আপনাদের কোরআনের অসংখ্য জায়গায় বলা হয়েছে “হত্যা কর, হত্যা কর।” এ কোথার বিরুদ্ধে ডাঃ জাকির নায়ক যে উত্তর দিলেন।

মিস্টার নায়েক, আপনার ধর্ম তো স্পষ্টতই সন্ত্রাসের ধর্ম। আপনাদের কোরআনের অসংখ্য জায়গায় বলা হয়েছে “হত্যা কর, হত্যা কর।” এই নির্দেশ মান্য করে এখন সারা বিশ্বে জিহাদের নামে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। আপনি কি এসব হত্যার দায় থেকে আপনার ধর্মকে রক্ষা করতে পারবেন?

জাকির নায়েক নামক ইন্দোনেশীয় জাতিগত ভারতীয় ডাক্তার হাসি মুখে উঠে দাঁড়ালেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ানদের চোয়াল চাপা হয়। তাদের কারো হাসিই টম ক্রুজের মতো আকর্ষণীয় হয় না, এটা সত্য। তারপরও তাঁর হাসিটাকে প্রথম দর্শনেই বিবেকসম্পন্ন তাঁর কোন শত্রুও আকর্ষণীয় এবং আন্তরিক বলতে বাধ্য। তিনি মাইক্রোফোনের সামনে গিয়ে নরম গলায় বললেন, “ভাই” আপনি অত্যন্ত সুন্দর একটি প্রশ্ন করেছেন…
ইসলামে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে “যে একজন মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করল সে যেন পুরো মানব জাতিকেই হত্যা করল।”
পুরো মানব জাতির মধ্যে আছে সে নিজে, তার মা, তার স্ত্রী-ভাই-সন্তান।.. (সাড়ে আট মিনিট বক্তব্য শেষে) আশা করি আপনি বুঝতে পেরেছেন।।

প্রশ্নকর্তা মুখ কালো কিন্তু চেহারা নরম করে বসে পড়ল। তার মুখে কোন রা নেই। কোন পাল্টা অভিযোগ নেই। এমন উদাহরণ একটা না, কয়েকশ বা কয়েক হাজার। নিজের উপর বা নিজের ধর্মের উপর এতবড় অপবাদ সত্ত্বেও যে লোকটা হাসিমুখে উঠে দাঁড়ায়, যে লোকটা হিন্দু-মুসলিম সবাইকেই “ভাই” বলে সম্বোধন করে সেই লোকটাকে জঙ্গীর মদতদাতা বলার আগে ভাবা উচিত ছিল। কোন গোঁড়ামী নয়, কোন গলার জোর নয়, কোন অস্ত্রের জোর নয়…কেবল যুক্তি এবং প্রমাণ দেখিয়ে যে মানুষ প্রকাশ্যে এবং রাষ্ট্রের আইন মেনেই শত শত মানুষকে তাদের স্বইচ্ছায় তাদেরকে বারবার নিশ্চিত করিয়ে যে তারা কারো বল প্রয়োগ বা ইচ্ছা প্রয়োগে নয়..বুঝে শুনেই ইসলামে আসছে এটা নিশ্চিত করে মুসলিম করছে তাকে থামিয়ে দিয়ে খুব বেশি লাভ হবে বলে মনে হয় না। ভারত বা ভারতীয় উপমহাদেশের মতো দাঙ্গা হাঙ্গামার স্থানে এই লোকটা উগ্রবাদী হিন্দু-উগ্রবাদী বা বিপথগামী মুসলিমদের মাঝখানে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দুই পাশের উগ্রবাদীয় আঘাতের বিপরীতে এন্টি মিসাইল হিসেবে কাজ করেছিল। এই দেয়াল তুলে নেয়ার দায় এবং দুর্দশা ভারতকেই নিতে হবে।

এখন দুই পাশের পারস্পারিক আঘাত আসবে বিনা বাধায়। সেই আগের মতোই কোন যুক্তি বা চিন্তায় না গিয়ে। একজন জাকির নায়েককে থামিয়ে বড়জোড় কয়েকজন হিন্দুকে মুসলিম হওয়া থেকে বিরত করা যাবে। কিন্তু জঙ্গীবাদ মোটেই কমবে না। বরং আমার ধারণা বাড়বে।
আপনি জাকির নায়েককে সমর্থন নাই করতে পারেন, জাকির নায়েকের আকিদা নিয়ে প্রশ্নও তুলতে পারেন। কিন্তু জাকির নায়েককে নিয়ে মিথ্যাচার বা তাঁকে অপবাদ দিতে পারেন না। জাকির নায়েককে কতটা অপবাদ আর তাঁর বক্তব্যের কতটা অর্ধ লাইন বা বিকৃত রূপ আমাদের বড় বড় ইসলামিস্টরাও(!) প্রচার করতে পারেন সেটার প্রমাণ কারো প্ররোচনায় নয়, একদম নিজের তাগিদে নিজের হাতে বের করে রীতিমতো শিউরে উঠেছি। এবং আমরা সেই অবুঝ থেকে কাদের কথাকে চিরন্তন সত্য বলে বিশ্বাস করে আসছি সেটা ভেবেও আতংকিত হয়েছি।
অপবাদ দিয়ে আর যাই হোক, ইসলাম প্রচার হয় না।

কাউকে বিনা প্রমাণে ইহুদি নাসারা বলা চরমতম জুলুম। আলোচনার দরজা খোলা থাকার পরও সেখানে না গিয়ে আড়াল থেকে গীবত করা ইসলামের শিক্ষা না, এটা গুপ্তহত্যাকারীদের শিক্ষা। বিস্তারিত বলে ঝামেলা বাড়াতে চাই না। কেবল বলব, ইসলামের জন্য এমনকি বিশ্ব শান্তির জন্য জাকির নায়েককে দরকার। কতটা দরকার সেটা তাঁকে থামিয়ে দিলে আরো বেশি বোঝা যাবে। শান্তিতে থাকুক সব মুসলিম, সব মানুষ, সব প্রাণী…

(Visited 606 times, 1 visits today)

Related Post

You may also like...