আমেরিকার একটি স্কুলে,ছোট্ট বাচ্চাদের ক্লাস নিচ্ছেন এক খৃস্টান ম্যাডাম । ক্লাসের এক ফাঁকে ম্যাডাম বাচ্চাদের জিজ্ঞাসা করলেন-তোমরা বড় হয়ে কে কি হতে চাও? সবাই এক এক করে বলতে লাগলো- আমরা পাইলট হবো,চাঁদের দেশে যাব। কেউ কেউ বললো-ডাক্তার,বি জ্ঞানি,ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। অতঃপর ম্যাডাম লক্ষ্য করলেন- ছোট্ট একটি মেয়ে সে কিছুই বলছে না। মেয়েটিকে প্রশ্ন করলেন-তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও? মেয়েটি বলল-আমি বড় হয়ে ‘সাহাবী’ হতে চাই। ম্যাডাম থমকে গেলেন! মনে মনে ভাবলেন ‘সাহাবী’আবার কি? ম্যাডাম ক্লাস শেষ করেই-সেই মেয়েটির মায়ের কাছে ফোন দিলেন। মেয়েটির মাকে বললেন- আপনার মেয়ে বড় হয়ে ‘সাহাবী’ হতে চায়, এখন আমি জানতে চাই ‘সাহাবী’ মানে কি? মেয়েটির মা বলল-ফোনে ‘সাহাবী’ চিনানো যাবে না । আপনি যদি বাসায় আসেন,আমি বুঝিয়ে দিব। অমূল্য হেদায়াত যেন সেই খৃস্টান ম্যাডামকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে… পরদিন ম্যাডাম সেই মেয়েটির বাসায় গেলেন। মেয়েটির মা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)এর আগমনের পূর্বে অন্ধকার যুগের চিত্র তুলে ধরলেন। নারীদের অবমাননা,দূর্বলদের প্রতি সবলদের অত্যাচার,মারামারি ঝগড়া-বিবাদ ইত্যাদির কথা বললেন । অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা:) এর ছোঁয়ায় পৃথিবী আলোকিত হল,নারীরা সম্মান পেল,ধনী গরীব সমান হলো ইত্যাদি স্বর্ণালি যুগের কথা বললেন । তুলে ধরলেন সাহাবীদের জীবনচলার পাথেয়। বিশিষ্ট চার সাহাবীর জীবন কাহিনী বললেন । ইসলামের মাহাত্ম্য তুলে ধরলেন,আল- কুরআনের বাণী বললেন । ম্যাডাম সাহাবীর পরিচয় জানতে এসে, সত্য ধর্ম ইসলামের পরিচয় জানলেন । মেয়েটির মাকে বললেন- ইসলামি কিছু বই দেওয়ার জন্য । মেয়েটির মা ইংরেজি অনুবাদের একটি আল-কুরআন আর কিছু ইসলামি বই দিল। বই গুলো পড়ে সেই ম্যাডাম কিছু দিন পর ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিলেন । সুবহানাল্লাহ! একজন মুসলিম ‘মা’তো এমনি হওয়া চাই। নিজ সন্তানকে রুপকথার রাজ্যের,পরীদের, কাল্পনিক কাহিনী না বলে ইসলামের কথা বললেন । যার ফলে এই ছোট্ট শিশুটির মাধ্যমে একজন খৃস্টান ম্যাডাম ইসলাম গ্রহণ করলেন ।
– সত্য কাহিনী অবলম্বনে

Related Post

Spread the love
  • 1.2K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.2K
    Shares