নয়ন দাস, স্টাফ রি‌পোর্টার, সম‌য়ের কন্ঠস্বর: দীর্ঘ‌দিন ধ‌রে বিএন‌পি’র রাজ‌নী‌তির সা‌থে জ‌ড়িত ঢাকা মহাগর উত্তরের ৭নং ওয়ার্ড সভাপ‌তি মো.রিয়াজ (৩৮)। দল থে‌কে নি‌জের জন্য কিছু না ‌জুট‌লেও রাজ‌নৈ‌তিক মামলায় স্থান মি‌লে‌ছে গাজীপুরের কা‌শিমপুর কারাগারে। ৬মাস ধ‌রে জেলখানায় ব‌ন্দী জীব‌নে হারি‌য়ে‌ছে অ‌নেক কিছু। হাজা‌রো স্বপ্ন নি‌য়ে সু‌খের সংসার শুরু কর‌লেও সব‌কিছু তছনছ ক‌রে দি‌ছে বিএন‌পি’র নামক এই শব্দটা। যা‌দের জন্য তার জীব‌নে এ‌তো কিছু তারাও রা‌খে‌নি কোন খবর?

একপর্যা‌য়ে বিষয়‌টি জান‌তে পারে বিএন‌পির কেন্দ্রীয় নেতারা। এরপর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিকে রিয়াজ‌কে জা‌মি‌ন করা‌তে নির্দেশ দিলেও এ‌গি‌য়ে যায়‌নি কেউ। এ‌তে স্বামীর প্র‌তি রাগ হ‌য়ে স্ত্রী, সন্তান‌কে নি‌য়ে চ‌লে গে‌ছে বাবার বা‌ড়ি মু‌ন্সিগ‌ঞ্জে। সবাই যার যার অবস্থা‌নে ঠিক থাক‌লেও রিয়াজ ছাড়া বৃদ্ধ মা‌য়ের জীবন কাট‌ছে অনাহা‌রে! তাই কখ‌নো একবারের জন্য ছাড়া পে‌লে আর ‌রাজ‌নী‌তি কর‌বে না রিয়াজ। কারণ দল দেয়‌নি কিছুই, কিন্তু হা‌রি‌য়ে‌ছে গে‌ছে বহু দূর!

রিয়া‌জের প‌রিবার এবং সদ্য জা‌মি‌নে মু‌ক্তি পাওয়া শরীয়তপু‌রের নড়িয়া উপজেলা যুবদল সাংগঠ‌নিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরের মাধ্যমে জানা যায় তার এমন করুন জীব‌নের ই‌তিহাস।

জানা গে‌ছে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সেক্রেটারি আহসান উল্লাহ হাসান কমিশনারের নেতৃত্বে ৭নং ওয়ার্ড সভাপ‌তি ও মৃত: ওয়াজেদ আলীর ছে‌লে রিয়াজ উ‌দ্দিন গত বছ‌রের ৬ অক্টোবর বিএনপি’র সমাবেশে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যায়। পথমধ্যেই মিরপুরের পল্লবী থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে রিয়াজ’সহ বেশ ক‌য়্জেন‌কে। প‌রে উক্ত থানায় ৫৩/৯/১৮ এবং ৫৪/৯/১৮ ভাংচুর মামলা ও আরেক‌টি পু‌লি‌শের বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৫/৩ ধারা মোতা‌বেক দুইটি পেন্ডিং মামলায় ‌গ্রেফতার দেখা‌নো হয় ওয়ার্ড সভাপ‌তি রিয়াজ‌কে।

এরপর প‌রিবারের লোকজন ছাড়া আর কেউ’ই দেখা-সাক্ষাত ও খোঁজ খবরও নেয়‌নি রিয়া‌জের। জেলখানায় সাথী যারা ছিল তারাও সবাই চ‌লে গে‌ছে জা‌মি‌নে। শুধু দি‌নের পর দিন জে‌লের ঘা‌নি টান‌ছে ৭নং ওয়ার্ড সভাপ‌তি রিয়াজ। আটকা জীব‌নে যে ব‌ন্দির সা‌থেই প‌রিচয় হয় তা‌কেই, অনু‌রোধ ক‌রে একবা‌রের জন্য হ‌লেও জা‌মি‌নের ব্যবস্থা করতে। কিন্তু ব‌ন্দি জীব‌নে কে কার কথা রা‌খে!

ত‌বে এক‌টি রাজ‌নৈ‌তিক মামলায় কা‌শিমপুর কারাগার থে‌কে সদ্য জা‌মি‌নে মু‌ক্তি পাওয়া নড়িয়া উপজেলা যুবদল নেতা মতিউর রহমান সাগর কথা রে‌খে‌ছে অসহায় রিয়া‌জের। মুক্তি পে‌য়েই ছু‌টে গে‌ছে বিএন‌পির কে‌ন্দ্রীয় কার্যাল‌য়ে। গত ২১ মার্চ গি‌য়ে কার্যাল‌য়ে দেখা মে‌লে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সা‌থে। বিস্তা‌রিত শু‌নে ‌রিজভী সা‌হেব রিয়াজকে মুক্ত করার জন্য নি‌র্দেশও দেয় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সেক্রেটারি আহসান উল্লাহ হাসান কমিশনাকে। কিন্তু ইটপাথ‌রের শহ‌রে কার কথা কে শো‌নে?

মতিউর রহমান সাগর সম‌য়ের কন্ঠস্বর‌কে ব‌লেন, জেলখানা হ‌চ্ছে খুবই ক‌ষ্টের একলা জীবন। আশাপাশে অ‌নে‌কে থাক‌লেও কেউ কা‌রো না। আমি রিয়াজ‌কে যেন জ‌া‌মি‌নে মুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয় এমন অনু‌রোধ ক‌রে ছু‌টে গে‌ছি কেন্দ্রীয় দপ্ত‌রে। সেখান থে‌কে ক‌ঠোর নি‌র্দেশও দি‌য়ে‌ছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিকে। ত‌বে লাভ হয় নাই, বে‌শি একটা। তাই‌তো বুঝলাম বিএন‌পি মানুষ কেন কর‌বে। এরা‌তো বিপ‌দে সময় কর্মীদের জন্য এ‌গি‌য়ে আসে না? এই জন্য এমন দল না করাই উ‌চিত। ত‌বে এজন্য বিএন‌পির অলসতা‌কে দায়ী ক‌রেন তি‌নি।

যোগা‌যোগ করা হয় রিয়া‌জের স্ত্রীর সা‌থে। তি‌নি নাম প্রকাশ না করা শ‌র্তে স্বামীর মু‌ক্তি জন্য সক‌লের সহ‌যো‌গিতা চে‌য়ে‌ছেন। আর স্বামীর বা‌ড়ি থে‌কে রাগ ক‌রে চ‌লে যাওয়ার কথা‌টিও স্বীকার ক‌রেন।

এ‌ বিষ‌য়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সেক্রেটারি আহসান উল্লাহ হাসান কমিশনারের সঙ্গে যোগা‌যোগ ক‌রেও তা‌কে পাওয়া যায়‌নি।

Related Post

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *