ঘটনায় মানুষ আতংকিত হয়ে পড়ে। অনেকের ঘরের টিন শিলা খন্ডের আঘাতে তছনছ হয়ে গেছে। মাঠের ফসল গুড়িয়ে গেছে। গাছের আম, লিচুসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। মানুষ শুধুই হা-হুতাশ আর বিলাপ করছে।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসা মুহুর্তে ঝিনাইদহের পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি গ্রামে বৃষ্টি ছাড়াই শুধু শিলা খন্ড বর্ষনের খবর পাওয়া গেছে।

সদর উপজেলার বংকিরা গ্রামের রফিকুল ইসলাম দুলু জানান, কালো মেঘ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ব্যাক ভাবে বড় বড় শিলা খন্ড পড়তে থাকে। প্রায় ২০ মিনিট ধরে শিলা খন্ড পড়ার পর ছিটেফোটা বৃষ্টি শুরু হয়।

একই এলাকার কৃষক ইছানুল বিশ্বাস জানান, এ ধরনের বড় শিলা খন্ড পড়া তার জীবনে দেখেন নি। তিনি বলেন মাঠের ধানে থোড় গজিয়েছে। শিলা বৃষ্টিতে ধানের প্রায় সব নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

এদিকে হাজরা গ্রামের কৃষক হায়দার আলী জানান, বড় বড় সাইজের শিলা বৃষ্টিতে তাদের এলাকায় ধানের পাশাপাশি গাছ,ঘরবাড়ি ও পান বরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারের কাছে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন যাচ্ছি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিলন কুমার ঘোষ বলেন, প্রতিদিনই শিলাবৃষ্টি ও ঝড় হচ্ছে। ফলে আমরা এখনো ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করতে পারেনি।

তবে আমরা জানতে পারছি কোন কোন এলাকায় বেপক ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন এ ধরণের দুর্যোগ থেকে একমাত্র আল্লাহ’ই রক্ষা করতে পারেন

চাঁদা না দেয়ায় চট্টগ্রামে যুবকের পা ড্রিল মেশিন দিয়ে ফুটো করল সন্ত্রাসী

চট্টগ্রামে নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন হাদু মাঝি পাড়া এলাকায় চাঁদা না দেয়ায় আমজাদ হোসেন নামে এক যুবককে ড্রিল মেশিন দিয়ে পা ফুটো করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত আমজাদ হোসেন নগরীর এক কিলোমিটার এলাকার একটি ওয়ার্কশপে কাজ করেন।

বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আমজাদকে রক্ষা করতে এসে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছেন বাবা নুরুল আজিম ও ভাই মো. আরাফাত।

আহত আমজাতের বাবা নুরুল আজিম জানান, কয়েকদিন করে স্থানীয় সন্ত্রাসী চাঁদা দাবি করে আসছিল আমজাতের কাছে। কিন্তু একটি ওয়ার্কশপে কাজ করা আমজাতের পক্ষে তাদের চাহিদা মত চাঁদা দিতে সার্মথ্য না হওয়ায় বৃহস্পতিবার হামলা চালায়।

এ সময় সন্ত্রাসীরা ড্রিল মেশিন দিয়ে পা ফুটে করে দেয়। তাকে রক্ষা করতে আসলে সন্ত্রাসীর আমাকে এবং ছোট ছেলের উপর হামলা চালায়। আহত আমজাদ হোসেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চান্দগাঁও থানার ওসি আবুল বশর বলেন, ‘সন্ত্রাসী হামলায় একই পরিবারের তিন জন আহত হওয়ার কথা শুনেছি। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে মামলা দায়ের করতে বলা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই বলল, ‘দাদি আমরার খেলার মাঠ নাই’

পান্না আক্তার ময়মনসিংহের নান্দাইলের পাঁচরুখি সরকারি বিদ্যালয়ে পড়ে। সঙ্গে ভালো ফুটবল খেলোয়াড়ও সে। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তার দল। ৪ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেয় সে।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেওয়অর সময় পান্না বলে ওঠে, ‘দাদি আমরার খেলার মাঠ নাই। একটা খেলার মাঠের ব্যবস্থা করবেন?’

পান্নার আবদারে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে পান্না আজ শুক্রবার বলে, ‘আমার নিয়তই ছিল প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরবাম, কথা কইয়াম। পুরস্কার নেওয়ার সময় দাদি ডাইক্যা খেলার মাঠের কথা কইয়া আশা পূরণ অইছে।’

বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় ময়মনসিংহের নান্দাইলের পাঁচরুখি সরকারি বিদ্যালয়ের মেয়েরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে তারা রংপুর বিভাগকে ১-০ গোলে হারায় তারা।

পান্নার বাড়ি নান্দাইল উপজেলার ১০ নম্বর শেরপুর ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামে। তাঁর বাবা দুলাল মিয়া প্রায় ১০ বছর ধরে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় পিয়ন হিসেবে কর্মরত। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি সেখানেই বসবাস করেন। আরেক মেয়ে হালিমাও একই দলের খেলোয়াড়। সে পড়ে পঞ্চম ও পান্না তৃতীয় শ্রেণিতে।

গ্রামে দাদির সঙ্গে থাকে হালিমা ও পান্না। দুইজনই ফরোয়ার্ডের খেলোয়াড়। বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে দুইজনের খেলাই সবার নজর কাড়ে।

দলটির সহকারী কোচ দেলোয়ার হোসেন উজ্জল জানান, নান্দাইলের ঢাকাস্থ সমিতির অনুরোধে দলটি আরো দুই দিন ঢাকায় অবস্থান করবে। শনিবার চ্যাম্পিয়ন দলটিকে ঢাকায় সংবর্ধনা দেবে সমিতি। এরপর নিজ এলাকায় যাবে দলটি।

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •