নুসরাত জাহান রাফির সঙ্গে দুর্ব্যবহারকারী পুলিশ সদসদ্যদের শাস্তির দাবি করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল করিম।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গের সামনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, নির্যাতিত নুসরাত থানায় গিয়েছিলেন প্রতিকার পেতে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশ তাকে অসম্মান করেছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং শাস্তিযোগ্য। শুনেছি, থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া রাষ্ট্রের দায়।

নিহত নুসরাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নুসরাত অন্যায়ের প্রতিবাদ করে গেছেন। সে সাহসী নারীদের কাছে দৃষ্টান্ত। আমরা তার কাছ বেঁচে থাকার, প্রতিবাদ করার শিক্ষা পাই। আজকে ‘নুসরাত দিবস’ ঘোষণা করার প্রয়োজন অনুভব করছি।

চেয়ারম্যান বলেন, অপরাধের সঠিক বিচার হচ্ছে না বলে এমন নৃশংসতা। আমরা দেখেছি, অভিযুক্ত অধ্যক্ষ হাসিমুখে কথা বলছেন। তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই অপরাধীরা এমন সাহস পাচ্ছে।

তিনি বলেন, দ্রুত বিচার সম্পন্নের জন্য নতুন আইনের দাবি উঠেছে এবং এটি সময়ের দাবি। তবে আইন করলেই সমাধান নয়। আইনের প্রয়োগ না করতে পারলে মানুষ রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

উল্লেখ্য, ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী ছিলেন নুসরাত জাহান রাফি। এই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা নুসরাতকে তার কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন- এমন অভিযোগে গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। ছাত্রীর স্বজনদের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় অধ্যক্ষের পক্ষের লোকজন নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন।

এরপর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন নুসরাত। গতকাল (বুধবার) রাত সাড়ে ৯টায় মারা যান তিনি।

Related Post

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *