অন্ধকার ছেড়ে আলোয় আসার প্রতশ্রুতিতে পাবনায় ৫৯৫ জন চরমপন্থী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে জেলা স্টেডিয়ামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের উপস্থিতিতে অস্ত্র জমা দিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করেন। তারা ৬৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৭৫টি স্থানীয়ভাবে তৈরি অস্ত্র জমা দিয়েছেন।

দেশের ১৪টি জেলার পূর্ববাংলার সর্বহারা, পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা), নিউ পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি ও কাদামাটির নামের ৪টি চরমপন্থি সংগঠনের ৫৯৫ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। এসময় তারা ৬৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৭৫টি দেশীয় অস্ত্র জমা দেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ভুল বুঝে যারা উগ্রবাদ চরমপন্থি সংগঠনে যোগ দিয়েছিল, তারা নিজেদের ভূল উপলব্ধি করতে পেরে আত্মসমর্পণ করছেন। জলদস্যু, মাদক কারবারী ও চরমপন্থিরা সবাই একে একে আত্মসমর্পণ করছে। আমাদের পুলিশ, গোয়েন্দা বাহিনীর সাথে ১০ বছর আগের বাহিনীর তুলনা করা চলবে না। কারন বাংলাদেশের আইনশৃংখলা বাহিনী অত্যন্ত দক্ষ। তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে পার পাওয়া যাবে না। যে সকল চরমপন্থি সদস্যরা আত্মসমর্পণ করলেন তারা যেন স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন এজন্য আর্থিক অনুদান দেয়া হচ্ছে। আত্মসমর্পনকারীদের আইনী সহায়তার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাপনের ব্যবস্থা করবে সরকার।

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম (বিপিএম, পিপিএম) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন পুলিশের আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাভোকেট শামসুল হক টুকু, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স, পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মকবুল হোসেন, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবীর, রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জি: এনামুল হক, পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নাদিরা ইয়াছমিন জলি, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেন বিপিএম (বার), পিপিএম ও পাবনার জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন।

দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ১৪টি জেলা থেকে মোট ৫৯৫ জন চরমপন্থী আত্মসমর্পন করেন। এর মধ্যে পাবনা জেলার ১৩২ জন, ফরিদপুরের ২৭ জন, রাজবাড়ীর ৩৪, সিরাজগঞ্জের ৬৯, নাটোরের ২৭, নওগাঁর ৭০, বগুড়ার ১৫, টাঙ্গাইলের ৩১, রাজশাহীর ৬০, খুলনার ৩৫, নড়াইলের ২, যশোরের ২, সাতক্ষিরার ৬ ও জয়পুরহাট জেলার ৮২ জন চরমপন্থী দলের নেতা-কর্মী রয়েছেন।

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *