকটক। এছাড়া আরও ১৫০টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে টিকটক কর্তৃপক্ষ।

Related Post

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *