উম্মতে মুহাম্মাদী “সর্বোত্তম উম্মত” কেন ? কুরআনে কারীমের উল্লেখিত আয়াতে উম্মতে মুহাম্মাদীর সকল মুমিন-মুসলমানকে খাইরুল উমাম তথা “সর্বোত্তম উম্মত” ঘোষণা করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, হে মুমিনগণ! তোমরা সর্বোত্তম জাতি। কারণ, তোমাদেরকে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের ন্যায় জগতবাসীর কল্যাণের নিমিত্তে দুনিয়াতে পাঠানো হয়েছে।

এ আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ “তোমরা বড় বড় সত্তরটি উম্মতের পূর্ণতাকারী এবং তোমরা ঐ সমস্ত উম্মতের মধ্যে আল্লাহ তা’আলার দরবারে বেশী উত্তম ও বেশী সম্মানী।” (তিরমিযী, হাঃ নং – ৩০০৮, ইবনে মাজাহ, হাঃ নং- ৪২৮৮) আয়াতের এ অংশ দ্বারা দু’টি কথা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়ঃ

১. উম্মতে মুহাম্মাদী সর্বোত্তম উম্মত। ২. তাঁদের সর্বোত্তম হওয়ার কারণ হলঃ তাঁরা বিশ্ববাসীর কল্যাণের নিমিত্তে প্রেরিত হয়েছে । (যেরূপ দায়িত্ব নিয়ে আম্বিয়া আ. প্রেরিত হয়েছিলেন) খাতামুন নাবিয়্যীন (শেষ নবী) হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উম্মত সেই দায়িত্বের বদৌলতে ‘খাইরুল উমাম’ বা সর্বোত্তম উম্মত হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছেন । নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত এ নেক কাজগুলো পূর্বের উম্মতগণ করেছেন, উম্মতে মুহাম্মাদীও করছেন । কিন্তু এগুলো তাঁদের খাইরুল উমাম হওয়ার কারণ নয়, এমনকি নেক কাজের আদেশ এবং বদ কাজের নিষেধের দায়িত্বও পূর্বের উম্মতগণ পালন করেছেন। কিন্তু এই দায়িত্ব উম্মতে মুহাম্মাদীর উপর যত গুরুত্ব সহকারে অর্পিত হয়েছে, ততটা গুরুত্ব সহকারে অন্য কোন উম্মতের উপর অর্পিত হয়নি।
(মা’রিফুল কুরআন, ২:১৫০)

এ কারণেই উম্মতে মুহাম্মাদীর প্রত্যেক নর-নারীর উপর তার অধীনস্থ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করা ওয়াজিব। আর এ গুরু দায়িত্বই উম্মতে মুহাম্মাদীকে “সর্বোত্তম উম্মত” হওয়ার মহান ফযীলতের অধিকারী করেছে।
(মা’রিফুল কুরআন, ২:১৩৭)

এ উম্মতের কোন ব্যক্তি যদি এই দায়িত্ব পালনে অনীহা প্রকাশ করে, তবে সে যদিও নামায, রোযা সহ অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগী সঠিকভাবে আদায় করেও, তথাপি সে কখনও খাইরুল উমাম বা সর্বোত্তম উম্মতের সম্মানে ভূষিত হবে না । এ দায়িত্ব পালনে যেমনি ভাবে নিজের অধীনস্থ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কাজ করতে হবে, তেমনিভাবে এ কাজ নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরাও অপরিহার্য । এ প্রসঙ্গে হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহ. বলেন: “তোমাদের বিশ্ববাসীর কল্যাণের নিমিত্তে প্রেরণ করা হয়েছে” আল্লাহ তা‌‘আলার এ কথার দ্বারা এদিকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এক স্থানে বসে তোমাদের এ দায়িত্ব পূর্ণভাবে আঞ্জাম দেয়া সম্ভব হবে না । মানুষের কল্যাণের জন্য দুয়ারে দুয়ারে ফিরতে হবে । আর তখনই তোমরা খাইরুল উমাম বা সর্বোত্তম উম্মত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে ।”
(মালফূযাত, ৫২)

Related Post

Spread the love
  • 1.3K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.3K
    Shares