মৃত্যু তো অনিবার্য- প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকা শক্তিমান এ অভিনেতার সময় কাটে এখন সৃষ্টিকর্তার প্রার্থনায়। ইসলামিক বইও পড়েন তিনি। বার্ধক্যজনিত কারণে নিয়মিত ওষুধও সেবন করতে হয় তার।

মৃত্যুর কাছাকাছি সময়টাতে আছেন বলে দাবি করেন সোহেল রানা। তবে এ সময়টা কতটা উপভোগ করছেন জানতে চেয়ে সোহেল রানা বলেন. ‘আমি এখন যে সময়ে আছি এ সময়কে গ্রহণ করতে আমি প্রস্তুত ছিলাম।

কেননা এ সময়টি সবার জীবনেই আসে। আমরা জীবনতত্ত্ব থেকে তা জানতে পারি মৃত্যু তো অনিবার্য। তবে তিক্ততা কী? সময় যাচ্ছে একদিন হয়তো না ফেরার দেশে চলে যাব।’

এ সময়ে এসে অভিনয় কিংবা অভিনয় জগৎকে কতটা মনে পড়ে জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, ‘৪৪ বছর চলচ্চিত্র জগতে কাটিয়েছি।

মানুষের অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। এতেই আমি সন্তুষ্ট। অভিনয়ের জন্য মন কাঁদে। আমি এখনও অভিনয় করতে প্রস্তুত। এমন বাক্যে আমি বিশ্বাসী নয়।

অভিনয় জীবনে আমি যা করেছি তাতেই আমি সন্তুষ্ট। অভিনয় নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। যতদিন বাঁচি যেন ইবাদত করতে করতে বাঁচি এটাই প্রত্যাশা।’

বাংলাদেশে না হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিনিয়র শিল্পীদের ওপর ভিত্তি করে গল্প লিখেন, ছবি নির্মাণ করেন নির্মাতারা। সে অনুযায়ী কোনো চিত্রনাট্য তৈরি করা হলে কাজ করবেন কিনা জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, ‘ভালো গল্প এবং চরিত্র হলে অভিনয় করব।

তবে অভিনয় না করতে পারলেও কোনো আক্ষেপ থাকবে না আমার। প্রথমত আমার শরীরে সয় এমন চরিত্র হতে হবে। আর দ্বিতীয়ত, একটি দৃশ্যে থাকার জন্য কিন্তু অভিনয় করব না।

আমার চরিত্রের মধ্য দিয়ে যদি কোনো মেসেজ দেয়া যায় তাহলে অভিনয় করব।’ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ছবি ‘ওরা এগার জন’ নির্মিত হয় মাসুদ পারভেজের প্রযোজনার মাধ্যমে।

পরবর্তীতে মাসুদ পারভেজ মাসুদ রানার সিরিজের প্রথম ছবিতে সোহেল রানা হয়ে অভিনয়ে আসেন। শুধু তাই নয়, ঢাকাই সিনেমায় মারধরের একটি ধারা তিনি তৈরি করেন। তা হচ্ছে ‘কারাত’।

সুন্দর গল্পের বাইরেও সিনেমাতে ‘কারাত’ মারপিট ব্যবহার করে অনেক ছবি জনপ্রিয় করেছেন তিনি। একটা সময় শুটিং নিয়েই ছিল তার সব ব্যস্ততা। তবে চলচ্চিত্রে আসার আগে তিনি ছাত্ররাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন।

অভিনয়ে মনোনিবেশ করার পর রাজনীতিতে সময় কম দিতেন। তার অভিনয় ও রাজনীতি ছিল শুধু দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে।

শুরু থেকেই চেষ্টা করেছেন নতুন কিছু প্রকাশ করার। সে অনুযায়ী কাজ করে আসছেন। মূলত তার হাত ধরেই অনেক নির্মাতা ও অভিনেতা প্রতিষ্ঠার সন্ধান পান। মাসুদ পারভেজ ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের তুখোড় নেতা ছিলেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন মুক্তিযুদ্ধে। তিনি ২০০৯ সালে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যপদ গ্রহণ করে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।

দলটির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের নির্বাচনবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সোহেল রানা ১৯৪৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকাতে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্ম ঢাকাতে হলেও পৈতৃক বাসস্থান বরিশালে। অভিনয়ের স্বীকৃতি স্বরূপ এ অভিনেতা তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন।

Related Post

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *