নিজের ক্রিকেট সরঞ্জাম রাখার ব্যাগে একটি শ্যাম্পেনের বোতল নিয়ে ১৯৮৩ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে লর্ডসে গিয়েছিলেন কপিল দেব। ভারত বিশ্বকাপ জেতার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্রেসিং রুম থেকেও কয়েকটি পানীয়ের বোতল নিয়ে এসেছিলেন তিনি। লর্ডসের বারান্দায় শিরোপা উঁচিয়ে ধরছেন কপিল দেব। ১৯৮৩ বিশ্বকাপের ছবি। ক্রিকেটের বহু ব্যবহৃত এক ছবি। সেই দিনটিই বদলে দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেটকে। বিশ্ব ক্রিকেটকেও হয়তো! ১৯৮৩ বিশ্বকাপ জেতার পর থেকেই ক্রিকেট ব্যাপক জনপ্রিয় ভারতে। এবার সেই ইংল্যান্ডেই আরও একটি বিশ্বকাপ। এবার আর তিরাশির মতো আন্ডারডগ হিসেবে নয়, একেবারে ফেবারিট হিসেবেই বিশ্বকাপে এসেছে কপিলের উত্তরসূরিরা। অথচ, ৩৬ বছর আগে ফাইনালে ওঠাটাই ছিল বিরাট ঘটনা। কেউ ভাবেনি ফাইনালে ক্লাইভ লয়েডের প্রবল প্রতাপশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হবে ভারত। কথাটা পুরোপুরি ঠিক নয়। অন্তত একজন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশা নিয়েই সেদিন লর্ডসে পা রেখেছিলেন। ভারতের অধিনায়ক কপিল দেব। আর চ্যাম্পিয়ন হলে সতীর্থদের নিয়ে খানিকটা উৎসব তো করতে হবে! কপিল তাই নিজের ক্রিকেটের সরঞ্জাম রাখার ব্যাগে তোয়ালে দিয়ে একটি শ্যাম্পেনের বোতল মুড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। এত দিন পর সে কথা স্বীকার করলেন ভারতের সাবেক এ অধিনায়ক।

‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কপিল বলেছেন এক ধরনের আত্মবিশ্বাস তাঁর মধ্যে কাজ করছিল বলেই তিনি শ্যাম্পেনের সেই বোতলটি নিয়ে গিয়েছিলেন, ‘হ্যাঁ, ফাইনাল খেলতে মাঠে যাওয়ার সময় ব্যাগে শ্যাম্পেনের একটি বোতল ছিল’-সাক্ষাৎকারে বলেন কপিল। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, তখনকার সেরা দল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ফাইনালে হারাতে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন কপিল-নইলে শ্যাম্পেনের বোতল নিয়ে মাঠে যাওয়া কেন? কিংবদন্তি অলরাউন্ডারের জবাব, ‘সেভাবে ভাবিনি আসলে। বিশ্বাস ছিল আমরা শিরোপা জিততে পারি। আমি অধিনায়ক আর অধিনায়কের নিজেরই যদি আত্মবিশ্বাস না থাকে তাহলে সতীর্থদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে কীভাবে? এমনকি এটাও ভেবেছিলাম, হারলেও সমস্যা নেই, ফাইনালে ওঠার জন্যই আমরা উৎসব করব।’

ফাইনালে আগে ৬০ ওভারের ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১৮৩ রান তুলেছিল ভারত। তাড়া করতে নেমে ৪৩ রানে হারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতীয় বোলাররা সেদিন দুর্দান্ত করেছিলেন। কপিল মাত্র ১ উইকেট পেলেও ১১ ওভারে দিয়েছিলেন মাত্র ২১ রান। ভারত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর শ্যাম্পেন নিয়ে আরও একটি ঘটনা নাকি আছে। ফাইনালের ঠিক পরপরই কপিল নাকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্রেসিং রুম গিয়ে রেফ্রিজারেটর খুলে কয়েকটি শ্যাম্পেনের বোতল নিয়ে এসেছিলেন।

সাক্ষাৎকারে এ সম্পর্কেও জানিয়েছেন কপিল, ‘হ্যাঁ, কথাটা সত্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ফাইনালে হারানো ছিল আসলেই উৎসব করার মতো মুহূর্ত। যদিও আয়োজক কর্তৃপক্ষ ভেবেছিল অন্য কিছু। ভারত যে ফাইনালে জিততে পারে সেটি তারা ভাবেনি। এ কারণে শ্যাম্পেনের বোতলগুলো রাখা হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্রেসিংরুমে, এই আশায় যে ওরা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতবে।’

হারের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এমনিতেই বিমর্ষ থাকার কথা। এর মধ্যে সেখানে গিয়ে কপিল ঠিক কি বলে শ্যাম্পেনের বোতলগুলো নিয়ে এসেছিলেন? তাঁর জবাব, ‘আমি সরাসরি ক্লাইভ লয়েডকে বলেছিলাম, শ্যাম্পেনের বোতলগুলো নিয়ে যাচ্ছি যেহেতু ওগুলো তোমাদের আর দরকার নেই। ক্লাইভ মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলে আমি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্রেসিংরুম থেকে বোতলগুলো নিয়ে আসি।’

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *