প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান জিয়া পরিবারের সদস্যরা। সাক্ষাতের আবেদনের একটি খসড়াও তারা চুড়ান্ত করেছেন। খসড়াটি তাদের ঘনিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে সংশোধন করা হচ্ছে। খসড়া চুড়ান্ত হলে; তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। বেগম জিয়ার একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন, ‘আজ অথবা আগামীকাল অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষে আমরা বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবো। এই সাক্ষাতেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে মানবিক আবেদনের বিষয়টি চুড়ান্ত করা হবে।’ ঐ আত্মীয় এটাও বলেছেন যে,‘ তিনি (বেগম জিয়া) আগে এরকম আবেদনের বিপক্ষে ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মুক্তি। কিন্তু তার শারিরীক অবস্থা এখন সত্যিই খারাপ, একারণেই আমরা জোর করে এরকম আবেদনে তাকে রাজী করাচ্ছি।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আবেদনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেগম জিয়ার দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে ‘এদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আপনারা দুই নেত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দুজনই নির্যাতন ভোগ করেছেন। তাই আপনার আন্দোলনের সহযাত্রীর প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গী কামনা করছি।’ আবেদনে বলা হয়েছে,‘বেগম জিয়া দীর্ঘদিন নির্জন কারাবাসের কারণে শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পরেছেন। তিনি এখন হাটাচলা করতে পারছেন না। তার হাত ক্রমশ: অবশ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও তিনি ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং ক্ষুধা মন্দায় ভুগছেন। তার সুচিকিৎসা এখন অতীব প্রয়োজন। কারান্তরীন অবস্থায় তার সুচিকিৎসা সম্ভব নয় বিধায় তার সাময়িক মুক্তি প্রয়োজন।’ জানা গেছে চিঠিতে ‘হয়রানি মূলক এবং মিথ্যা মামলায় বন্দী’ সংক্রান্ত কিছু কথা ছিল, কিন্তু বেগম জিয়ার একজন আইনজীবী মানবিক আবেদন সংক্রান্ত চিঠিতে এ ধরনের বক্তব্য না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। রাজনৈতিকভাবে বিতর্ক তৈরি হতে পারে এমন কোনো বক্তব্য যেন আবেদনে না থাকে সেটাও নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন ঐ আইনজীবী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, মানবিক আবেদনটি শুধু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া হবে নাকি পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এ নিয়ে মতবিরোধ ছিল। কিন্তু বিএনপি মহাসচিবই পরামর্শ দিয়েছেন ‘ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ’ হলে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টির গুরুত্ব বুঝবেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর একটি মানবিক হৃদয় আছে। তিনি যদি সত্যি বোঝেন যে, বেগম জিয়া গুরুতর অসুস্থ তাহলে হয়ত বিষয়টি বিবেচনা করবেন।’ বেগম জিয়ার একজন আত্মীয়ও মনে করছেন, ‘বেগম জিয়ার অসুস্থতার গভীরতা প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত হয়ত পৌঁছাচ্ছে না। আমরা যতদূর জানি প্রধানমন্ত্রীর একটি মানবিক হৃদয় আছে, তিনি মানুষের কষ্ট বোঝেন। এজন্যই বিষয়টি সরাসরি তাঁর গোচরে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তবে বিএনপির একটি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ অথবা বেগম জিয়ার মুক্তির আবেদনের মূল পরিকল্টনাটি বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর। তিনি বেগম জিয়ার প্যারোলের ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে দেন দরবার করছেন। তিনি মনে করছেন, বেগম জিয়ার প্যারোল দিতে পারে একজনই, তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র – বাংলা ইনসাইডার

Related Post

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *