কথা ছিলো ছুটি নিয়ে মায়ের কাছে ফিরবেন ফায়ারম্যান সোহেল রানা। ফিরছেন ঠিকই। কিন্তু একেবারে জীবন থেকে ছুটি নিয়ে। নিথর দেহে শেষ বারের মতো মায়ের কাছে ফিরছেন বীরের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে।

ফায়ারম্যান সোহেল রানার মরদেহ এখন রয়েছে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার চৌগাংগা ইউনিয়নের কেরুয়ালা গ্রামের পথে। আজ মঙ্গলবার(৯ এপ্রিল) বাদ আসর অনুষ্ঠিত হবে তার দ্বিতীয় ও শেষ জানাজা। প্রিয় শিক্ষাঙ্গণ চৌগাংগা শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টায় ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তরে সোহেল রানার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে সকালে কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান সোহেল রানাকে সম্মান জানানো হয়। বিউগলের সুর বাজিয়ে ফায়ার সার্ভিসের পতাকায় মোড়ানো সোহেল রানার কফিনে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ফায়ার সার্ভিসের চৌকস দল।

গত ২৮ মার্চ বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে আটকা পড়াদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন ফায়ারম্যান সোহেল রানা। তারপর থেকে সিএমএইচে আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে রেখে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল।

অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত শুক্রবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সোহেল রানাকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়।

কিন্তু তাকে আর বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসকদের প্রাণান্ত চেষ্টা আর দেশবাসীর অফুরান প্রার্থনাকে ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। সোমবার (৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৭ মিনিটে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ফায়ার ফাইটার সোহেল রানা।

পরে সোমবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিহত সোহেল রানার মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। রাত ১০টা ৪০মিনিটে সোহেল রানাকে বহনকারী সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

সোহেল রানার মরদেহ রাখা হয় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) মর্গের হিমঘরে।

Related Post

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *