“সালাত” আরবী শব্দ। যার আভিধানিক অর্থ হলো- কারো দিকে মুখ করা, অগ্রসর হওয়া, দো’য়া করা, নিকটবর্তি হওয়া, পবিত্রতা বর্ণনা করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা। তবে সালাত নামায হিসেবেই আমাদের কাছে বেশী পরিচিত।নামায ফারসী শব্দ। কোরআনের পরিভাষায় নামাযের অর্থ হলো আল্লাহর দিকে মনোযোগ দেওয়া, তাঁর দিকে অগ্রসর হওয়া, তাঁর কাছে যাওয়া, তাঁর একেবারে নিকটবর্তি হওয়া। এই সালাতের হুকুম দেয়া হয়েছে ইকামত শব্দের মাধ্যমে। ইসলামের ৫টি রুকনের মধ্যে সালাত দ্বিতীয়।
নামাজ বা সালাহ, যাই বলি, আমরা তা পড়ি এক আল্লাহ্ কে খুশি করার জন্য । আর তা যতটুকু মনোযোগ দিয়ে সুন্দর করে পড়া যাবে, তা ততই গ্রহণ যোগ্য হবে, আমরা রাসূলের সাহাবাদের একান্ত মনোযোগের সাথে নামাজ পড়ার কাহিনী শুনি জানি, তারা নামাজ পড়ে যেন নতুন প্রান শক্তি ফিরে পেত। তাঁরা প্রচণ্ড মজা পেত নামাজ পড়তে।কেননা তাঁদের নামাজ ছিল একমাত্র আল্লাহর জন্য। কিন্তু বর্তমানে আমরা যে নামাজ পড়ি তা আদৌ সঠিক হয় কিনা জানিনা। আমরা অনেকেই আছি যারা নামাযের সঠিক নিয়ম জানিনা। নামাজ নিয়ে পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন জায়গায় বলা হয়েছে :

☆সূরা বাকারার ৪৩ ও ৪৫নং আয়াতে আল্লাহ বলেন-” নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান করএবং যারা আমার সামনে অবনত হচ্ছে তাদের সাথে তোমরাও অবনত হও। সবর ও নামায সহকারে সাহায্য চাও। নিঃসন্দেহে নামায বড়ই কঠিন কাজ, কিন্তু সেসব অনুগত বান্দাদের জন্য নয় যারা মনে করে, সবশেষে মিলতে হবে তাদের রবের সাথে এবং তারই দিকে ফিরে যেতে হবে।”
☆”অবশ্যই সালাত বিরত রাখে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে । ’ ( সূরা ২৯ আনকাবূত : আয়াত – ৪৫)”
☆”যে কিতাব তোমার প্রতি অহী করা হয়েছে , তা থেকে তিলাওয়াত করো এবং সালাত কায়েম করো।’(সূরা ২৯ আনকাবূত : আয়াত-৪৫)”
☆”আর সালাত কায়েম করো আমাকে স্মরণ করার জন্য। ’ (সূরা ২০ তোয়াহা : আয়াত -১৪)”

নামায ফরয হওয়ার আদেশ মহান আল্লাহ তার প্রিয় নবীকে আরশে আযীমে ডেকে নিয়ে সরাসরি দিয়েছিলেন কিন্তু অন্য সকল কাজের আদেশ জীব্রাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন। পবিত্র কুরআন মাজিদে ৮২ বার নামাযের কথা বলা হয়েছে। সন্তানদের বয়স যখন সাত বছর হয় তখন নামায শিক্ষা দেয়া এবং দশ বছর বয়সে নামায পড়তে বাধ্য করার জন্য পিতা- মাতার প্রতি নির্দেশ রয়েছে।
নামাজের হাজারো উপকারিতা আছে যা বলে শেষ করা যাবে না। কিন্তু আমরা মুসলিমরা সালাত আদায় করি শুধুমাত্র আল্লাহকে ধন্যবাদ জানানোর জন্য আর তার প্রশংসা করবার জন্য।
নামাজের উপকারিতাসমূহ
১. নামাজ মানুষের রুটি-রুজিতে বরকত দান করে
২. নামাজ মানুষের স্বাস্থ্যের হিফাজত করে
৩. নামাজ মানুষের রোগব্যাধি দূর করে
৪. নামাজ অন্তরকে করে শীতল ও শক্তিশালী
৫. নামাজ চেহারার উজ্জলতা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে
৬. নামাজ মু`মিনের আনন্দের খোরাক
৭. নামাজ মানুষের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সজীবতা দান করে
৮. নামাজে অলসতা দূর হয়
৯. নামাজ মানুষের অন্তরের বন্ধ দরজাগুলো খুলে দেয়
১০. নামাজ আত্মার খোরাক
১১. নামাজে দিল বা ক্বলবের মরিচীকা দূর করে আত্মাকে আলোকিত করে
১২. নামাজ আল্লাহর দেয়া নেয়ামতের রক্ষাকারী
১৩. নামাজ আল্লাহর ভয়াবহ আজাব থেকে হিফাজত করে
১৪. নামাজ শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয়দান করে
১৫. নামাজ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। সুতরাং যে ব্যক্তি যথাযথ নিয়মে নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া এবং আখিরাতে তার জন্য রেখেছেন অসংখ্য নিয়ামত এবং অসংখ্য পুরস্কার। যার কিছুমাত্র ধারণার জন্য পেশ করা হলো।

আমরা সবাই জানি নামাজে দণ্ডায়মান হওয়া মানে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো।কিন্তু আফসোস আমরা তা কখনই ভাবিনা।যদি তাই ভাবতাম তাহলে অবশ্যই আমরা মনোযোগ সহকারে নামাজ পড়তাম।
“হযরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিমকে (স.) জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন- তুমি এভাবে নামায আদায় করবে যেন তুমি স্বয়ং আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছ, আর যদি তোমার পক্ষে তা সম্ভব না হয়, তবে তুমি অবশ্যই মনে করে নিবে যে, আল্লাহ তোমাকে সর্বক্ষণ দেখছেন (মুসলিম শরীফ)”।

খুব অবাক লাগে যারা সপ্তাহে একদিন হাজিরা দিতে মসজিদে আসে,অথচ রং বেরঙ্গের জামা পরে।আমার মনে হয় এমন কোন মুসলমান নেই যার ঘরে একটা পাঞ্জাবি নেই।পাঞ্জাবি নাহয় বাদই দিলাম কেউ কেউ তো ছেড়া জামা কাপড় পরে আসে।তারা ভুলে যাই যে তারা কার সামনে দাড়ানোর জন্য এসেছে।যিনি সারা বিশ্বের মালিক ,আমাদের সৃষ্টিকর্তা ,যার দয়াই আমরা বেচে আছি।তাঁর সামনে আমরা কি সুন্নাতি পোশাক পরে আসতে পারিনা ???????????? . .
আল্লাহ আমাদের সবাইকে নামাজের গুরুত্ব বোঝার এবং নামাজ পড়ার তৌফিক দান করুন।
আমিন।

Related Post

Spread the love
  • 346
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    346
    Shares