বাবার বাড়ির ইফতার- বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো ইফতারি নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে গালমন্দ করায় সিলেটের জৈন্তাপুরে হেলেনা বেগম (২০) নামে এক নববধূ আত্মহত্যা করেছেন। গত শনিবার (১১ মে) বিকেলে উপজেলার ঘিলাতৈল গ্রামে ওই নববধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত হেলেনা বেগম ওই গ্রামের শামীম আহমদের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, চার মাস আগে শামীম আহমদের সঙ্গে হেলেনা বেগমের বিয়ে হয়। শুক্রবার হেলেনার বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়িতে ইফতারি পাঠানো হয়।

সেই ইফতারি নিয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের গালমন্দ শুনতে হয় তাকে। এরই জের ধরে শনিবার বিকেলে নিজ ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন হেলেনা। বাড়ির লোকজন ঘটনাটি দেখতে পেয়ে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে মরদেহ নামিয়ে থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহতের স্বামী শামীম আহমদ বলেন, প্রতিদিনের মতো শনিবারও কাজে যাওয়ার সময় স্ত্রীকে হাসিখুশি দেখে যাই। আত্মহত্যার খবর জানতে পেরে কর্মস্থল থেকে ফিরে আসি এবং হেলেনার মরদেহ বারান্দায় রাখা অবস্থায় দেখতে পাই।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির বলেন, মরদেহে আত্মহত্যারই আলামত মিলেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

৩ লাশের পাশে চিরকুট: ‘আমাদের মৃত্যুর জন্য আত্মীয়দের অবহেলা দায়ী’

রাজধানীর উত্তরখানের মৈনারটেক চাপালেরটেক এলাকার একটি বাসার দরজা ভেঙে মা ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেই ঘর থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে।গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

নিহতরা হলেন জাহানারা খাতুন মুক্তা (৪৭), তাঁর ছেলে মুহিব হাসান রশি (২৮) ও শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়ে তাসফিয়া সুলতানা মীম (২০)। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তাদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার জগন্নাথপুরে।

জাহানারা খাতুনের স্বামী ইকবাল হোসেন বছরখানেক আগে মারা গেছেন। উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান, লাশ তিনটির পাশে একটি টেবিলে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে।

সেই চিরকুটে লেখা আছে, ‘আমাদের মৃত্যুর জন্য আমাদের ভাগ্য এবং আমাদের আত্মীয়-স্বজনের অবহেলা দায়ী।’চিরকুটে তাদের সম্পত্তি দান করে দেওয়ার কথাও লেখা আছে বলে জানান ওসি। তিনি আরো জানান, মে মাসের শুরুর দিকে মা তাদের সন্তানদের নিয়ে এই বাসায় উঠেছিলেন। তাদের আত্মীয়দের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছেন, গতকাল রাতে খবর পেয়ে এলাকার একটি ঘরের দরজা ভেঙে ভেতর থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। বাসার ভেতরে খাটের ওপর থেকে মা ও মেয়ের লাশ এবং ছেলের লাশ ফ্লোরে পড়া অবস্থা থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনটি লাশই কিছুটা ফুলে ছিল।

ফুলে যাওয়ার কারণে তাদের শরীরে কোনো আঘাত বা অন্য কিছু বোঝা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলে জানান উত্তরখান থানার ওসি। আর এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে তাদের মৃত্যু দুই-তিনদিন আগে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাসপাতালে রোগীর মাকে কুপ্রস্তাব দিলেন ডাক্তার

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক শিশু রোগীর মাকে (১৯) কুপ্রস্তাব দিয়েছেন ডাক্তার। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওই ডাক্তারকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার বিষয়টি জানাজানি হয়। রোগীর মায়ের সঙ্গে ডাক্তারের এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী ওই নারী (১৯) বলেন, ‘আমার ছয় বছরের শিশু সন্তানকে মঙ্গলবার সকালে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শিশুটি প্রচণ্ড অসুস্থ হওয়ায় এবং ভয় পাওয়ায় হাসপাতালের ওয়ার্ডে তাকে দেখাশোনা করার জন্য আসি আমি।

সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তির সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক ডাক্তার আবদুর রউফের দৃষ্টি পড়ে আমার ওপর। পরে আমার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ডাক্তার আবদুর রউফ।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমার ফোনে একাধিকবার কল দেয় ডাক্তার সে। সেই সঙ্গে আমাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। একপর্যায়ে ফোন করে আমাকে কুপ্রস্তাব দেয় ডা. আবদুর রউফ। এতে রাজি না হলে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে আমার সঙ্গে অশালীন আচরণ করে।’

ভুক্তভোগী ওই নারী আরও বলেন, আমার সঙ্গে অশালীন আচরণের পর ডাক্তারের কক্ষ থেকে আমি বেরিয়ে আসি। পরে বিষয়টি আমার আত্মীয়-স্বজনকে জানাই। এরপর আমার কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন ও হাসপাতালে থাকা রোগীর স্বজনরা বিষয়টি জেনে ডা. আবদুর রউফের কাছে বিষয়টি জানতে চান। কোনো উত্তর দিতে না পারায় ডা. আবদুর রউফকে অপমানজনক কথাবার্তা বলেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আবদুর রউফের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দেয়া হয়। বিষয়টি জানতে চেয়ে ডা. আবদুর রউফকে এসএমএস দেয়া হয়। পরে ফোন রিসিভ না করে বন্ধ করে দেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাউফল থানা পুলিশের ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এরকম কোনো ঘটনার বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগে পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Post

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *