শহর মোহাম্মদাবাদের পুরনো ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়, প্রাচীনকালে বারোবাজারের নাম ছিল ছাপাইনগর৷ বারোজন সহচর নিয়ে খানজাহান আলী সেখানে যান৷ সেখান থেকেই এর নাম বারোবাজার৷ সেখানে খানজাহান আলী বেশ কিছু মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন৷ যুদ্ধ কিংবা মহামারিতে একসময় ধ্বংস হয়ে যায় বারোবাজার৷ থেকে যায় প্রাচীন ইতিহাস৷

ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের পশ্চিম পাশে এক গম্বুজ বিশিষ্ট পাঠাগার মসজিদ৷ লাল ইটের তৈরি এই মসজিদ আকারে ছোট৷ দীর্ঘদিন মাটি চাপা পড়ে থাকার পর ২০০৭ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদটি সংস্কার করে৷ জনশ্রুতি আছে সুলতানী আমলে নির্মিত এই মসজিদ কেন্দ্রীক একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার ছিল৷ মসজিদের পাশেই বড় আকারের একটি দিঘি, নাম পিঠেগড়া পুকুর৷

পাঠাগার মসজিদের পশ্চিম দিকের সড়কে দুটি বাঁক ঘুরলেই বিশাল দিঘি, নাম পীর পুকুর৷ এ পুকুরের পশ্চিম পাড়ে আছে বড় আকৃতির একটি মসজিদ৷ ১৯৯৪ সালে খনন করে মাটির নীচ থেকে বের করা হয়েছে স্থাপনাটিকে৷ এই মসজিদে ছাদ নেই, শুধু দেয়াল আছে৷ মসজিদটি লাল ইটের তৈরি৷

পীরপুকুর মসজিদের পাশের তাহেরপুর সড়ক ধরে সামান্য পশ্চিম দিকে হাতের বাঁয়ে আরেকটি প্রাচীন মসজিদের দেখা মিলবে৷ এর নাম গোড়ার মসজিদ৷ এ মসজিদটি চার গম্বুজ বিশিষ্ট৷ মসজিদের মিহরাব ও দেয়ালে পোড়ামাটির ফুল, লতাপাতা ফলের নকশাসহ নানান কারুকার্য মণ্ডিত৷ বাইরের দেয়ালও লাল ইটে মোড়ানো৷

২১ ফুট লম্বা ও ১৮ ফুট চওড়া এই মসজিদ খনন করা হয় ১৯৯৪ সালে৷ ছয় গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদের পশ্চিম দেয়ালে তিনটি মিহরাব আছে৷ এর দেয়ালগুলো প্রায় পাঁচ ফুট চওড়া৷ মাঝখানে আছে লম্বা দুটি কালো পাথর৷ জনশ্রুতি আছে, বারোবাজারে এক অত্যাচারী রাজা ছিল৷ প্রজাদের বলি দিয়ে মসজিদের সামনের দিঘির মধ্যে ফেলে দিত সে৷ এ কারণেই এর নাম হয় গলাকাটা৷

মসজিদটি খনন করা হয় ১৯৯৩ সালে৷ খননের সময় এখানে একটি ইট পাওয়া যায়, তাতে আরবি অক্ষরে লেখা ছিল, ‘শাহ সুলতান মাহমুদ ইবনে হুসাইন, আটশো হিজরী’৷ জনশ্রুতি আছে মসজিদের পাশে জোড়া কুড়েঘর ছিল বলেই এর নাম জোড় বাংলা মসজিদ৷

বড় একটি পুকুরের দক্ষিণ পাশে সাতগাছিয়া আদিনা মসজিদের ধ্বংসাবশেষ৷ এটির শুধু দেয়াল আর নীচের অংশই অবশিষ্ট আছে৷ জানা যায়, সর্বপ্রথম গ্রামের লোকজনই মাটিচাপা পড়ে থাকা এই মসজিদ উদ্ধার করে৷ আকারে এ এলাকার সবচেয়ে বড় মসজিদ এটি৷ প্রায় ৭৭ ফুট লম্বা ও ৫৫ ফুট চওড়া মসজিদের ভেতরে আছে ৪৮টি পিলার৷ পশ্চিম দেয়ালে লতা-পাতার নকশা সমৃদ্ধ তিনটি মিহরাব আছে৷

বারোবাজারের হাসিলবাগ গ্রামে বড় দিঘির পশ্চিম পাশে রয়েছে এক গম্বুজ বিশিষ্ট নুনগোলা মসজিদ৷ বর্গাকৃতির এ মসজিদে তিনটি অর্ধ বৃত্তকার মিহরাব আছে৷ এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ এটি৷ স্থানীয়রা একে লবণগোলা মসজিদও বলে থাকেন৷ তবে এ নামকরণের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না৷

নুনগোলা মসজিদের সামান্য পশ্চিমে এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ এটি৷ হাসিলবাগ মসজিদ নামে পরিচিত এ মসজিদের আরেক নাম শুকুর মল্লিক মসজিদ৷ পোড়া মাটির তৈরি মসজিদটি এ অঞ্চলের সবচেয়ে ছোট এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ৷

বারোবাজারে আরও যেসব প্রত্নস্থান রয়েছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঘোপের ঢিবি কবরস্থান, নামাজগাহ কবরস্থান, জাহাজঘাটা, মনোহর মসজিদ, দমদম প্রত্নস্থান, বাদেডিহি কবরস্থান, খড়ের দিঘি কবরস্থান ইত্যাদি৷ বারোবাজোরের মসজিদগুলোর সঙ্গে বাগেরহাটের কয়েকটি মসজিদের স্থাপত্য রীতিতে বেশ মিল খুঁজে পাওয়া যায়

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •